পলাশ প্রপোজ / শীতল চট্টোপাধ্যায়
পলাশ ফোটা বনে ফাগুন
বন বসন্ত গানে,
ফুলের ডাকে নাচতে হবে
সাঁওতালি মন জানে।
মন পালানো মনকে নিয়ে
পলাশ রাঙা বনে,
পাথর রঙা মেয়ে-পুরুষ
মন রাখে ফুল মনে।
ধামসা-মাদল দেয় মাতিয়ে
পলাশ ঢাকা মাটি,
সোনা খুলে পরছে মেয়ে
ফুলের গয়নাগাটি।
ওপরেতে নাচছে পলাশ
নিচে আদিবাসী,
দুই নাচে এক যুগলবন্দি
পলাশ ফুলের বাঁশি।
বহুদূরের দূর পেরিয়ে
পলাশ তীর্থ দ্বারে,
অগ্নি রঙা পলাশ ফুলই
ঠাকুর বনের ধারে।
মুখ চেনা নয়, নাচ চেনা নয়
শব্দতে দেয় দোলা,
চেয়ে থেকে মন বোঝে সে
ফাগুন হয়ে খোলা।
পলাশ রঙে আরও গাঢ়
রঙ লেগে যায় প্রেমে,
ঝরছে কথা,ঝরছে পলাশ
পলাশপুরের ফ্রেমে।
পলাশ প্রপোজ পলাশকে দেয়
ভাষায় ভালোবাসি,
প্রপোজ বুকের পলাশ বলে-
তাইতো ফিরে আসি।
ফাল্গুনে ভাষা হবে
মাঘের হাতে খড়ি
ফাল্গুনে ভাষা হবে।
চেতনার শিকড় ছড়াবে
মাতৃভাষার-ভাষাভূমিতে।
অনায়াস বাংলা ভাষার উচ্চারণ পাবে
সাবলীলতা,সক্রিয়তা।
সামনে ফাল্গুন,
বয়ে আনবে ভাষা শহীদের রক্ত আবার,
ফিরে বওয়াবে কৃষ্ণচূড়ায়।
ঝরা পাপড়ির ফোঁটায়-ফোঁটায়
একুশের রোদ্দুর ভিজবে,
সন্তান হারা স্মৃতিতে
কেঁদে উঠবে বাংলা ভাষা।
গন্ধ
উৎসবে আর ফুলের গন্ধ
পাওয়া যায়না,
মানুষের কাছে হৃদয়ের গন্ধ
পাওয়া যায়না,
কথায় আর সুগন্ধ ছড়ায় না,
ইচ্ছের কাছে আতর হয়না
ভালোবাসা।
পৃথিবীর অবশিষ্টের টুকরো কুড়াতে
ফেরিওয়ালায় আসে সকাল,
ছেঁড়া-ভাঙা নিয়ে ফিরে যায় সন্ধে হয়ে।
গন্ধহীন পৃথিবীর কাছে
ততই আমি নেই হয়ে যাওয়ায়।
ঠিকানা-জগদ্দল, পশ্চিমবঙ্গ
ভারতবর্ষ

এসএস/সিএ



