কানাডার সংবাদ ফিচার্ড

আজ শেষ হবে মন্ট্রিয়লের আন্তর্জাতিক জ্যাজ ফেস্টের  ৪৫তম আসর

Katie Tupper is a rising Canadian neo‑soul/folk artist from Saskatoon. ছবি: সদেরা সুজন, সিবিএনএ

আজ শেষ হবে মন্ট্রিয়লের আন্তর্জাতিক জ্যাজ ফেস্টের  ৪৫তম আসর

সদেরা সুজন, সিবিএনএ নিউজ ডেস্ক।।  আজ শনিবার মধ্যরাতে সমাপ্তি ঘটবে মন্ট্রিয়লের সবচেয়ে বৃহৎ উৎসব, পর্দা নামবে  আন্তর্জাতিক জ্যাজ ফেস্টিভ্যালের। দশদিন ব্যাপী ৪৫তম জ্যাজের দশম দিন শনিবার, উইক এন্ডে  আবাহাওয়া খুবই সুন্দর থাকায় জ্যাজ ফেস্টিভ্যালে মন্ট্রিয়লের প্লাস দ্যা আটসের মঞ্চগুলো ছিলো সঙ্গীত পিপাষু  মানুষের আনন্দ উচ্ছ্বাস। গত ২৬ জুন থেকে শুরু হয়েছিলো এই বিশাল ফেস্টিভ্যালটি চলবে আজ  মধ্যরাত পর্যন্ত। প্রায় পাঁচশতাধীক কনসার্ট  অনুষ্ঠিত হয়েছে উৎসব স্থলের বেশ কয়েকটি  বিশাল বিশাল মঞ্চ এবং ইনডোরে। নামি-দামি খ্যাতিনামা শিল্পীদের শোগুলো বাইরে অনুষ্ঠিত হয়েছে যেমনি পাশাপাশি ইনডোরের বিশাল হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গীতানুষ্ঠান। দশদিন ব্যাপী এই ফেস্টিভ্যালের প্রথম ক’দিন  বৃষ্টিপাত তাপদাহ থাকায়  কিছুটা ছন্দপতন ঘটেছে। তারপরের বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চার শতাধীক  নামকরা ব্যান্ড দলের শিল্পীরা উপস্থিত হয়ে সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন ঠিক তেমনি বিভিন্ন দেশ ও শহর থেকে হাজার হাজার সঙ্গীত পিপাষুরা উপস্থিত হয়ে সঙ্গীতের তালে তালে নেচেছেন, সঙ্গীত আর যন্ত্রের যাদুকরী স্পর্শে মুগ্ধ হয়েছেন শ্রোতাদর্শকরা।

এববছর প্রতিদিনই মানুষের ঢল নেমেছে উৎসবে কয়েকটি বিশেষ কনসার্টগুলোতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিলো। এই শো চলাকালে পাশের সব ক’টি মঞ্চতে বড় বড় স্ক্রীনে তা পরিবেশন করা হয়।  লাখো সঙ্গীত পিপাষুদের মিলনমেলায় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শত শত সদস্যরা হিমশিম খেতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রতিদিন বিকাল থেকে বিভিন্ন মঞ্চ থেকে বিভিন্ন দেশের বেন্ড শিল্পীরা গান পরিবেশন করে।

এবছরের জ্যাজ ফেস্টিভ্যালে ইনডোর-আউটডোরে একুশটি ছোট-বড় মঞ্চে ছয় শতাধীক  ইভেন্ট হয়েছে।  ত্রিশটি দেশ থেকে খ্যাতিনামা সঙ্গীত শিল্পীরা উপস্থিত হয়েছিলেন মন্ট্রিয়লের আন্তর্জাতিক জ্যাজ ফেস্টিভ্যালে। ৩০০০ জন শিল্পী-সহ শিল্পী এবং পাঁচ শতাধীক জন যন্ত্রশিল্পী অংশগ্রহণ করেছিলো। ছয়টি প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে ফেস্ট চলাকালীন সময়ে। ৩১টি কর্নসাটের টিকিট নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই বিক্রি হয়ে যায়!  ৩০০ জন অনুমোদিত সাংবাদিক এবং ১৬ টি দেশের শতাধীক বিদেশী সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন এ ফেস্টিভ্যালে।

বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য, শৈত্যপ্রবাহ আর তুষারপাতের দেশ বলে খ্যাত কানাডার মন্ট্রিয়লে সামার মানে সম্পূন্ন ভিন্নরকমের অবিশ্বাস্য একটি শহর। সামারে কানাডার বিভিন্ন প্রদেশের শহরে শহরে রকমারি অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। সামার মানেই বিভিন্ন উৎসবের শহর, আনন্দের শহর, বিনোদনের শহর। সাউন্ড সিস্টেমে মিউজিকের ঝংকার আর ক্যামেরার ক্লিকে শত শত, হাজার হাজার  পর্যটকের পদভারে মুখরিত শহর।  প্রবল তুষারপাত আর জীবন যুদ্ধের বিরতীহীন ক্লান্ত জীবনে সামার মানেই দুদন্ড বিনোদন আর আনন্দ উপভোগের সময়। পরিবার পরিজন নিয়ে একান্তে কিছুটা ক্ষণ যাপনের সময়। বহুদেশ, বহুজাতি, বহুমুখী  সংস্কৃতি আর বহুমুখি সৌন্দর্যের দেশ কানাডার ক্যুইবেক প্রদেশের সেন্ট লঁরা নদীর পাদদেশে আইল্যান্ডের নাম মন্ট্রিয়ল। মন্ট্রিয়লের পাশে রয়েছে নদী ডেম্প, আর সবুজ বনানীঘেরা বনাঞ্চল। শীতকালে সাদা তুষারপাতে ঢেকে রাখে সব কিছু যেমনি, সামারেও দেখার মতো সবুজে সবুজ। আবার সামারের শেষান্তে ম্যাফল  লীফের বাহারি রং। কী অদ্ভুত সুন্দর ম্যাফল লীফ। মনে হয় যেনো তাবৎ পৃথিবীটাই রঙ্গীন অদ্ভুত সুন্দর। সামারে ঝাঁকে ঝাঁকে  বিভিন্ন জাতের পাখিরা সারিবব্ধ হয়ে নীলাকাশের নিচ দিয়ে কি সুন্দরভাবে কানাডায় ফিরে আসে খাবারের সন্ধানে, লেইকগুলো ভরে যায় পাখির কলকাকলিতে, আর নদীগুলো ভরে যায় স্পীড বুট আর রকমারী নৌপরিবহনের পর্যটকদের ভিড়ে। একের পর ফেস্টিভ্যালের জন্য পর্যটকদের আগমনে আর মিউজিকের শব্দে আনন্দ উল্লাসে মেথে উঠে মন্ট্রিয়ল। ফ্রাঙ্কোস, আন্তর্জাতিক জ্যাজ ফেস্ট,  ফেস্টিভ্যাল ইন্টারন্যাশনাল নূঁই দাফ্রিকান, গেঁই ফেস্ট, ফায়ার ওয়ার্কস, ফেন্টাসিয়া, নেটিভ ফ্যাস্টিভ্যালসহ কত রকমারি উৎসবে নান্দনিক সাঁজে আর লাখো মানুষের কলরবে জেগে ওঠে মন্ট্রিয়ল।

দেখা হবে আগামী বছর ফেস্টিভ্যালের মাঠে হাজার লাখো মানুষের মাঝে আনন্দউল্লাসে।

এসএস/সিএ
সংবাদটি শেয়ার করুন