ফিচার্ড বিশ্ব

সৌদি আরবে এক বছরে ১৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান । ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে এক বছরে ১৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

সৌদি আরবে গত বছর ১৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে শুধুমাত্র মার্চ মাসেই কার্যকর করা হয় ৮১ জনের। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের পর থেকে সৌদি আরবে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা। যুবরাজ সালমান প্রশাসনিক কাজে সক্রিয় হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। একইসঙ্গে বেড়েছে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের মতো ঘটনাও।

মানবাধিকার সংগঠন রিপ্রাইভ ও দ্য ইউরোপীয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের রিপোর্ট বলছে, ২০১৪ সালে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের গড় হার ছিল ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ। আর ২০১৫ সালে নতুন বাদশা ক্ষমতায় আসার পর থেকে হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

সংস্থা দুটি আরও বলেছে, গত বছরের ১২ মার্চ পর্যন্ত ৮১ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এটি সৌদি আরবের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চসংখ্যক মৃত্যুদণ্ড। এদের মধ্যে বেশকয়েকজন রাজনৈতিক অভিযুক্তও রয়েছেন। সমালোচকদের খুন করার অভিযোগ রয়েছে যুবরাজ সালমানের বিরুদ্ধেও।

২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের গড় সংখ্যা ছিল বছরে ১২৯ জন। ২০২২ সালেই সেটা এক লাফে অনেকটা বেড়ে যায়।

২০১৮ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সৌদি দূতাবাসে খুন হন সাংবাদিক জামাল খাশোগি। অভিযোগ রয়েছে যুবরাজের নির্দেশেই খুন করা হয় খাশোগিকে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, সৌদি আরবের মৃত্যুদণ্ডের আবেদন বৈষম্য অবিচারে ছেয়ে গেছে এবং সৌদি সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এর ব্যবহার নিয়ে মিথ্যা বলেছে। ভিন্নমতাবলম্বী ও প্রতিবাদকারীদের নির্মূল করার জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

গত ছয় বছরে সৌদি আরবে শিশু, নারী ও বিদেশি নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যাও বেড়েছে। সম্প্রতি দেশটিতে মাদকের অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর আগে এশিয়ার এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কেবল ইরানেই ব্যাপক মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো।

 


সংবাদটি শেয়ার করুন