লন্ডনে প্রায় দুই দশক ধরে প্রতিবছর একটি অদ্ভুত আয়োজন হয়ে আসছে। তাতে যাত্রীরা পাতাল রেলে (টিউব) ওঠেন ট্রাউজার ছাড়া, কেবল অন্তর্বাস পরে। এতে পর্যটক ও পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই হতভম্ব হয়ে পড়েন। কারণ, যুবক, যুবতীদের শরীর দেখানো এ পোশাক সবাই মেনে নিতে পারেন না। কিন্তু এখন এই আয়োজনটি বন্ধ করার দাবি জোরালো হচ্ছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, ‘নো ট্রাউজার্স টিউব রাইড’ যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য অপ্রয়োজনীয় মানসিক আঘাত বা ট্রমা তৈরি করছে। সোমবার বিকেলে এ বছরের আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হওয়া এই ইভেন্টটির শুরু ২০০২ সালে নিউইয়র্কে ‘নো প্যান্টস সাবওয়ে রাইড’ দিয়ে। লন্ডনে এটি চালু হয় ২০০৯ সালে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল।
গ্ল্যামার ম্যাগাজিনের লেখক এমা ক্লার্ক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই আয়োজনকে ‘একান্তই মজা’ হিসেবে উড়িয়ে দেয়া হলেও, তার জন্য এটি ছিল চরমভাবে ট্রিগারিং। তিনি জানান, কোভিড মহামারির সময় ডিস্ট্রিক্ট লাইনে ভ্রমণের সময় একজন ব্যক্তি তার সামনে যৌন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় এবং অশালীন আচরণ করে। তা ছিল তার জীবনের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। ক্লার্ক ওই ব্যক্তির ছবি তুলে ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (টিএফএল) ও বৃটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ (বিটিপি)কে বিষয়টি জানান। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।
গ্ল্যামারে লেখা এক প্রবন্ধে তিনি বলেন, যখন নারীদের জন্য আলাদা টিউব কোচের দাবি উঠছে, আর বৃটেনে নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার ভয়াবহ পরিসংখ্যান আমাদের সামনে, তখন এই তথাকথিত ‘মজার’ পোশাক বর্জনের ঐতিহ্য শুধু পুরোনোই নয়, এটি চরমভাবে সংবেদনহীন এবং নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে। তিনি আরও লিখেছেন, হ্যাঁ, এ ইভেন্টে নারী-পুরুষ দু’পক্ষই অংশ নেয়। আর ২০০৯ সালে যখন এর সূচনা হয়েছিল, তখন হয়তো এটিকে নতুনত্ব হিসেবে দেখা হয়েছিল কিন্তু যখন আমরা নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষার লড়াই করছি, তখন ‘নো ট্রাউজার্স ডে’ সম্ভাব্য শিকারিদের জন্য আরেকটি অজুহাত তৈরি করে এবং আমাদের আরও ঝুঁকির মুখে ফেলে। আমার কাছে এর কোনো জায়গা আমাদের শহরের সংস্কৃতিতে নেই, এটি অতীতেই থেকে যাওয়া উচিত।
ক্লার্ক বৃটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের গত মাসে প্রকাশিত তথ্যও উল্লেখ করেন। সেখানে দেখা যায়, ২০২৪/২৫ সালে টিউব নেটওয়ার্কে ৫৯৫টি যৌন অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। যা ২০১৯/২০ সালের পর সর্বোচ্চ। ওই বছর এই সংখ্যা ছিল ৭৭৬। স্বতন্ত্র কলামিস্ট রায়ান কুগান দুই বছর আগে লিখেছিলেন, এই আয়োজন একটি সাধারণ যাতায়াতকে উদ্বেগে ভরা অভিজ্ঞতায় পরিণত করে। টিউব প্রায়ই গাদাগাদি করে ভরা থাকে। ফলে ট্রাউজারবিহীন অচেনা কারও সঙ্গে অনিচ্ছাকৃত শারীরিক সংস্পর্শের সম্ভাবনা হঠাৎ করেই অনেক বেড়ে যায়। তিনি আরও লিখেছেন, আগের বছরের ছবিগুলো দেখলে দেখা যায়, মানুষ সিটে বসে চোখ এড়াতে মরিয়া চেষ্টা করছে। কারণ তাদের চোখের সমান উচ্চতায় টাইট অন্তর্বাস। নারীরাও অংশ নেন। কিন্তু অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই পুরুষ। যা নারীদের জন্য বড় সমস্যা, বিশেষ করে যখন তারা বাজারে যাওয়ার পথে আর্ধনগ্ন একদল মানুষের মুখোমুখি হন।
রেডিটে দেয়া একটি পোস্ট নিয়েও ব্যাপক আলোচনা চলছে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘নো ট্রাউজার্স টিউব রাইড’ লজ্জাজনক হাস্যকর ব্যাপার। এটা পুরোপুরি ২০১৪ সালের গোঁফ আর বেকন-ধাঁচের ইন্টারনেট রসিকতার গন্ধ ছড়ায়। সেই যুগের জোর করে চাপানো ‘কিউট’ হাস্যরস- যেখানে আজব পোশাক পরা আর আজগুবি কাজ করাকে ব্যক্তিত্ব মনে করা হতো। কেউই জনসমক্ষে তোমার পুরোনো অন্তর্বাস দেখতে চায় না।
সূত্র: মানবজমিন
এফএইচ/বিডি
CBNA24 রকমারি সংবাদের সমাহার দেখতে হলে
আমাদের ফেসবুক পেজে ভিজিট করতে ক্লিক করুন।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করতে পোস্ট করুন।



