জুলাই সনদ ইস্যুতে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। গণভোটের সংস্কার প্রস্তাব এবং পরিষদ গঠন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে তারা। অধিবেশন চলাকালে প্রতিবাদস্বরূপ সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন বিরোধীদলীয় সাংসদরা। বুধবার বিকালে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের প্রশ্নে সংসদে আলোচনা হলেও তা নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে এ ওয়াকআউট করেন তারা।
পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের সংস্কার প্রস্তাব এবং পরিষদ গঠন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সমানসংখ্যক সদস্য নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা উচিত। জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে এবং সংকট নিরসনে এই কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারতো। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানান, বিরোধী দলের প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার নজির খুব কম থাকলেও বর্তমান অধিবেশনে আলোচনার স্বার্থে তা গ্রহণ করা হয়েছে। স্পিকার আরও বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে আলোচনার অবারিত সুযোগ রয়েছে এবং আগামীতেও এ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলার সুযোগ দেয়া হবে।
তবে স্পিকারের এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট হতে পারেনি বিরোধী দল। বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, তাদের মূল নোটিশকে ধামাচাপা দিতে অন্য একটি নোটিশ সামনে আনা হয়েছে। তিনি একে জনগণের রায়ের অবমূল্যায়ন এবং সংসদীয় রীতির লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেন। এই অভিযোগ তুলে বিরোধী দলের সকল সাংসদদের নিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার ঘোষণা দেন তিনি।
ওয়াকআউটের সময় স্পিকার বলেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী বিরোধী দলের ওয়াকআউট করার অধিকার রয়েছে। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংসদীয় সংস্কৃতিতে ওয়াকআউট একটি স্বাভাবিক বিষয়। তবে আলোচনার মাধ্যমেই সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতেই সংসদের পরবর্তী কার্যক্রম চলমান থাকে।
সূত্র: মানবজমিন
এফএইচ/বিডি
CBNA24 রকমারি সংবাদের সমাহার দেখতে হলে
আমাদের ফেসবুক পেজে ভিজিট করতে ক্লিক করুন।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করতে পোস্ট করুন।



