ফিচার্ড বিশ্ব

নেতানিয়াহুর সঙ্গে জেডি ভ্যান্সের উত্তপ্ত ফোনালাপ, নেতানিয়াহুকে তিরস্কার

jd-vance-and-Netanyahu

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ সপ্তাহের শুরুতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে একটি উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ করেন। সেখানে তিনি যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী ধারণা দেয়ার জন্য নেতানিয়াহুকে তিরস্কার করেন বলে খবর দিয়েছে অনলাইন অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর কাছে ভ্যান্স জানতে চান, ইরানে শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি এতটা আত্মবিশ্বাসী কেন। এক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, যুদ্ধের আগে বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বিষয়টা খুব সহজ বলে তুলে ধরেছিলেন, যেন শাসন পরিবর্তন অনেক বেশি সম্ভাব্য। ভাইস প্রেসিডেন্ট এসব বক্তব্য নিয়ে বাস্তববাদী ছিলেন।

ফোনালাপের পর এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেন, ইসরাইল সক্রিয়ভাবে জেডি ভ্যান্সের অবস্থান দুর্বল করার চেষ্টা করছে। বর্তমানে ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠেছেন। বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক হস্তক্ষেপের সমালোচক হিসেবে পরিচিত ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাই জারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।

একই কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ইসরাইলই এমন খবর ছড়িয়েছে যে ইরান নাকি জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী। কারণ তিনি একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে বেশি আগ্রহী হতে পারেন। তিনি অ্যাক্সিওসকে বলেন, এটা জেডি ভ্যান্সের বিরুদ্ধে ইসরাইলের একটি অপারেশন। অন্য এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, তার মতে যুদ্ধের আলোচনার মাধ্যমে সমাপ্তির জন্য ভ্যান্সই সবচেয়ে কার্যকর পথ। তিনি বলেন, ইরান যদি জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে কোনো চুক্তিই হবে না। সে-ই তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প।

২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। সেই নির্বাচনে হোয়াইট হাউসের দিকে নজর রাখা একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তুলনামূলকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। একসময়কার মার্কিন মেরিন সেনা সদস্য জেডি ভ্যান্স ইরাকে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি নিজেকে এমন একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে গড়ে তুলেছেন যিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ী বিদেশি যুদ্ধে জড়ানো থেকে দূরে রাখতে চান। এমনকি ডনাল্ড ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন যে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নিয়ে তাদের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য ছিল।

ট্রাম্প সোমবার বলেন, আমি বলব দার্শনিকভাবে সে (ভ্যান্স) আমার থেকে কিছুটা ভিন্ন ছিল। হয়তো যুদ্ধে যাওয়ার ব্যাপারে সে কম উৎসাহী ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সে যথেষ্ট উৎসাহী ছিল।

যদিও ভ্যান্স প্রকাশ্যে ট্রাম্পের ইরান অভিযানকে সমর্থন করেছেন, তিনি যুদ্ধ শুরুর পর মাত্র একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, যেখানে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন এটি আরেকটি চিরস্থায়ী যুদ্ধ হবে না। তবে এ মাসের শুরুতে ভ্যান্স এই মতপার্থক্যকে গুরুত্বহীন বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমার মনে হয় বড় পার্থক্য হলো আমাদের এখন একজন বুদ্ধিমান প্রেসিডেন্ট আছে, যেখানে আগে অনেক সময় নির্বোধ প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ভরসা করি যে, তিনি কাজটি সঠিকভাবে করবেন, আমেরিকান জনগণের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন এবং অতীতের ভুলগুলো যেন পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করবেন। তিনি এই মন্তব্য করেন ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে, ওভাল অফিসে একটি অনুষ্ঠানে।

সূত্র: মানবজমিন

এফএইচ/বিডি


CBNA24  রকমারি সংবাদের সমাহার দেখতে হলে
আমাদের ফেসবুক পেজে ভিজিট করতে ক্লিক করুন।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করতে পোস্ট করুন।

সংবাদটি শেয়ার করুন