বেহালার সুরে নিমগ্ন এক সন্ধ্যা
বিশিষ্ট বেহালাশিল্পী শ্রী সমীর চন্দ কটনকে মন্ট্রিয়লে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা জানানো হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় নগরীর কোট ডে নেইজের একটি হলে স্থানীয় সংষ্কৃতিমনা লোকজন এই সম্মাননা প্রদান করেন।
তখন মন্ট্রিয়লের আকাশজুড়ে বৃষ্টি আর কালো মেঘের আধিপত্য ছিল। বিকেল থেকে বাতাস আর সারা শহর কালো করে আসা বৃষ্টির বিরূপ আবহাওয়া। এসব বাঁধা ডিঙিয়েও প্রচুর মানুষ আসেন সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত ব্যক্তির একক বেহালা বাদনের মুগ্ধতাতো ছিলই, ছিল তাঁর স্ত্রী, মেয়ে, নাতিদের পরিবেশনাও। স্ত্রী সবিতা চন্দ, আর মেয়ে জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী অনুজা চন্দ গান করেন। মেয়ের দিকের নাতি অভ্র ও আর্য আবৃত্তি করে সবিতা চন্দের লেখা কবিতা।
সংবর্ধনা, নৃত্য-গান ও একক পরিবেশনা এই তিনটি পর্বে সাজানো হয় অনুষ্ঠান।
প্রথম পর্বে শ্রী সমীর চন্দ কটনকে উত্তরীয় পরান অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা মন্ট্রিয়লের প্রবীণ সংষ্কৃতিসেবী লুৎফুর রহমান। ক্রেস্ট, মানপত্র, শিল্পীর ছবি-ফ্রেম প্রদান করেন যথাক্রমে বিশিষ্ট সামাজিক-সাংষ্কৃতিক সংগঠক জিয়াউল হক জিয়া, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক শামীমুল হাসান, বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পী তপন চৌধুরী ও বিশিষ্ট সংগঠক, সংষ্কৃতিসেবী এজাজ আক্তার তৌফিক।
এছাড়া মঞ্চে প্রথমেই তাঁকে ও তাঁর সহধর্মিণী সবিতা চন্দকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান সংষ্কৃতি অনুরাগী শিরিন হাসান ও সাংবাদিক দীপক ধর অপু। তাঁরা সবাই সংবর্ধিত ব্যক্তি ও অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যও রাখেন। বক্তব্যে শ্রী সমীর চন্দ কটনের বর্ণাঢ্য সঙ্গীতজীবনের ভূয়সী প্রশংসা করা হয় এবং তাঁর সুস্থ দীর্ঘ জীবন কামনা করা হয়।
জবাবে শ্রী সমীর চন্দ কটন বলেন, বিদেশের মাটিতে প্রবাসীদের আন্তরিক ভালোবাসা এবং এরূপ সম্মাননা জানানোর বিষয়টি তিনি আজীবন মনে রাখবেন। অনুজা চন্দ সম্মাননা অনুষ্ঠানের সাথে জড়িত সকলকে এবং বৃষ্টি বাদল উপেক্ষা করেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্যে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
ছোট্ট করে সাজানো সাংস্কৃতিক পর্বের প্রতিটি পরিবেশনাই ছিল ভালোলাগার। মনোরমা দাস ধৃতি কিংবা ছোট্ট মেয়ে অর্নালীর নৃত্য দর্শকদের তুমুল করতালিতে অভিনন্দিত হয়। “ফাগুন হাওয়ায় করেছি যে দান …” বসন্তের একটা মিষ্টি সুবাস যেন ছড়িয়ে দিয়েছিল অর্নালী তার নৃত্যে।
রবীন্দ্রনাথের ভানু সিংহের পদাবলী – “গহন কুসুম-কুঞ্জ মাঝে, মৃদুল মধুর বংশি বাজে, বিসরি ত্রাস লোক লাজে সজনি, আও আও লো … গহন কুসুম কুঞ্জ মাঝে … “ – কী অপরূপ মুদ্রার কাজ দেখালো ধৃতি। গীতিবাদ্যের ছন্দে ধৃতির সঞ্চারিত মুদ্রা কথা বলছিল যেন।
অনুজা চন্দ, সবিতা চন্দ ছাড়াও গান করেন প্রবীণ সঙ্গীত শিক্ষক নিরোজ বড়ুয়া, শর্মিলা ধর, দেবপ্রিয়া কর রুমা।
বেহালায় দেশাত্মবোধক গানের সুর তুলে দিব্যজ্যেতি ধর। তাকে তবলায় সঙ্গত করে ইমন ধর।
সবশেষে ছিল শ্রী সমীর চন্দ কটনের পরিবেশনা। বেহালার তারে ছড়ি সঞ্চালনার সাথেসাথে হলের পরিবেশটা অন্যরকম হয়ে পড়ে। তোলেন তিনি পুরনোদিনের কয়েকটি জনপ্রিয় গান। “ মুছে যাওয়া দিনগুলি আমায় যে পিছু ডাকে …”, আজ দুজনার দুটি পথ ওগো দুটি দিকে গেছে বেঁকে …”, কিংবা “ একটা গান লিখো আমার জন্য …” – তন্ময় হয়ে শোনেন দর্শকরা। তাঁর নিপুণ বাদন বেদনার আর্তি তুলে পেছনের বহুদূরের পথে নিয়ে যায় শ্রোতাদের। তাঁকে তবলায় সহযোগিতা করেন বিশিষ্ট তবলাশিল্পী ঝলক দেব চৌধুরী। সাউন্ড, লাইট ও স্লাইড শো’র দায়িত্ব পালন করেন আরিফ সিদ্দিকী সেতু ও অনুপ চৌধুরী মিঠু।
অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন মন্ট্রিয়লের জনপ্রিয় দুই উপস্থাপক শর্মিলা ধর ও শামসাদ রানা।
শামসাদ রানা ও শর্মিলা ধরের সাবলীল উপস্থাপনায় সম্মাননা অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। দৃশ্যত পুরো অনুষ্ঠানের সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনার অধিকাংশ দায়িত্ব পালন করেন জিয়াউল হক জিয়া।
অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কফি সহ হালকা জলখাবার পরিবেশন করা হয়।
পুরো অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করেন লুৎফুর রহমান, শামীমুল হাসান, জিয়াউল হক জিয়া, এজাজ আক্তার তৌফিক ও সংবর্ধিত ব্যক্তির জামাতা উদ্দীপ দত্ত।
অনুষ্ঠানের আয়োজকরা তাঁদের নানাভাবে সহযোগিতা ও পরামর্শদানকারী সকলকে ধন্যবাদ জানান। ধন্যবাদ জানান, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কলাকুশলী সহ উপস্থিত সকলকে।
উল্লেখ্য, শ্রী সমীর চন্দ কটন বাংলাদেশের একজন নামকরা বেহালা ও গীটার বাদক। বর্তমানে তিনি সস্ত্রীক মন্ট্রিয়লে তাঁর মেয়ে অনুজা চন্দের পরিবারের সাথে অবস্থান করছেন।
CBNA24 রকমারি সংবাদের সমাহার দেখতে হলে
আমাদের ফেসবুক পেজে ভিজিট করতে ক্লিক করুন।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করতে পোস্ট করুন।

গোপেন দেব


