বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রীসভাকে আন্তরিকভাবে অভিনন্দন
বিদ্যুৎ ভৌমিক ।।। বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রীসভাকে আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাচ্ছি। ১২ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ফলাফল ঘোষিত ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯ টি আসনে জয়লাভ করে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে । অন্যদিকে জামায়াত এককভাবে পেয়েছে ৬৮ টি আসন। এনসিপি পেয়েছে ৬ আসন।
১৭ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার বিকাল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রীসভাকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশীয় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিসহ বিপুল সংখ্যক দেশি ও বিদেশি অতিথি অংশগ্রহণ করেন।
এবার বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ৪৯ মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মাটিতে পা রেখে তারেক রহমান গনতন্ত্র, নারীদের অধিকার ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য যেভাবে সুন্দর সুন্দর ভাবনার প্রসার ঘটিয়ে চলেছেন এবং তাঁর কথাবার্তায় ও কাজে দারুণ বিনয় ও নম্রতার যে চমৎকার চিত্র লক্ষ্য করেছি- তাতে আমরা খুবই আশাবাদী। তারেক রহমান হলেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশের প্রাক্তন দুই বারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে। ১৮ মাসে ড. ইউনুসের ব্যর্থ ও অযোগ্য অন্তরর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ নতুন আশায় বুক বেঁধে বিএনপিকে ভূমিধ্বস জয়লাভে ভোট দিয়েছে । তাদের ক্ষুদ্র ক্ষু্দ্র প্রত্যাশাগুলো দেশ প্রধানের দৃষ্টি না এড়াক- এ প্রত্যাশা করি আন্তরিকভাবে!
মহান স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত ও এনসিপির চাপে আওয়ামী লীগের মত একটি প্রাচীন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে Inclusive Political Atmosphere রক্ষার স্বার্থেই দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ করে রাখা ঠিক হবেনা। একই ভাবে স্বাধীনতার মহান স্থপতি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নাম বলপূর্বক মূছে ফেলা যাবেনা। দেশে ন্যায় বিচারের স্বার্থেই বিনা বিচারে আটক চিন্ময় প্রভূ, শাহরিয়ার কবীর, আনীস আলমগীরসহ আরও অনেককে দ্রুত মুক্তি দেবার ব্যবস্থা করতে হবে। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তি এবং রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী, মৌলবাদ, জঙ্গীবাদ ও তাদের দোসরদের আস্ফালন বন্ধ করতে হবে। আমরা উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদ, একনায়কতন্ত্র ও জঙ্গীবাদের প্রভাবে ও আবর্তনে আমাদের সোনার বাংলাদেশকে ব্যর্থ ও অকার্যকর দেশসমূহ যেমন পাকিস্তান, আফগানিস্তান,নাইজার, ইরাক, Democratic Republic of Congo, হাইতি, সিরিয়া, ইয়েমেন, চাঁদ, সোমালিয়া, সুদান, দক্ষিন সুদান ও ইরানের মত ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্র হতে দিবনা। গণতন্ত্র, আইনের শাসন অর্থনৈতিক উন্নতি, ন্যায়বিচার ও সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারসহ দেশমাতৃকার সর্বাঙ্গীন উন্নতির বৃহত্তর স্বার্থে একাত্তরের মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনা হৃদয়ে করে প্রকৃত গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করতেই হবে বাংলাদেশে।
লেখক: কলামিষ্ট ও CBNAএর উপদেষ্টা


বিদ্যুৎ ভৌমিক


