মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তে শোক, বিক্ষোভ ও সংঘাত
কলকাকলিতে মুখর থাকার কথা স্কুল প্রাঙ্গণ, সেখানে এখন পুড়ে যাওয়া শিশুদের মরদেহ, স্তব্ধ বাবা-মা আর পোড়া গন্ধ। উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩২ জনের, আহত অন্তত ১৬৫। পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ২২ জনের মরদেহ হস্তান্তর হয়েছে, বাকিদের ডিএনএ পরীক্ষা চলছে।
বিপর্যয়ের পরদিন মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হলেও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভে উত্তাল হয় ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ, ক্ষতিপূরণ, পুরনো বিমান বাতিল, নিরাপদ প্রশিক্ষণব্যবস্থা এবং দোষীদের শাস্তি।

সেদিন সকাল থেকে ক্যাম্পাসে আসেন সরকারের আইন ও শিক্ষা উপদেষ্টা, কিন্তু শিক্ষার্থীদের ঘেরাওয়ে তারা প্রায় ৯ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন। পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে সন্ধ্যায়।
একই সময়ে সচিবালয়ের সামনেও পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ হয়। তারা এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের বিলম্বিত ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হয় এবং উপদেষ্টাদের অপসারণ দাবি করে। সেখানে সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ৬৬ শিক্ষার্থী।
বিধ্বস্তে নিহত শিশুরা—সায়মা, মেহেনাজ, ফাতেমাসহ অনেকের করুণ বিদায় হৃদয়বিদারক। শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরীর আত্মত্যাগ এবং রজনী আক্তারের মৃত্যু যেন শোকের গভীরতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ তদন্তে নিয়েছে আইএসপিআর। প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় দুঃখ প্রকাশ করেছে, আর বিমান বাহিনী প্রধান গুজবে কান না দিতে অনুরোধ করেছেন।
সিঙ্গাপুর ও ভারতের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসায় সহযোগিতার প্রস্তাব এসেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রস্তাবের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠিয়েছেন। –বাংলাদেশ জার্নাল




