ওগো অলকপ্রভা!
কেশ-অরণ্যে পথ হারিয়েছি আজ,
তোমার প্রেমে বন্দি আমি,
উন্মত্ত এক মাতাল প্রেমিক ঘুচিয়ে সকল লাজ।
দিন কেটে যায় আপনমনে তোমারই ওই খেয়ালে,
হৃদয় আমার স্বপ্ন বোনে মায়ার গহন আবেশে।
তোমার উন্মুক্ত বেণীর ভাঁজে স্তব্ধ হাজার স্মৃতি,
মহাকালের ক্লান্ত কুয়াশা আর ধূপ-ধোঁয়ার আরতি।
সে ঘ্রাণে নেই কোনো পারিজাতের আমেজ,
বরং আছে এক অদ্ভুত, অনির্বচনীয় ধূসরতা,
যা চন্দনের প্রলেপের মতো শীতল,
আবার রক্তে জাগায় অগ্নির মতো অবাধ্য ব্যাকুলতা।
আমি যখন সেই স্নিগ্ধ কেশ-অরণ্যে পথ হারাই,
সময় তখন থমকে দাঁড়ায় বিস্মৃত রজনীতে।
নাসারন্ধ্রে খেলে যায় এক মায়াবী খেলা,
বিমূর্ত স্মৃতির ভিড়ে যেখানে তোমার কেশের ঘ্রাণই
হয়ে ওঠে এক অবিনশ্বর মহাকাব্য!
উপাখ্যানের অবসান
আজ মুখোমুখি তোমার প্রিয়সী আমি,
অথচ এত কাছে, তবুও মহাজাগতিক দূ
কথা বলতে চাইলেই কণ্ঠনালীতে বিঁ
এক একটা কালান্তক কাঁটা।
যে ওষ্ঠাধরে একদা সহস্র কবিতার
আজ সেখানে কেবল হিমশীতল গাম্ভী
যেন এক মৌন বিদ্রূপ, এক নিরেট ঘো
তুমি এখন অন্য কারো উপাখ্যানের
আর আমি? আমি সেই পরিত্যক্ত পাণ্
যার প্রতিটি পাতায় তোমার নামের
অথচ মলাট জুড়ে এখন কেবল বিস্মৃ
তোমার সিঁথির ওই রক্তিম রেখাটি,
যেন আমার মানচিত্র থেকে মুছে যা
আমি দাঁড়িয়ে আছি এক ধ্বংসস্তূপে
যেখানে ভালোবাসা এখন কেবল এক মৃ
আর তুমি এক জীবন্ত বিচ্ছেদ এক কা
আজ যদি আমার প্রিয়সী থাকতো
আজ যদি আমার প্রিয়সী থাকতো
শূন্য পালঙ্কে বসে ভাবি
আজ যদি আমার প্রিয়সী থাকতো!
এই তপ্ত বৈশাখের অবসরে,
আমরা হয়তো কোনো নিভৃত কুঞ্জবনে
সেখানে চলতো অবিরাম গল্পের মায়া
অকারণে হেসে ওঠা কিংবা চপলতায় মে
মৃদু সমীরণে তার কেশরাশি অবাধ্য
আর আমি সেই অছিলায় তার ললাটে পড়ি
আড্ডা জমত নিবিড় আবেশে, চায়ের কা
কত সহস্র গল্প হতো অনাগত কোনো
আমার শূন্যতার এই পাষাণভার বয়ে
মোর স্বপ্নাতুর এই জীবন মাঝে, তু
আজ যদি থাকতে পাশে, সার্থক হতো
ভেঙে যাচ্ছে ঘরসংসার
রক্তিম গোধূলি বেলায় আজ তাসের
যেখানে বিশ্বাসের লেনাদেনা ছিল,
সেথা আজ সংশয়ের লোনাজলে ধুয়ে
বিবর্ণ পাণ্ডুলিপিতে রুদ্ধ হয়ে
আমৃত্যু কাছে থাকার প্রতিশ্রুতি
অবিশ্বাসের তিমিরে নিমজ্জিত সেই
হৃদয়কুঠিরে আর বেজে ওঠে না অনু
পারস্পরিক সংঘাতের অনলে ভস্মীভূ
অশ্রুসিক্ত নয়নে রচিত হচ্ছে মি



