টরন্টোতে শিশুদের ক্যানভাসে ভাষা আন্দোলনের অমর চেতনা
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে টরন্টোয় বাংলাদেশি-কানাডিয়ান শিশু চিত্রশিল্পীদের রঙ-তুলিতে প্রাণ ফিরে পেল মহান ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও চেতনা। ২১ ফেব্রুয়ারি বেঙ্গলি ইনফরমেশন এন্ড এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস (বিআইইএস) আয়োজন করে এক বিশেষ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। টরন্টোর বাঙালি অধ্যুষিত ড্যানফোর্থ এলাকার এক্সেস পয়েন্ট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে প্রায় অর্ধ শতাধিক শিশু চিত্রশিল্পী অংশগ্রহণ করে।
বিআইইএস আয়োজিত ১৩তম এই প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল—“আমার ভাষা, আমার পরিচয়: ভাষা প্রজন্মকে সংযুক্ত করে।” ছয় থেকে পনেরো বছর বয়সী শিশুদের দুইটি বিভাগে ভাগ করে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় তারা তাদের ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলে শহীদ মিনার, রক্তাক্ত ২১শে ফেব্রুয়ারি, ভাষার দাবিতে বাঙালির সংগ্রাম, মিছিল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খণ্ডচিত্র। কোমল হাতে আঁকা এসব ছবিতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে ভাষা আন্দোলনের গভীর আবেগ ও আত্মত্যাগের ইতিহাস।
প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে ২০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। তারা সনদপত্রের পাশাপাশি ৪০০ ডলার প্রাইজমানি লাভ করে। অংশগ্রহণকারী অন্যান্য সকল শিশুকেও সনদ প্রদান করা হয়। প্রতিযোগিতার বিচারকমণ্ডলীতে ছিলেন চারুকলার শিক্ষক সুব্রত নাথ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমপিপি ডলি বেগম, মেরি মার্গারেট, টরন্টো সিটি কাউন্সেলর ব্র্যাড ব্র্যাডফোর্ড, কমিউনিটির বিশিষ্টজন ব্যারিস্টার কামরুল হাফিজ, ব্যারিস্টার জাকির হোসেন, বিআইইএস এর পরিচালক মোস্তফা আকন্দ, বোর্ড মেম্বার মাহতাব শাওনসহ অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ।
সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ইমাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ডলি বেগম বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস টরন্টোর নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বিআইইএস অনন্য ভূমিকা পালন করছে। মেরি-মার্গারেট ম্যাকমাহন বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ১৩ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কাউন্সিলর ব্র্যাড ব্র্যাডফোর্ড তাঁর বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৫২ সালে বাংলাদেশে ভাষা শহীদরা মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকারের জন্য জীবন দিয়েছিলেন। আজ আমরা শুধু বাংলা নয়, বরং সব ভাষাকেই উদযাপন করছি—যা মানুষের আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে ব্যারিস্টার কামরুল হাফিজ বলেন, এটি বিশ্বের মুক্তির সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা। ব্যারিস্টার জাকির হোসেন বলেন, বাঙালির স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবাদের মূলভিত্তি সেই ভাষা আন্দোলন। অন্যান্য বক্তারা উল্লেখ করেন, “ভাষা শুধু শব্দের সংকলন নয়, এটি একটি বিশ্বদর্শনের কাঠামোও। শিশু চিত্রশিল্পীদের মনোমুগ্ধকর শিল্পকর্ম তাদের প্রতিভার প্রকাশের পাশাপাশি ভালোবাসা, বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্যের গল্প বলে। তারা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ভাষা হলো সংযোগের সেতু, বিভেদের দেয়াল নয়।”
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিআইইএস ১৩বারের মতো শিশুদের জন্য এ ধরনের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে, যা কানাডায় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতেও এ আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।




