কানাডার সংবাদ ফিচার্ড

আনন্দ আয়োজনের মেলায়- সিবিএনএ’র এক দশকপূর্তি

আনন্দ আয়োজনের মেলায়- সিবিএনএ’র এক দশকপূর্তি

মন্ট্রিয়ল ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল – কমিউনিটি বিজনেস এন্ড নিউজ এলায়েন্স ( সিবিএনএ )’র দশম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান হয়ে গেলো গত শনিবার। এই কদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই কমিউনিটিতে খুব প্রচার প্রচারণা ছিল অনুষ্ঠানটি ঘিরে। অনুষ্ঠানের আগের রাতে সিবিএনএ’র কর্ণধার সদেরা সুজন স্বয়ং ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেন, “ফেসবুক দেখছি সিবিএনএ-ময় হয়ে গেছে”। অনেকদিন ধরে মহড়া হচ্ছিল – গানের, নাচের, গীতিনক্সার, আবৃত্তির। দর্শকদের কৌতূহলও ছিল, ছিল প্রত‍্যাশাও। দর্শকপ্রত‍্যাশা পূরণ হয়েছিল কি? এবিষয়ে পুরো অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমন কজনের মতামত দেখা যাক। দেখা যাক তাঁরা কি বলেন।

পেশাগত কারণে বিশ্বের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে ছুটে চলা, নানা সংগতি অসংগতি নির্দ্বিধায় বলে যাওয়া/লিখে যাওয়া ভ্রমণ-সাহিত্যিক, অণুজীব বিজ্ঞানী ড. শোয়েব সাঈদ অনুষ্ঠান নিয়ে একটি লেখা পোস্ট করেছেন ফেসবুকে। তাঁর প্রতিক্রিয়ার একটি অংশ ছিল এরকম “ … স্বাধীনতার মাসে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে আয়োজকগণ অভিবাসী দর্শকদের আবেগময় দেশপ্রেমের একেবারে গহীনে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। অমর একুশ থেকে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতৃত্ব আর রক্তস্নাত স্বাধীনতাকে অনুষ্ঠানের মূল উপজীব্য করে উপস্থাপনের মাধ্যমে”।

সিবিএনএ-এর ১০ম বর্ষপূর্তির ছবির অ্যালবাম

তিনি লেখার আরেক অংশে উল্লেখ করেছেন, “ ….. অনুষ্ঠানটি থেকে একটি উদাহরণ দিচ্ছি। ভাবতে পারেন ভিন্ন ভাষার ভিন দেশে জন্ম নেওয়া সাত বছরের শিশু ঈয়ারা তার মায়ের হাত ধরে বিপুল সংখ‍্যক দর্শকের সামনে মঞ্চে অবলীলায় কিভাবে বিরতিহীনভাবে মুখস্ত আবৃত্তি করে গেল আবু জাফর ওবায়দুল্লার ‘কোন এক মাকে’! প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে এই ছোট বাচ্চাটিকে তৈরি করার পেছনে মা বাবার পরিশ্রমের মূল মন্ত্রটি কিন্তু ভাষা আর দেশ প্রেমের কমিটমেন্ট”। ড. শোয়েবের লেখার শিরোনাম ছিল, ‘একটি ক্লিন লেবেল অনুষ্ঠান’।

বিশিষ্ট ব‍্যবসায়ী, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠক শামীমূল হাসান অনুষ্ঠানটি একটানা দেখেছেন সস্ত্রীক। তাঁর ভালো লেগেছে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্ব বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যকে ধারণ করে তৈরি করা হয়েছে দেখে। এরকম অনুষ্ঠানই স্বদেশের গৌরব গাঁথাগুলোকে প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে, বললেন তিনি।

সিবিএনএ-এর ১০ম বর্ষপূর্তির ছবির অ্যালবাম

মন্ট্রিয়ল ফ্রেঞ্চ স্কুল বোর্ডের বারবার নির্বাচিত সাবেক কমিশনার খোকন মনিরুজ্জামান একটি চ‍্যানেলকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, প্রবাসে একটি বাংলা মিডিয়ার দশ বছরে পৌঁছা অনেক বড় অর্জন।সিবিএনএ সেই অর্জনটি করতে পেরেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন এই পথচলাটি তাদের অসাধারণ এবং দশকপূর্তির এই অনুষ্ঠানটিও বেশ চমৎকার।

তাজুল মোহাম্মদ- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, লেখক, গ্রন্থকার। অনুষ্ঠানস্থলেই বললেন, এই অনুষ্ঠান ঘিরে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম আর জমজমাট পরিবেশনা প্রমাণ করে সিবিএনএ’র দশম বর্ষপূর্তির সফলতা।

নাজমা আক্তার কানাডায় নতুন। বাংলাদেশে শিল্পকলায় পুরো পরিবার জড়িত ছিল। তাঁর অনুযোগ – হলের পেছন দিকে অবিরাম আলাপচারিতা আর অনুষ্ঠান উপভোগের চেয়ে কিছু মানুষের ফটো সেশনে সারাক্ষণ ব‍্যস্ত থাকা মঞ্চের সুন্দর পরিবেশনাগুলোকে বিঘ্নিত করেছে। তবে তিনি ব‍্যস্ততায় ভরা এই প্রবাসেও এরকম অনুষ্ঠান করা যায় দেখে অবাক ও একই সাথে অনুপ্রাণিত হয়েছেন বলে জানালেন।

সিবিএনএ-এর ১০ম বর্ষপূর্তির ছবির অ্যালবাম ৩

মন্ট্রিয়লে অনুষ্ঠানের জন্যে হল পাওয়া এখন খুব কঠিন উল্লেখ করে সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠক জিয়াউল হক জিয়া বলেন, আরও ভালো আরেকটি হল পাওয়া গেলে সুন্দর এই অনুষ্ঠানটি আরও চমৎকারভাবে ফুটে উঠতো।

এরকম বহু দর্শক তাদের মতামত দিয়ে অনুষ্ঠান নিয়ে অবিমিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

লেখার শুরুতে স্থানীয় সংষ্কৃতিপিপাসুদের কৌতূহল ও প্রত‍্যাশা নিয়ে যে প্রশ্নটি ছিল এসব মন্তব্যে এর উত্তরটি উঠে এসেছে বলে ধরে নেয়া যায়।

সিবিএনএ’র দশম বর্ষপূর্তিতে যে অনুষ্ঠানটি হলো সেখানে দলমত নির্বিশেষে প্রচুর মানুষের উপস্থিতি কোট ডে নীজের হলটিকে একখন্ড বাংলাদেশে রূপ দিয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করা হয়, কেক কাটা হয়। বুক স্টল, শাড়ি গয়না আর খাবারদাবারের স্টল বসে। মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, সঙ্গীতশিল্পী, ব‍্যবসায়ী, পেশাজীবীদের সংবর্ধনা পর্বে সিবিএনএ’র পক্ষ থেকে তাঁদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মানিত করা হয়, পরানো হয় উত্তরীয়।

সাংস্কৃতিক পর্বটি সাজানো হয় প্রচুর অংশগ্রহনকারীর সমন্বয়ে। নাচে, গানে, আবৃত্তিতে প্রতিটি পরিবেশনায় দৃপ্তভাবে ফুটে ওঠেছিল বায়ান্ন থেকে একাত্তর – বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস। বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঋতুবৈচিত্র্র্রের থিমগুলোও পরিবেশনার পরতে পরতে পরমযত্নে ধারণ করা হয়।

এর আগে বিকেলে উপস্থিত সুধীজনদের নিয়ে সিবিএনএ পরিবার ও উৎসব কমিটি প্রতিষ্ঠানটির জন্মদিনের কেক কাটে, বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করে।এবারের সিবিএনএ’র বার্ষিক ম‍্যাগাজিনটি ১৭৪ পৃষ্ঠার। সব পৃষ্ঠায়ই রঙিন, বুক সাইজে প্রকাশিত।

অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিকল্পনা, গ্রন্থণা আর সমন্বয় করেন জনপ্রিয় উপস্থাপক ও কন্ঠশিল্পী শর্মিলা ধর। পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনাও করেন তিনি। বরাবরের মতো তাঁর কোমল কথা-পদ‍্যে সাজানো সাবলীল উপস্থাপনা অনুষ্ঠানটিকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একসূত্রে গেঁথে রেখেছিল। উপস্থাপনায় তাঁর সহযোগী ছিলেন সুমন কর।

সিবিএনএ’র কর্ণধার ও এই উৎসবের জন্যে গঠিত কমিটির যুগ্ম আহবায়ক সদেরা সুজন শুভেচ্ছা বক্তব‍্যে মিডিয়া কর্মকাণ্ডে তাঁর এই দীর্ঘ পথচলায় এবং বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও সহযোগিতাকারী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানের অন‍্যতম উদ্যোক্তা ও মূল সমন্বয়ক উৎসব কমিটির অপর যুগ্ম আহবায়ক দীপক ধর অপু শিল্পী, কলাকুশলী, দর্শক ও উৎসব টিমের সকলের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, সিবিএনএ – সাংবাদিক, আলোকচিত্রী ও প্রকাশনা-সম্পাদক সদেরা সুজনের প্রাণের প্রতিষ্ঠান। তাঁর সাথে স্ত্রী তামসী দেবরায় রুবি ও তিন সন্তানের অক্লান্ত শ্রমের ফসল এই অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও প্রকাশনা মাধ্যম। এর বহু আগে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘দেশদিগন্ত’ নামে একটি ম‍্যাগাজিন ছিল মন্ট্রিয়লের একটি জনপ্রিয় নিয়মিত প্রকাশনা।

এসএস/সিএ
সংবাদটি শেয়ার করুন