বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব কানাডার `স্বাধীনতা অম্লান ২০২৫’
গত ২৩ মার্চ বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব কানাডার উদ্যোগে অনলাইনে “বাংলাদেশের ৫৩তম স্বাধীনতা দিবস” উদযাপিত করা হয়। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সচিব মানসী সাহা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত এবং মানসী সাহার সাবলীল কণ্ঠে কানাডার জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
এর পর কানাডার Land Acknowledgment পাঠ করেছেন সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ মম কাজী। যে Land Acknowledgment কানাডার প্রতিটি আদিবাসী নাগরিকদের স্বীকৃতি দেওয়া এই ভূমির ঐতিহ্যবাহী রক্ষক হিসেবে এবং তাঁদের এই অঞ্চলের মাঝে বিদ্যমান স্থায়ী সম্পর্ককে স্বীকৃতি ও সম্মান জানানোর লক্ষ্যে কানাডার একটি সরকারি শপথের দলিল।
এরপর বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব কানাডার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও আহবায়ক – মৌ মধুবন্তীর বিজয় দিবসের মহিমা ও মর্মার্থ অনুপ্রাণিত করে লেখকদের এবং তাঁর স্বরচিত কবিতা “বাপি: সময়ের সীমানায় এক অন্তহীন যাত্রা” নিয়ে আসে অন্যমাত্রা।
সহ-সভাপতিদ্বয় – মোয়াজ্জেম খান মনসুর (টরন্টো) এবং শিরিন সাজি (অটোয়া) তাঁদের কবিতা ও মূল্যবান বক্তব্য তুলে আনেন যা ছিলো অত্যন্ত সময়োপযোগী ।
পৃথিবীর এক এক গোলার্ধ থেকে লেখকেরা একসূতায় দূরত্বের সীমানাকে কাছে নিয়ে আসেন প্রযুক্তির আশীর্বাদ ও জুমের মাধ্যমে। তাঁরা ছিলেন: মৌ মধুবন্তী (টরন্টো), মানসী সাহা (টরন্টো), মম কাজী (টরন্টো), মোয়াজ্জেম খান মনসুর (টরন্টো), শিরিন সাজি (অটোয়া)., নারগিস দুজা (টরন্টো), শাহজাহান চঞ্চল (রিয়াদ), ইউসুফ রেজা (বাংলাদেশ),
শুক্লা গাঙুলী(আমেরিকা) শাহীন ইসলাম (আমেরিকা), হেলাল উদ্দিন রানা (আমেরিকা)
এবং বনানী বাবলি (টরন্টো)।
অনুষ্ঠানের কবি-সাহিত্যিকদের গল্প, স্মৃতিচারণ, কবিতার ছন্দ ও নির্যাস আর ভাষাশৈলী মুহূর্তেই নিখুঁত ও নিবিড় হয়ে দেশকে ভালোবাসার মন্ত্রে যেন রঙ ছড়িয়ে গেল। নিয়ে গেল সেই ভয়াল কালো রাতে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ভয়াবহ স্মৃতিগুলোতে। যে রাতে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের হানাদারেরা অতর্কিতে নিরস্ত্র পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের উপরে রাতের অন্ধকারে হামলা করে।
এই একাত্তরের ইতিহাস গণহত্যার ইতিহাস। এই ইতিহাস নারীর উপরে পাশবিক নির্যাতনের মাধ্যমে পরিকল্পিত ধর্ষণের ইতিহাস। এই ইতিহাস পূর্ব বাংলার জনগণের মাতৃভাষার অধিকার নিয়ে লড়াইয়ের ইতিহাস। এই ইতিহাস পশ্চিম পাকিস্তানের দীর্ঘ দিনের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক শোষণের ইতিহাস। যে শোষণের সমাপ্তি ঘটে ১৯৭১ সালের নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে (যদিও আজও পাকিস্তান ক্ষমা চায়নি বাংলাদেশের কাছে রাষ্ট্রীয়ভাবে।)।
আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব, কানাডার সভাপতি মৌ মধুবন্তী এবং আয়োজকদের, যাঁরা প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের এই সুন্দর আয়োজন করে চলেছেন। “বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব, কানাডা”একটি আন্তর্জাতিক লেখক সংগঠন তাই আশাকরি উত্তরোত্তর সুন্দর পৃথিবী গড়ার প্রতিজ্ঞা ও প্রতিশ্রুতিতে এগিয়ে যাক সমগ্র পৃথিবীর কলমযোদ্ধাদের নিয়ে।
যে আয়োজনের মাধ্যমে আমরা বারে বারে ফিরে যাই স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে শুধু উৎযাপনের সীমাবদ্ধতায় নয়, নিয়ে যায় আমাদের প্রবাসী লেখকদের দেশমাতৃকার কাছে। যে দেশমাতা আজ একটি স্বাধীন সার্বভৌম ভূখণ্ড, যে দেশমাতার আছে একটি স্বাধীন নির্ভীক পতাকা।
অক্ষয় হোক আমাদের বাংলার ইতিহাস, বাংলাভাষা, বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও কৃষ্টি। অক্ষয় হোক মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অক্ষয় হোক লক্ষ শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা এবং বীরাঙ্গনাদের আত্মত্যাগের মহিমা।
আর বাংলার মানুষের হৃদয়ে অম্লান হোক কবিগুরুর উপহারে “আমার সোনার বাংলা”। বাংলাদেশ বেঁচে থাকুক গৌরবে সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে যুগে যুগে।
জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু!
২৪ মার্চ, ২০২৫
সংবাদ সংযোগঃ বনানী বাবলি। লেখক, কলামিস্ট। টরন্টো, কানাডা।
[email protected]