প্রবাসের সংবাদ ফিচার্ড

ড. ইউনূসের নিউইয়র্ক সফরে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা, সতর্ক অবস্থানে দূতাবাস

ড. ইউনূসের নিউইয়র্ক সফরে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা, সতর্ক অবস্থানে দূতাবাস

জাতিসংঘের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা  ড. মুহাম্মদ  ইউনূস। তার এই সফরে নিউইয়র্কে অবস্থানরত দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ কর্তৃক বিশৃঙ্খলা তৈরি শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তার নিরাপত্তা জোরদার ও বিশৃঙ্খলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন সমাজ। মূলত সাম্প্রতি তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের সফরের সময় ভাংচুর এবং হামলার ঘটনা থেকেই এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে

এসব বিষয়ে কথা বলেছেন ওয়াশিংটন দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা। তিনি বলেন, প্রতিবাদ বা বিক্ষোভের কেউ চিন্তা করলে আমরা তা প্রতিহতের চিন্তা করি না। কারণ প্রত্যেকেরই নিজের মতো করে প্রতিবাদ করার অধিকার আছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে। তবে এর একটি নির্দিষ্ট নিয়ম ও কাঠামো আছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি তথ্য উপদেষ্টার সফরের সময় অনুষ্ঠানস্থলের সামনে দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করে। সে পর্যন্ত ঠিক ছিলো, আমরা এটি ঠেকাতে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করিনি।  কিন্তু আওয়ামী লীগ দেশে যেমন গণহত্যা চালিয়েছে এবং দস্যুতা কায়েম করেছে দেশের বাইরেও কনস্যুলেট অফিসের গেইট ভেঙে সীমা ছাড়িয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রে এভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভাংচুর ও হামলা চালানোর মতো ঘটনা আগে ঘটেছে কি-না আমার জানা নেই। আমরা প্রতিবাদের বিরুদ্ধে নই, কিন্তু কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালালে বা সেরকম কোন আভাস পেলে আমরা এই দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

গোলাম মোর্তোজা বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট, সিক্রেট সার্ভিস এবং পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা ভিডিও ফুটেজ দেখে তদন্ত করছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসবেন এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়। সেক্ষেত্রে কেউ যদি ক্ষোভ দেখাতে চায়, প্রতিবাদ জানাতে চায় এটা ব্যক্তিগত বিষয়। আমরা কিছু বলবো না, কিন্তু বিক্ষোভের নামে কেউ যদি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে চায় বা করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে আমাদের বলা আছে। তারা তাদের মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। প্রতিবাদের বাইরে গিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করলে আমরা সেসব বিষয়ে দেশটির সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করবো। তারা তাদের কাঠামো মেনে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে ২৩ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের। তবে এটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের উদ্বোধন হবে। উচ্চ পর্যায়ের সাধারণ বিতর্কসভাগুলো চলবে ২৩ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে রোহিঙ্গা ইস্যু।

-সূত্রঃ প্রথম আলো

সংবাদটি শেয়ার করুন
সংবাদটি শেয়ার করুন