কালো মেয়ে ।।। শীতল চট্টোপাধ্যায়
কার মেয়ে তু্ই কালো মেয়ে?
কোথায় যাসরে একা-একা?
বলনা,কাকে বলেছিস তু্ই
এই ফাগুনে দিবি দেখা।
ওই যে হাতে কাগজটা তোর
হ্যাঁ রে, ওতে কী লিখেছিস?
কলম নাকি মনের নিবে
গোপন কথা কাগজে দিস।
এই তো পথের বাঁক এসেছিস
এর পরে পথ কোন দিকেতে?
সত্যি বলত, কেউ কি আছে
তোরই জন্য দু’চোখ পেতে?
এই যে চেয়ে হাসলি শুধু
কী ভাষা বল, তোর ও হাসির?
শব্দ না থাক তবু যেন
সুর শোনালি উদাস বাঁশির।
ও মেয়ে তোর ওই বাঁশি সে
হোকনা যতই কালো ওটা,
সুর কী কালো হয় কখনো?
সুর যে মনের আলোয় ফোটা।
কালো মেয়ের আলো সুরে
অবুঝে মন কেন ভেজে,
ওই মেয়ে যে অন্য কারও
মনের ভেতর আছে সেজে।
তবু বলি, এই মেয়ে তু্ই
টিপ নিবি রে দোল তিথিতে?
একটি টিপের হলুদ আবির
কপালে তোর দিবি দিতে?
মেয়ে বলল, আচ্ছা এসো,
টিপ দেবে তা কী আর ব্যাপার,
দোলের দিনে আমি এলাম
কালো মেয়ে কই এলো আর?
তাহলে কী টিপ পরাতে
কপালটা ওর নেই আর ফাঁকা?
হয়ত সিঁদুর টিপ পরা- ও,
সিঁথিতে লাল সিঁদুর আঁকা!
ও মেয়ে তু্ই বউ হলি কী?
বর হলো তোর কোন সে ছেলে?
বলার মেয়ে বউ হলে তার
আবির কথা আর কী মেলে!
পথের বাঁক তো একই আছে
হাসির বাঁশি বদলে সানাই,
বরের সাথে এই বাঁকে তু্ই
এলেও আমার সব অজানাই।
কেন এমন হয় রে মেয়ে?
রইলো মনে না দেখা এই,
এমন করে হারাস কেন?
হলুদ আবির খুব গোপনেই।
চাঁচরের আগুন
চাঁচরের আগুন ওড়ে
আকাশের দিকে।
এক সময়
আর আগুন না থাকার ডানা
হারিয়ে যায় অন্ধকারে।
চাঁচরের তালপাতা পোড়া ছাই
পড়ে থাকে ওইখানে।
কাল সকালে
আবির হয়ে যাবে ওই ছাই,
মুখে-মুখে মেখে নেবে ঘাসেরা।
ছাই আবিরের ওপর
কিছু পাখিদের পা দাগ আঁকা হয়,
অজান্তে ছুঁয়ে নেয়
দোল উৎসবের ছাই মাখা
সূচনা ভূমিকে।
সুরহীন বাঁশি
সুরহীন বাঁশি তাই
এ জীবন বাজেনা।
নেই সুরের বাঁশিতে সুর জুড়তে –
সেই শুরুর আদি থেকে
এই চলমান অবধি হেঁটে চলেছি।
হাওয়ার সুর শুনেছি ,
বৃষ্টির সুর বুঝেছি ,
নদীর সুর জেনেছি,
আমার জীবন বাঁশিতে জোড়েনি কেউ।
জানা নেই,
আর কতদিন খুঁজলে তবে-
বাঁশিতে সুর হওয়ার এক
সুরনারীর সাথে দেখা হবে!
নারীও জানেনা
সে-ই যে অবিকল্পের
চিরন্তন সুর।
জগদ্দল, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ




