দেশের সংবাদ ফিচার্ড

পেঁয়াজ উৎপাদনে রেকর্ড, তবু কেন আমদানি?

পেঁয়াজ রপ্তানি

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এই মৌসুমে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ পেঁয়াজ ঘরে তুলেছেন কৃষকরা। তবে উৎপাদনের এই সুসময়েও কৃষকরা স্বস্তিতে নেই।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চল ফরিদপুরের সালথাসহ বিভিন্ন এলাকায় উৎপাদন খরচের অর্ধেকেরও কম দামে কৃষকরা পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ক্ষোভ, হতাশা ও অসহায়ত্ব থেকে অনেক কৃষককে খাল, পুকুর বা ডোবার পানিতে পেঁয়াজ ফেলে দিতেও দেখা গেছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। কোথাও কোথাও ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়ও নেমে এসেছে।

অথচ এক মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে তাঁদের খরচ হয়েছে অন্তত এক হাজার ৫০০ টাকা।

তথ্য অনুযায়ী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গত বছর ভারত থেকে এক হাজার ৫০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছিল। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট চার লাখ ৮৩ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়।

কৃষি অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রেকর্ড উৎপাদনের পরও পেঁয়াজ আমদানির পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত সমস্যা দায়ী।

তাঁরা বলছেন, দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের একটি বড় অংশই ‘মুড়িকাটা’ বা আগাম জাতের, যা বেশিদিন টিকিয়ে রাখা যায় না। আর মূল মৌসুমের ‘হালি’ পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য দেশে আধুনিক বা নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার স্টোরেজ অনেক কম। কৃষকরা চিরাচরিত পদ্ধতিতে ঘরের বা বাঁশের মাচায় পেঁয়াজ রাখেন। আর্দ্রতা ও অতিরিক্ত গরমে প্রতিবছর ২৫-৩০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়। ফলে কাগজে-কলমে উদ্বৃত্ত থাকলেও বাস্তবে বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়।
এ ছাড়া অকাল বৃষ্টি, অতি খরা বা সঠিক ওজনের অভাবে বাজারে অনেক সময় কম পেঁয়াজ আসে। এই সুযোগে আড়তদার ও বড় ব্যাপারীদের সিন্ডিকেট কম দামে পেঁয়াজ কিনে মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। তখন দাম সামাল দিতে সরকারকে আমদানির অনুমতি দিতে হয়।

আমদানির চক্র থেকে বের হতে সরকার একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কৃষি গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ‘বারি পেঁয়াজ-৫’সহ উচ্চ ফলনশীল জাতগুলো বর্ষা ও গরমে চাষ উপযোগী। সরকার কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার এবং পলিথিনসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ দিচ্ছে। উত্তরাঞ্চল এবং যশোর-পাবনা অঞ্চলে এই আবাদ প্রতিবছর দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (মনিটরিং) ড. মো. আবু জাফর আল মনসুর বলেন, ‘এবার পেঁয়াজের রেকর্ড ফলন হয়েছে। সরকার যাতে আর কোনো পেঁয়াজ আমদানি না করে সে বিষয়ে আমরা সুপারিশ করেছি। দেশীয় কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় এখন আমদানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।’

পেঁয়াজ সংরক্ষণের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ সম্প্রতি সংসদে জানিয়েছেন, এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে সংরক্ষণের লক্ষ্যে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কর্তৃক বায়ুপ্রবাহ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ পদ্ধতি আধুনিকায়ন ও বিতরণ কার্যক্রম উন্নয়ন শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে পর্যালোচনার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় রয়েছে।

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাসউদুল হক ঝন্টু কালের কণ্ঠকে জানান, পেঁয়াজের ২২টি ফেনোটাইপ নিয়ে গবেষণা চলছে এবং প্রতিবছর উৎপাদন ৭ থেকে ১২ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কামরুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কৃষকরা পেঁয়াজের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, তাঁরা ক্ষতির মুখে আছেন। এ অবস্থায় আমদানির কোনো সুযোগ নেই। আমরা পেঁয়াজ আমদানি শূন্যের কোঠায় নিতে চাইছি।’

সূত্র: কালের কন্ঠ

এফএইচ/বিডি


CBNA24  রকমারি সংবাদের সমাহার দেখতে হলে
আমাদের ফেসবুক পেজে ভিজিট করতে ক্লিক করুন।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করতে পোস্ট করুন।

সংবাদটি শেয়ার করুন