কানাডার সংবাদ

ক্যানাডার প্রধানমন্ত্রী বলে কথা!

ক্যানাডার প্রধানমন্ত্রী বলে কথা!

 

ক্যানাডার প্রধানমন্ত্রী বলে কথা! এমন প্রধানমন্ত্রী যে দেশে থাকে সেদেশের নাগরিক যতই সংকটময় সময় আসুক না কেন মোকাবেলা করার সাহস পায়। যে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ফাস্ট লেডি চিকিৎসাধীন, তিনি নিজেও হোম কোয়ারাইন্টানে আছেন, সন্তানরা পিতা-মাতাহীন জীবন যাপন কাটাচ্ছে তারপরেও দেশের অভিভাবক হিসেবে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত দেশে বসবাসরত নাগরিকের জন্য সব উৎসর্গ করে দিচ্ছেন।

ক্যানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো কানাডায় বৈশ্বিক মহামারী কোভিড -১৯-এর বিস্তার ও প্রভাব মোকাবিলার জন্য পরবর্তী জরুরী পদক্ষেপগুলি নিয়ে আজ রোববার  ২২ মার্চ আবারও কথা বলেছেন। গত ১৩ মার্চ থেকে নিজের প্রিয়তমা স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরে নিজে Self-isolationএ থাকা সত্বেও প্রতিদিনই সকালে নিয়ম করে দেশবাসীর মুখোমুখি হয়ে জাতিকে আস্বস্ত করছেন ও এহেন পরিস্থিতিতে ক্যানাডার  জনগণকে আশার কথা শোনাচ্ছেন। আজ এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো পরপর ৭ দিন জাতিকে হতাশামুক্ত করে জনগনকে মানসিক স্বস্তি দেবার জন্য জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য রেখেছেন, ভাষণের পর হাসিমুখে সংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উওর দিচ্ছেন এবং দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বৈশ্বিক মহামারী কোভিড -১৯-এর বিস্তার ও প্রভাব মোকাবিলার ঝুকি নিয়ে যে সকল ডাক্তার,নার্স ও Health Care Workers ও Emergency other service এ কাজ করে যাচ্ছেন, ক্যানাডার প্রধানমন্ত্রী তাদের কাজের আবারও মূল্যায়ন ও প্রশংসা করেছেন । প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো আজ বিরোধী দলের কাজেরও প্রশংসা করেন । ক্যানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো  আরও জানান, কোভিড -১৯-এর বিস্তার ও প্রভাব মোকাবিলার জন্য জনগনের বৃহওর সার্থে পরবর্তী জরুরী অর্থনেতিক পদক্ষেপগুলি বাস্তবায়নের জন্য আগামী মঙ্গলবার পার্লামেন্টের জরুরী  অধিবেশন আহবান করছেন । $৮২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াও প্রয়োজনে  Long term Social distance কার্যকরী করতে আরও বেশী অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস দেন । তিনি বলেছেন, আগামী দিনে আটকেপড়া কানাডিয়ানদের দেশে ফিরিয়ে আনতে আরও বেশি ফ্লাইটের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রধান মন্ত্রী প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন করে আপডেট দিচ্ছেন। এক কথায় সরকারের পক্ষে যা কিছু করা সম্ভব তার সরকার সবকিছু করবে বলে জনগনকে আশ্বাস দিচ্ছেন সরকার ।  জাস্টিন ট্রুডো আরও বলেন, আমরা একএিত থাকলে আমরা নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম হবো এবং বর্তমান দূর্যোগ পেরিয়ে অর্থনীতির গতি সঞ্চালনের মধ্য দিয়ে নিজেদের চাকুরী ফিরে পেতে সম্ভবপর হবে বলে তিনি মনে করেন ।

তিনি বলেন এই সপ্তাহে যেসব পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করা হবে।  চাইল্ড বেনিফিট, ঘরে থাকা চাকুরীজীবি এবং ব্যবসায়িদের সহযোগিতার জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এটি কেবলমাত্র একটি প্রথম পদক্ষেপ। আমরা আমাদের জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় আরও সব ধরনের আর্থিক সহযোগিতা করতে সক্ষম হবো যা  নিশ্চিত করতে পরবর্তী পদক্ষেপগুলি কী তা আমরা এখন পর্যবেক্ষণ করছি।”

মঙ্গলবার অটোয়ায় হাউস অফ কমন্সে ৩২ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকবেন। সরকার ও বিরোধিদলের সমন্বয়ে  প্রতিটি দলের আনুপাতিকভাবে প্রতিনিধিত্ব করবেন। সেখানে ১৪ লিবারেল, ১১ টি কনজারভেটিভ, ব্লক কুইবেকোয়াস এবং এনডিপির তিন সদস্য এবং একজন গ্রীন এমপি থাকবেন।  করোনা ভাইরাসের কারণে বিশেষ স্বাস্থ্য নিরাপত্তাজনীত কারণে সবাই নিজ নিজ গাড়ী এবং সংসদ হলে দুরত্ব বজায় রেখেই বসবেন । উপস্থিত সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন এই সংকটময় সময়ে।  বিরোধী দলের উদ্দেশে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন  ‘আমি জানি যে আমরা একত্রে থাকলে কানাডিয়ানদের সুরক্ষা দিতে পারবো, সবার চাকরি বাঁচাতে পারবো এবং এই সঙ্কটের পরেও আমাদের অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের  ভিত্তি তৈরি করতে পারবো,” ।

প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন কানাডা এমন পর্যায়ে এখনো নেই যে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের  জন্য কেন্দ্রীয় সরকার থেকে সারা দেশের  লোকদের ঘরে থাকতে বাধ্য করার জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে, তবে দেশের  যেকোন পরবর্তী অবস্থায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া মঙ্গলবার সংসদেও এ নিয়ে আলোচনা চলবে  । ট্রুডো বলেছেন যে প্রদেশ এবং স্থানীয় সরকারগুলি জনগণের চলাচলকে সীমাবদ্ধ করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণে অব্যাহত রেখেছে এবং ফেডারেল সরকার পদক্ষেপ নেওয়া একটি সর্বশেষ অবলম্বন।

বেশ কয়েকটি প্রদেশ এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। নোভাস্কসিয়া রবিবার ঘোষণা করেছে যে সোমবার সকাল নাগাদ থেকে  প্রদেশে প্রবেশের সমস্ত বন্দরে স্ক্রিনিং সেন্টার স্থাপন করা হবে। এর একদিন আগে, উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলগুলি অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছে,  এবং প্রিন্সএডওয়ার্ড দ্বীপ ঘোষণা করেছে  যে প্রদেশে যে কেউ প্রবেশ করবে তাকে ১৪ দিনের জন্য স্ব-বিচ্ছিন্ন  থাকতে হবে। সংকট মোকাবেলাকালীন সময়ে কেউ আইন অমান্য করলে প্রতিটি প্রভিন্স নিজস্ব আইন ব্যবহার করতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী মহামারী চলাকালীন সময়ে স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, বিভিন্ন গ্রোসারী ও সুপার স্টোরের কর্মচারী, পাবলিক ট্রান্সপোর্টচালক এবং অন্যান্য সেবাসংস্থায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সাথে মহামারী চলাকালীন চাকরিতে থাকা অপরিহার্য কর্মীদেরকেও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেছেন “জেনে রাখুন  সমস্ত ক্যানাডিয়ানরা আপনাদের পরিষেবার জন্য কৃতজ্ঞ,” ।

উল্লেখ্য, আজ  রবিবার কানাডায় ভাইরাস সংক্রামণে ১৪৭০ জনেরও বেশি নিশ্চিত হওয়া গেছে, যার মধ্যে ২১ জন মারা গেছে।

অপরদিকে ক্যুইবেকের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন  আমাদের জন্য খুব একটা ভালো সংবাদ না ! এতো সতর্কতার পরও ক্যুইবেকে করোনায় আক্রান্ত বেড়ে ১৮১-এ পৌঁছেছে !

ক্যুইবেকের প্রিমিয়ার ফ্রাঙ্কোইস লেগাল্ট বলেছেন, প্রদেশে এখন কোভিড -১৯ এর ১৮১ টি রোগি  নিশ্চিত করেছেন ! গতকাল পর্যন্ত এর সংখ্যা ছিল ১৩৯ জন ! চারটি নতুন মৃত্যুরও ঘোষণা করেছেন যার অর্থ এই প্রদেশে এই পর্যন্ত মোট পাঁচটি মৃত্যুর ঘটেছে !

লেগাল্ট বলেছেন যে চারটি নতুন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সবই বয়স্ক ভবন থেকে।

মুখমন্ত্রী জনগণকে সোশ্যাল ডিসটেন্স ( social distances) মেনে চলতে বলেছেন ! অর্থাৎ একজন থেকে আরেকজন ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে চলার উপদেশ দিয়েছেন ! ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধুয়া এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে বলেছেন ! আগামী ১লা মে পর্যন্ত ক্যুইবেকের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে এবং রেস্ট্ররেন্টগুলোতে শুধু টেকআউট আর ডেলিভারী ব্যবস্থা থাকবে।

 



সংবাদটি শেয়ার করুন
cbna24-7th-anniversary

Leave a Reply

Your email address will not be published.

19 − 16 =