ভিয়েতনামে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ পালন
হ্যানয়, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আজ ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে যথাসযোগ্য মর্যাদায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ পালন করা হয়।
২১ ফেব্রুয়ারি দূতাবাসে দিবসটির প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ দুতাবাসের অস্থায়ী শহিদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয় এবং মহান একুশের ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে হ্যানয়স্থ বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনীতিকবৃন্দ, ইউনেস্কো অফিস প্রধান এবং ভিয়েতনামে অবস্থিত প্রবাসি বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের থিম সংগীত “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। পরে দিবসটি উপলক্ষ্যে ইউনেস্কো জেনারেল কনফারেন্স এর সভাপতি কর্তৃক প্রেরিত ভিডিও বার্তা প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ লুৎফর রহমান এবং হ্যানয়স্থ ইউনেস্কো অফিস প্রধান জনাথন ডব্লিউ বেকার। রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ লুৎফর রহমান তার বক্তব্যের শুরুতে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদগণকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত রহমান বলেন, আজকের দিনটি আমাদের জন্য একদিকে কষ্টের, অন্যদিকে সম্মান ও গৌরবের। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাতৃভাষা বাংলার অধিকার আদায়ে আমাদের এক ঝাঁক তরুন রাজপথে তাদের জীবন উৎসর্গ করে। আমরা রক্তের বিনিময়ে মায়ের ভাষার অধিকার ফিরে পেয়েছি যা বিশ্বে বিরল। অন্যদিকে দিবসটি গৌরবের। আমাদের রক্তে অর্জিত ভাষার অধিকারের সম্মানে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং ২০০০ সাল থেকে দিবসটি জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্রকর্তৃক একযোগে পালিত হয়ে আসছে। ‘বাংলাদেশের তরুণ ছেলেরা মাতৃভাষা রক্ষার্থে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে যে অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, আগামী শতাব্দীগুলোতে, কাল থেকে কালান্তরে সেই চেতনায় ভাষা এবং সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষার মাধ্যমে সারাবিশ্বে আরো শান্তি ও উন্নয়নের পথ সুপ্রসারিত হোক’-এই কামনায় রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্য শেষ করেন।
হ্যানয়স্থ ইউনেস্কো অফিস প্রধান জনাথন ডব্লিউ বেকার দিবসটির ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য “Youth voices on multilingual education” উল্লেখ করে বলেন, তরুণ প্রজন্ম কেবল ভাষাগত বৈচিত্র্যের উত্তরাধিকারী নয়; তারা এর ভবিষ্যতেরও প্রধান নির্মাতা। অন্তর্ভুক্তি, সমতা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাদের নিজস্ব ভাষায় শিক্ষা, তথ্য এবং ডিজিটাল পরিসরে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচনা পর্ব শেষে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সম্মানে হ্যানয়স্থ শ্রীলংকা দূতাবাস থেকে প্রাপ্ত ভিডিও পারফর্মেন্স প্রদর্শন করা হয়। মালয়েশিয়া দূতাবাসের কূটনীতিক আঈদা সাফুরা, লাওস দূতাবাসের কূটনীতিক ফোনথাভি থাম্মাসাক, ভারতীয় দূতাবাসের স্বামী বিবেকানন্দ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক ড. মনিকা শর্মা তাদের মাতৃভাষায় কবিতা আবৃত্তি করেন। Hanoi Center for Education and Development থেকে আগত একদল শিশু একটি ভিয়েতনামি লোকগানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে।
*




