বৈশাখের রবীন্দ্র কোলাজ ।।।। শীতল চট্টোপাধ্যায়
মেঘ মুখে রবীন্দ্রনাথই
হে বৈশাখ,
হে আগত পঁচিশ,
ওই ওপর পারের মেঘ মুখে দেখা দেওয়ার
হে রবীন্দ্র কবি।
আগাম আবহাওয়া বার্তা ছাড়াই
ভুবনডাঙ্গার ঈশান কোণে
মেঘ মূর্তিতে দেখা দেওয়ার তিনি,
হ্যাঁ,খুব ভালো করে চেয়ে-চেয়ে দেখলেও
মেঘ মুখে রবীন্দ্রনাথই।
পঁচিশের কোপাই ঢেউ থামিয়ে স্থির হয়েছে
উড়ে এলেই মেঘ মুখের
প্রতিচ্ছবি ফোটাবে বলে,
খোয়াইয়ের বন পত্রও একটু নড়ে উঠবে
ওপরে পেরিয়ে যাওয়ার
চেনা মেঘ মুখ দেখতে পেলেই,
জোড়া সাঁকোর পাতা ছাদের শুন্যতায়
ওপার থেকে উড়ে আসে এক-আধটা পাখি
কিছু রবীন্দ্র কথা রেখে যায়
পঁচিশের আলোয়,
একটি “রবি” শব্দে
সব শূন্যতা
পায় পূর্ণতা।
অনুভব
পাইনি তবু পাওয়ার জন্য
ঘর ছেড়ে বই চক্ষু চেয়ে,
রবীন্দ্রনাথ মন বেঁধে দেন,
তখন ভাবি যাবো পেয়ে।
সুরে কথা কইতে গেলে
সেসব কথা জাগায় হৃদয় ,
হৃদয়েতে রবীন্দ্রনাথ
তাঁর কথাতেই কথারা বয়।
শোক পেয়েছি, পেয়ে যখন
ভেজাচ্ছি চোখ-চোখের জলে ,
রবি তখন আপন দুঃখ
ঝরান আমার বক্ষ তলে ।
মনের সাথে এই প্রকৃতির
এই যে থাকা আপনজনে,
আপন ভাবান রবীন্দ্রনাথ
থেকে আমার আপন মনে।
সকাল হলেও রাত্রি দেখি
জমে থাকে আঁধার বুকে,
আমার ভেতর রবীন্দ্রনাথ
দুঃখ বোঝান ওনার দুখে।
খুশি ভরা মনটা যখন
আনন্দ গান এমনিতে গাই ,
আমার ভেতর রবীন্দ্রনাথ
গাইছেন তখন,সেই গানই পাই।
কালবোশেখির ঝড় এলে ভয়
বৃষ্টি এসে বুকে ঝরে,
এই অনুভব রবীন্দ্রনাথ
দিলেন থেকে হৃদয় ঘরে ।
ঠাকুর
ঠাকুরের জীবন অন্তিম বলে
থাকেনা কিছুই ,
মৃত্যুহীন ঠাকুর তাই ।
প্রতিদিনের সহজ পাঠের
পাঠ্য পুষ্পে
পূজিত হন যে ঠাকুর ,
তিনিই রবীন্দ্রনাথ ।
বৈশাখের চব্বিশ দিন পারের পরে
রবীন্দ্র ভোরে জাগে পঁচিশ ।
রবি আলোয় জড়িয়ে যায়
দৈনন্দিনের দিবা আলো ,
বাতাসও বুঝতে পারেনি
আপন সুর হারিয়ে
রবীন্দ্র সুর হয়ে গেছে কখন !
রবীন্দ্র পায়ে স্পর্শীত হওয়ার
শান্তিনিকেতনী যত পথ
সব পথেই রবীন্দ্রনাথের বলা হয়ে
ঠোঁট নাড়ছে গাছের পাতা,
রবীন্দ্রনাথের চরণ চলার ছন্দ হয়ে
খসে পড়ছে পাতা ,
পথের ওপর জেগে উঠছে
রবীন্দ্র পদধ্বনি, এ সবেই
আকার হীন ঠাকুরের
অলৌকিক উপস্থিতি যেন!
মংপু পাহাড়
মংপু পাহাড় আগলে রাখে
রবির স্মৃতি ঠান্ডা ঘেরায়,
তাঁর বিছানা আজও যেন
রবি গায়ের গন্ধ ফেরায়।
সামনে তিনি আবক্ষতে
পাহাড় সাথে চুপ বিনিময়,
কলম ছাড়াই মন লিখে যায়
লেখার পাতা মংপু যে হয়।
ফুলের গন্ধ, ঠান্ডা হাওয়া
হাওয়ার ভাষা পাহাড়িয়া,
ওই ভাষাটাও রাবীন্দ্রিকেই
হাওয়ায় তিনি গেছেন দিয়া।
সবার মাঝে, সবার চোখে
তবু রবি এক আলাদায়,
মেঘ-কুয়াশায় রোদ ফোটেনা
রবীন্দ্রনাথ আলোতে চায়।
মংপু পাহাড়,পাহাড়বাসীর
রবীন্দ্রনাথ,রবি ঠাকুর,
জন্ম দিনে পরায় মালা
ওদের ভাষায় গায় রবি সুর।
ঠিকানা-জগদ্দল,উত্তর২৪পরগণা
পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ



