ফিচার্ড রকমারি

তিন বোনের এক স্বামী অতঃপর…

nishika-prachi-pakhi

ভারতের উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে ১৬ বছরের কম বয়সী তিন বোনের আত্মহত্যার ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন ও অজানা তথ্য সামনে আসছে। পুলিশ জানিয়েছে, মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া ও তা বিক্রি করে দেয়ার পর থেকেই তিন বালিকা তীব্র মানসিক চাপে ভুগছিল। তাদের পিতা চেতন কুমার বিদ্যুতের বিল পরিশোধের জন্য মেয়েদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে সেগুলো বিক্রি করে দেন।

তিনি দাবি করেন, মেয়েরা অতিরিক্তভাবে কোরিয়ান কনটেন্ট, বিশেষ করে কোরিয়ান বিনোদন ও অনলাইন গেমিং এ তারা মারাত্মকরকম আসক্ত হয়ে পড়েছিল। চেতন কুমার পেশায় একজন স্টক ব্রোকার। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার ঋণের পরিমাণ প্রায় ২ কোটি রুপি। চরম আর্থিক সংকটের মধ্যেই তিনি পরিবার চালাচ্ছিলেন।

এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে- তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার রাতে তিন বোন তাদের মায়ের মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে সক্ষম হয়। তবে তারা যে কোরিয়ান অ্যাপ ও কনটেন্ট দেখতে চেয়েছিল, সেগুলোতে প্রবেশ করতে পারেনি। এ কারণে নিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২) এই তিন বালিকা অনলাইন গেম খেলতে এবং তাদের কোরিয়ান বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। ফরেনসিক দলও নিশ্চিত করেছে যে মায়ের মোবাইল ফোনে কোনো কোরিয়ান কনটেন্টসংক্রান্ত অ্যাপ পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, চেতন কুমারের তিন স্ত্রী রয়েছেন এবং তিনজনই আপন বোন। তারা হলেন নিশিকার মা সুজাতা, প্রাচী ও পাখির মা হেনা এবং তৃতীয় স্ত্রী টিনা। তদন্তে উঠে এসেছে, আত্মহত্যাকারী তিন বালিকা তাদের পিতাকে বেশি পছন্দ করতো। সম্ভবত এ কারণেই তারা আত্মহত্যার নোটে পিতার উদ্দেশে লিখে গেছে। কিন্তু কোথাও মায়েদের নাম উল্লেখ করেনি। হাতের লেখা আত্মহত্যার নোট, আঙুলের ছাপ এবং সংশ্লিষ্ট বার্তাগুলো ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে আসেনি। এদিকে আইএমইআই নম্বর ব্যবহার করে সাইবার ক্রাইম বিভাগ সেই ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে, যাদের কাছে এসব মেয়ের মোবাইল ফোন বিক্রি করা হয়েছে। উদ্দেশ্য মোবাইলগুলো থেকে কোরিয়ান অ্যাপ ও ডাটা উদ্ধার করা।

তিন বোনের ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া নয় পৃষ্ঠার একটি পকেট ডায়েরি থেকে জানা গেছে, কোরিয়ান সংস্কৃতি ও বিনোদনের প্রতি গভীর আকর্ষণ ছিল তাদের। পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক টানাপোড়েনে ভুগছিল তারা। পুলিশের মতে, এই বিষয়গুলো আত্মহত্যার পেছনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে বর্তমানে আত্মহত্যা হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তদন্তে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে- পিতার দাবি অনুযায়ী অনলাইন গেমিং ও কোরিয়ান কনটেন্টে আসক্তির বিষয়টি। পারিবারিক ও আর্থিক সংকট। অতীতের ঘটনাগুলোর সঙ্গে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ২০১৫ সালে চেতন কুমারের এক লিভ-ইন সঙ্গী সাহিবাবাদ থানাধীন রাজেন্দ্র নগর কলোনির একটি ফ্ল্যাটের ছাদ থেকে পড়ে রহস্যজনকভাবে মারা যান। সে সময় পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে তদন্ত বন্ধ করে দেয়। ওদিকে নিহত তিন বোনের মরদেহ বুধবার দিল্লির নিগম বোধ ঘাটে দাহ করা হয়েছে।

সূত্র: মানবজমিন

এফএইচ/বিডি


CBNA24  রকমারি সংবাদের সমাহার দেখতে হলে
আমাদের ফেসবুক পেজে ভিজিট করতে ক্লিক করুন।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করতে পোস্ট করুন।

সংবাদটি শেয়ার করুন