কানাডার সংবাদ ফিচার্ড

অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন কর্তৃক অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন কর্তৃক অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, অটোয়া: যথাযথ মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য এবং বিনম্র শ্রদ্ধায় কানাডার অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন কর্তৃক অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। ১৯৫২ সালে মাতৃভাষার অধিকার রক্ষায় ঢাকায় ছাত্রদের সেই মহান আত্মত্যাগের সাত দশকেরও বেশি সময় পর আজও ২১শে ফেব্রুয়ারির চেতনা বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে অনুরণিত হচ্ছে।

দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে  সকালে কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার জনাব মো. জসীম উদ্দিন কর্তৃক বাংলাদেশ হাউজে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর হাইকমিশনার ও হাইকমিশনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দের অংশগ্রহণে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরবর্তীতে হাইকমিশনের অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে দূতাবাসের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং কানাডাস্থ বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানের শুরুতে হাইকমিশনার ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ ভাষা আন্দোলনের সকল শহীদ এবং ৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার অধিকার রক্ষা কেবল একটি সাংস্কৃতিক দাবি ছিল না, বরং এটি ছিল একটি রাজনৈতিক জাগরণের সূচনা যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছে। ইউনেস্কো কর্তৃক এই দিনের স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে ভাষার অধিকার একটি মৌলিক মানবাধিকার। উপস্থিত সুধীজনের উদ্দেশ্যে হাইকমিশনার বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা জাতির অবিচ্ছেদ্য অংশ; তাঁরা বিদেশের মাটিতে দেশীয় ঐতিহ্য লালন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাথে শেকড়ের সেতুবন্ধন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি প্রবাসীদের বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় সম্পৃক্ত করতে এবং সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানভিত্তিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত হাইকমিশনের উদ্যোগসমূহ তুলে ধরেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের কথা উল্লেখ করে হাইকমিশনার গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, সুশাসন এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন, যেখানে সকল ভাষা ও সংস্কৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

কমিউনিটির সদস্যরা প্রবাসে নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা ভাষা ছড়িয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। তাঁরা জোর দিয়ে বলেন যে, একটি বহুমাত্রিক সমাজে নিজেদের পরিচয় ধরে রাখতে ঘরে বাংলা চর্চা এবং সাহিত্য-সংগীতের প্রসার অত্যন্ত জরুরি।

 

এসএস/সিএ

 

সংবাদটি শেয়ার করুন