ভ্রমণ

আমার দেখা ভিয়েতনাম |||| আবুল জাকের  | পর্ব ৫

পূর্ব প্রকাশের পর…

আমার দেখা ভিয়েতনাম |||| আবুল জাকের  | পর্ব ৫

অনেকক্ষণ ছোট ডিঙ্গি নৌকায় ভাসতে ভাসতে এক যায়গায় এসে নামলাম। সরু বাশের পাটাতন দিয়ে হাটছি।নীচে পানি। বেলা বাড়ছে। দু ধারে গ্রাম। কিছুক্ষন হাটার পর গাইডকে বললাম আমার ক্ষুদা লেগেছে। খেতে হবে কিছু। আর হাটতে পারব না। কথা শুনে গাইড একটু পরে একটি জায়গায় এসে দাঁড়ালো।

কয়েকটা ঘোড়ার গাড়ি।আমাদের দেশের মত। তবে সাধারন। পছন্দ করে একটি গাড়িতে চড়ে বসলাম। চিকন পাকা রাস্তার উপড় ঘট ঘট করে চলছে। কিছুক্ষন চলার পর একটি বড় রাস্তায় উঠলাম। তার পর আবার সরু রাস্তা।বুঝলাম গ্রামে ডুকছি। আমাদের দেশের মত রাস্তার দু ধারে কাঠাল গাছ।কাঁঠাল ধরে আছে। এর বেশ কিছুক্ষন পরে এসে পৌঁছলাম একটি বাগানে। নেমে ঢুকে দেখি এলাহি কান্ড। এখানে আমাদের লাঞ্চ হবে। সারি সারি ডাবের গাছ। বিশাল খোলা রেস্তোরা। পাশে  সরু নদী।নৌকা ভাসছে। নদীর ধারে একটি টেবিল দেখে বসলাম। একটু পরেই সদ্য গাছ থেকে পাড়া কচি ডাব দিয়ে গেলো। মিষ্টি পানি। নৌকা করেও অনেকে আসছে। গাইড ই আমার খাবার ঠিক করে দিল। বেশ দেরী হোল খাবার আসতে। তবে খাবার ভালো ছিল। রেস্তরাও ছিল ভ্রমণকারী দিয়ে ভরা। পাশের খালের নৌকা দেখছি, কথা বলছি গাইডের সাথে, একটু একটু করে খাবার খাচ্ছিলাম আয়েশ করে। লাঞ্চ শেষ হলে বেরোলাম বাগান দেখতে। সারি সারি নারিকেল, লেবু, চাপা কলা আর ড্রাগন ফ্রুট এর গাছ। এই প্রথন ড্রাগন ফ্রুট এর গাছ চোখে পড়ল। আগে কোথাও দেখি নি। খুব সুন্দর । পায়ে চলার রাস্তার দু পাশ দিয়ে সারি করে লাগানো। প্রতিটি গাছ একটি বাশের খুটি দিয়ে দাঁড় করানো আছে। লম্বায় প্রায় ৫ থেকে ৬ ফুট। আগাছা চোখে পড়ল না। বাংলাদেশে পরিক্ষামুলক ভাবে এর চাষ শুরু হয়েছে ইদানীং। তবে এ ধরনের বিশাল খোলা রেস্তোরা এখনো হয়নি। আমাদের রিসোর্টগুলো ভাবতে পারে। আর একটা কথা আমাদের আবহাওয়ায় হয়ত অনেক ফলই চাষ করা যাবে, কিন্তু আমাদের জমি ত কম। তাই অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা ঠিক করে দেওয়া উচিৎ, কি কি করা প্রয়োজন। দুর্ভাগ্য হলেও সত্য আমরা আমাদের আম, আনারস, এবং কলা উৎপাদনকেই ধরে রাখতে পারিনি। আম, আনারস এবং কলা একটি পপুলার আইটেম পশ্চিমা দেশগুলোতে। ১৯৭৯ এ যে সাগর কলা নরসিন্ধিতে হত তা এখন সম্পূর্ণ বিলুপ্ত।রাঙ্গামাটির সরকারি আনারসের জুস কারখানা এখন হয়ত আর নেই। অথচ হাজার হাজার পাহাড়ি আনারস পচে নষ্ট হয় দেশে। সিলেটের জল্ডুগি আনারসের চাষ কমে গেছে।  মিশরে দেখেছি মাইলের পর মাইল রাস্তার ধারে সাগর কলার বাগান।মরুভুমিতে। সরকারি গবেষণা ও পথ দেখানো প্রয়োজন। আমাদের রাস্তার ধার এবং রেল লাইনের পাড় এমনি পড়ে থাকে। শুধু যশোহর থেকে খুলনা যাবার পথের দু ধারে সীমের ফলন ও আখ ক্ষেত দেখেছি শীতের আগে আগে। ওই সীম মন্ট্রিয়লে পাওয়া যায় না।

কিছুক্ষন হাটার পর আবার খালের ধারে আসলাম। নৌকা ঠিক করে চললাম নদীর পারে। ওপারে যাবার জন্য।

ঠিক সময়ে পৌঁছে গেলাম ওপারে। সেখানে দেখতে পেলাম কি করে তারা নারিকেলের কেন্ডি বানায়। চিনির বদলে মধু ব্যাবহার করছে। একদম গ্রামীন পদ্ধতি। সেগুলো বিক্রি করছে ভ্রমণকারীদের কাছে। আমি কিনে নিলাম কয়েক রকম। গাইডকে  কিনে দিলাম তার পছন্দ মত। আরও কয়েক রকম প্রোডাক্ট ছিল, কিন্তু তরল। বিভিন্ন ধরনের মধু। তাই নেয়া হয়নি।বেশ অনেকক্ষণ সময় কাটল সেখানে। গাইড জানাল এবার যেতে হয়।

একই পথে এবার ফিরতি যাত্রা। মাঝ খানে ভিং ট্রাং প্যাগোডা দেখতে যাব। ডেলটার একটি দর্শনীয় জায়গা। না গেলে সেখানে যাওয়া অপূর্ণ থেকে যাবে। প্রায় মাঝ পথে। মসৃণ পথ দিয়ে যাচ্ছি। কথা হচ্ছিল গার্মেন্টস নিয়ে। আমরা জানি ভিয়েতনামের কাপড়ের দাম বিদেশে বেশী। মান ও ভালো। পথ থেকে দেখা যায় একটি কারখানা দেখাল। বলল ওরা যে খুব বেশী পায় তা নয়, কিন্তু খারাপ ও না।  একজন শিক্ষিত শ্রমিকের বেতন ২৫০ মার্কিন ডলার। যেগুলো বড় ও উঁচু মানের। ছোট খাট কারখানা এর থেকেও কম পায়। সরকার তাদের মুজুরি বেধে দিয়েছে। মাসে ১৫০ – ১৭০ ডলারে অদক্ষ শ্রমিকরা কাজ করে। সবচেয়ে কম পায় রিজিয়ন ৪ এ। ১২৫ ডলার। চারটি ভাগে ভাগ করা পুরো দেশ। একেক জায়গার মুজুরি এক এক রকম। জীবন যাত্রার মানের উপর। প্রতি বছর এটা বাড়ছে। তবে ভিয়েতনামে কারো উপার্জন যদি ১৩০০ ডলার হয় তবে সে ভালোভাবে থাকতে পারে। গাইড জানালো শ্রমিকরা খুব ভালো নেই। তাই কারখানাগুলো শহর থেকে দূরে। জীবন যাত্রাও সহজ। বাংলাদেশ ও খুব ভাল করছে গার্মেন্টসে। কিন্তু প্রায় সবগুলোই ঢাকা বা চট্টগ্রাম শহর ভিত্তিক। তাতে শ্রমিকদের থাকতে অসুবিধা হয়। কারন খরচ বেশী।

কথা বলতে বলতে ভাবছিলাম কোথায় প্যাগোডা। অনেকক্ষণ পর গাড়ি একটা চিকন রাস্তায় ঢুকল বড় রাস্তা থেকে। একটু যাবার পর চোখে পড়লো বিশাল প্যাগোডা। আমি ভাবতেও পারিনি এত বড় সুন্দর দেখার জিনিষ পাব। একটু দূরে গাড়ি পার্ক করে ভিতরে গেলাম। দূর থেকে প্রথমেই চোখে পড়ে বিশাল হাস্যময় বুদ্ধা। অনেক দূর থেকে দেখা যায়। চোখে পড়ল সুপুরি বাগান। থোকায় থোকায় সুপুরি ধরে আছে। বাগানের মাঝখান দিয়ে হাটছি। কি সুন্দর বাগান। ফল ও ফুলের গাছে ভরা। লাফিং বুদ্ধাকে দাঁড়িয়ে অকেক্ষন দেখলাম।ভালো লাগছিল। মনে হচ্ছিল প্রশান্তিতে মন ভরে যাচ্ছে। আর একটু ভিতরে গেলে চোখে পড়ে রিক্লাইনিং বুদ্ধা। বেশ বড়। যেমনটি দেখেছিলাম থাইল্যান্ড এ। কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলে নিজেকে সম্মোহিত মনে হয়। গাইডকে জিজ্ঞেস করলাম বুদ্ধার মূর্তি তিন রকম কেন? তাদের মতে – দাঁড়ানো বুদ্ধা হচ্ছে সুখ এবং করুনার আঁধার। হাস্যময় বুদ্ধা বুঝায় প্রসন্নতা ও সৌভাগ্য, রিক্লাইনিং বুদ্ধা প্রচার করে তার নির্বানের পৌছার পর্যায়। বলা হয় যে জীবন দশায় যারা নির্বাণ লাভ করবে, সে কষ্টময় পুনর্জন্মের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে। মন্দিরের ভিতরের কোর্ট ইয়ার্ডে প্রবেশ করি এর পর। ভারত, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, ভারত, জাপান, চীন ও পশ্চিমা দুনিয়ায় অনেক দোকানে ও রেস্টুরেন্টে আমি এই হাস্যময় বুদ্ধা দেখেছি। ভিয়েতনামে ত আছেই।

৫ টি আলাদা অট্টালিকা, দুটো কারুকার্য খচিত উঠোন, আর আছে ১৭৮ টি জটিল ভাবে খোদাই করা নকশা। ৬০ টা দামী মূর্তি আছে তামা,কাঠ আর টেরাকোটার। বিশাল ব্রোঞ্জ এর ঘন্টা, ১৮৫৪ তে তৈরি। আগের সন্ন্যাসীদের সমাধি ভিতরে আছে। এখনো সন্ন্যাসীরাই চালায়। বর্তমানে এটি একটি ধর্মশালা। পাশাপাশি এতিম বাচ্ছাদের ও পঙ্গুদের বাসস্থান। দেখতে পেলাম তারা কিশোরদের সাথে ক্লাস নিচ্ছে। এক বুদ্ধার মূর্তির সামনে অনেক খাবার দেখলাম। গাইড বলল ওদের রাতের খাবার। বুদ্ধার খাওয়া হয়ে গেলে তারা খাবে তাদের সময়ে। সূর্য ডুবার সাথে সাথে। সম্পূর্ণ ভেজিটারিয়ান। ফল দেখলাম অনেক রকম।

১৮৫০ সনে প্যাগোডা টি তৈরি। যুদ্ধের সময় ফারাসি সৈন্যরা এটা প্রায় ধ্বংস করে ফেলে। তার পর অপব্যবহার হয়েছে অনেক দিন। ১৯০৭ এবং ১৯২৩ এ এটাকে আগের আদলে পুনর্নির্মাণ করা হয়। রোমান এবং ভিয়েতনামের নকশার আদলে। গাইড জানালো বৌদ্ধ ধর্ম এখানে আসে দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে। চীনা এবং ভারতীয় সন্ন্যাসীদের হাতে। চীনারা চলে যাবার পর কনফুচিয়াসের চীনা শিক্ষার রাজনৈতিক সমাপ্তি ঘটে ও বৌদ্ধ ধর্ম সরকারি স্বীকৃতি পায়। বর্তমানে ২৬% এর মত ভিয়েতনামের লোকজন ধর্ম মানে, তার মাঝে ১৫% হোল বুদ্ধিস্ট। অনেকে প্রাচীন ধর্মের অনুসারি আছে যাকে তারা “লোকজ” ধর্ম বলে।

শহরে ফিরতে ফিরতে প্রায় বিকেল। সূর্য ডুবছে। চেয়েছিলাম নদীর পাড়ে যেয়ে সূর্যাস্তের ছবি তুলবো। কিন্তু যানজটের জন্য হয়ে উঠে নি। ওদিকে আবার ডিনার এর সময় প্রায় হয়ে এসেছে। তাই সোজা হোটেলে চলে আসা ফ্রেস হবার প্রয়াসে। রাতের খাবার খুব ভালো ছিল। ও একটা ভারতীয় রেস্তোরায় নিয়ে যায়।নাম নটরাজ। ওখানে পরিচয় হয় বাঙ্গালী এক সেফ এর সাথে। পশ্চিম বঙ্গ থেকে এসেছে। আমার কথা শুনে আমার পছন্দ মত খাবার তৈরি করে দিল। খাবার শেষে ওদের সাথে একটা ছবি তুলে নিলাম। ফিরে এলাম হোটেলে। আগামীকাল সকালে আবার বেরোতে হবে শহর দেখতে।

যেহেতু শহরে যাব একটু দেরী করেই সকালের নাস্তা সারলাম। ১০ তার সময় গাইড আসবে।

প্রথমে যাব “ রিউনিফিকেসান প্যালেস”,যাকে তারা “ ইন্ডিপেন্ডেন্স প্যালেস” বলে থাকে। বেশ দূরে নামতে হোল। ভিতরে গাড়ি নিয়ে ঢুকা বারন। প্রচুর ভ্রমণকারীদের চলাচল। বিশাল জায়গা জুড়ে এই কমপ্লেক্স। হলে প্রবেশের মুখে সারি করে বনসাই গাছ। বেশ সুন্দর একটা ঝর্ণা আছে সবুজ ঘাসে ভরা মাঠে। নীল শাপলা দেখলাম পানিতে। ভিতরে এলাহি কান্ড। সারি সারি সাজানো রুম। সেই আগের মতন আসবাস পত্রে। বিশাল কনভেন্সান হল। হেলিপেড ও আছে। রাখা আছে যুদ্ধে ব্যবহিত আমেরিকানদের একটি হেলিকপ্টার। একটি ট্যাঙ্ক রাখা আছে যা যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল। রাখা আছে আমেরিকানদের ছুড়ে ফেলা বোমার অংশ ও মারসিলিজভেঞ্জ গাড়ি সদা রঙের। সুসজ্জিত অফিস কক্ষ, প্রাইভেট থিয়েটার, মিটিং রুম, খাবার ঘর, খেলার ঘর ও কনফেরেন্স হল। এছাড়াও আছে বেইজমেন্ট কমান্ড অফিস ও তাদের ব্যবহিত যন্ত্রপাতি। একটি যুদ্ধের সময় যা লাগে সবই এখানে রাখা হয়েছে ঠিক আগের মত। টাঙ্গানো আছে আগে ব্যবহিত প্রাণীর মাথা ও হরেক রকম ডেকোরেসান সামগ্রী। শেষ প্রান্তে প্রেসিডেন্টের থাকার ভবন, মাঝখানে সবুজ বাগান।যদিও এখানে কেউ থাকে না। এখনো এখানে বিদেশী কেউ আসলে বা কোন সরকারি বড় প্রোগ্রাম থাকলে এখানে আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সভার প্রয়োজনে।

এটা ১৮৬৮ এর দিকে গভর্নর জেনারেলের বাসস্থান। কাঠের প্রাসাদকে ভেঙ্গে নতুন করে পাকা দালান করা হয়। তৈরি শেষ হয় ১৮৭৩ তে। এটার নাম করন হয় নরদম প্যালেস, কম্বোডিয়ার রাজার নামে ( ১৮৩৪-১৯০৪)। ১৯৪৫ সনে জাপানের প্রবেশ, স্থানটি তখন কাজে লাগে জাপানিজ কলোনিয়াল অফিসারদের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফারাসিরা আবার ফিরে আসে। প্রাসাদকে ঠিক করে তাদের থাকার জন্য। ১৯৫৪ প্রাসাদ ফিরে আসে ভিয়েতনামের “জেনারেল নগ দিনের” কাছে। ১৯৫৫ সনে নাম করন হয় “ ইন্ডিপেন্ডেন্স প্যালেস”। ১৯৬৩ পর্যন্ত জেনারেল ওখানেই বাস করতেন। ১৯৫৫ থেকে ১৯৭৫, নানা রকম যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যেতে হয় ভিয়েতনামের জনগণকে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট তখন নিক্সন। বি-৫২ বোমারু বিমানে প্রচন্ড আক্রমন এবং আগুনে বোমার বর্বর ব্যাবহার (নাপাম বোমা) নিক্সনেরই কাজ। নিক্সন শান্তি চুক্তি করেছিল কংগ্রেস এর চাপে। আবার আক্রমন করার ইচ্ছা থাকলেও ওয়াটার গেট কেলেঙ্ককারির জন্য তা হয়ে উঠেনি। ১৯৭০ এ প্রিন্স নরডন সিহানুকের পতন হয়। নর্থ ভিয়েতনামিজ গেরিলারা ১৯৭৫ এ প্রাসাদের প্রধান ফটক ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে। নামকরন হয় “ রিউনিফিকেসান প্যালেস”। তাই প্রাসাদটি এখন ভিয়েতনাম যুদ্ধের একটি মনুমেন্ট বা স্মৃতিস্তম্ভ। একত্রীভূত ভিয়েতনামের।

এখানে একটা কথা না বললেই নয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ১৯৭১ এ। ভিয়েতনাম ১৯৭৫ এ। তারা যুদ্ধ করেছে প্রায় দশ বছরের উপর। আমরা যুদ্ধ করেছি ভারতের  সাহায্য নিয়ে ৯ মাস। আমেরিকা পরাজয় মেনেছে ভিয়েতনামিজদের কাছে। রাশিয়া বা চীনের কাছে নয়। আর পাকিস্তান সেনারা পরাজয় মেনেছে ভারতের কাছে। ভারত আমাদের হয়ে কাজ করেছে। বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর কাছে নয়। কারন সেই সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওসমানী সেখানে ছিলেন না। তাই ভিয়েতনামের চিত্রপট আর বাংলাদেশের চিত্রপট আলাদা। ওদের টেকসই উন্নতি আমাদের ছাপিয়ে গেছে। আর একটা লক্ষণীয় বিষয় হল, ফারাসি, জাপান বা আমেরিকা কেউই তাদের মানুষদের চরিত্র নষ্ট করতে পারেনি। ব্রিটিশ যা করে গেছে ভারতবর্ষের লোকজনের, বিশেষ করে বাঙালিদের। তার ছাপ আমাদের তিন দেশেই বিদ্যমান। আমরা বেরোতে পারছি না ওখান থেকে। তাই টেকসই উন্নতি ও হচ্ছে না। ভিয়েতনামের জনগন সবাই যুদ্ধের সহায়ক শক্তি। বাংলাদেশে তার বিভাজন করা হয়েছে। একটা গোষ্টি এর দাবীদার। শ্রেণী বিন্যাস শক্ত ভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। আপাময় জনসাধারন নয়। এটা ভালো লক্ষন  নয়।

আমার দেখা ভিয়েতনাম |||| আবুল জাকের  | পর্ব ৫  লেখকঃ  পাস্ট ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর, রোটারি ইন্টারন্যাশনাল,  বাংলাদেশ।  মন্ট্রিয়ল, কানাডা।
লেখকের অন্যান্য ভ্রমণ কাহিনী….
আমার দেখা ভিয়েতনাম ১  |আমার দেখা ভিয়েতনাম ২  |আমার দেখা ভিয়েতনাম ৩
আমার ভূটান দেখা |||| আবুল জাকের  || পর্ব ১     আমার ভূটান দেখা |||| আবুল জাকের  || পর্ব ২     আমার ভূটান দেখা |||| আবুল জাকের  || পর্ব ৩
আপনার মন্তব্য লিখুন