শা মী ম মে হে দী`র একগুচ্ছ ক বি তা
পৃথিবীর বয়স কমছে
সংকোচিত চারদিক গলে যাচ্ছে রক্তাক্ত
উদগীরণে
ঐ দূর দেশ-তুমি নও কারো
ভূদেশ প্রান্তর এ আমার ও।
ক্ষেপনাস্ত্রে পুড়ে যাচ্ছে সকালের আলো
অন্ধকারে ক্ষয়ে যাচ্ছে পৃথিবী
অস্থিরতারকাল বহমান
আমরা ক্লান্ত, যুদ্ধে যুদ্ধে চলছে প্রতিবেশ
ক্রমেই বাড়ছে বিভক্তি দেশ থেকে দেশ
আমাদের শূন্যতায় দীর্ঘায়িত প্রান্তর,
ভিয়েতনামা, তেল আবিবা, ইরাক, ইরান…
পৃথিবীর বয়স কমছে – আমরা ছোট হয়ে আসছি
পরিযায়ী আটকে যাচ্ছে সীমারেখায়
সমান্তরাল সরলরেখায় সমকালীন বরাবর
শান্তি চেয়েছি শুধু।
যুদ্ধ নয় শান্তি, বিদ্বেষ নয় মানবতা
যুদ্ধ সেতো বড় নিঠুর- মরণাস্ত্রের সামনে
দাঁড়িয়ে থাকা ভয়ার্ত নাক,মুখ।
অথর্ব দেহ টেনে নিয়ে চলে বিশ্বমানচিত্রে
জেগে ওঠোক চিত্ত -এখনো হয় নি ভোর
দূরে কোথাও ডাকছে
নতুন দিনের আলো
ফুল
ভুলগুলো সব ফুল হয়ে যাক, ফুলগুলো সব সুবাস ছড়াক
ভুলগুলো সব ফুল হয়ে যাক, ফুলগুলো সব মেল বাড়াক
হাতগুলো সব গতি বাড়াক, হৃদয়গুলো দ্যুতিছড়াক
ফুলগুলো ফুল হয়ে যাক, ভুলগুলো সব ফুল হয়ে যাক
কন্টাক্ট লেন্স
যা দেখছি সব সত্যি নয়
যা দেখছো তা ও!
চোখ যা দেখে, তার পেছনে ও
তৃতীয় নয়ন সজাগ থাকে
অন্তর্বাস
আদিমতা ছেড়ে সভ্যতায় এসেছিলাম
চোখমেলে বিস্মায়ণের গোলকধাঁধা
আহা! আমরা কি এখনো গাধা?
ভয়
ক্লান্তুিকর রাত দীর্ঘ – সফেদ সেতো এখনো অধর!
জেগে উঠুক চিত্ত -বিস্ময়ের বাংলাদেশ
তুমি নও দূরে
ব্যক্তিগত অনিহা
চাইলেই এক করতে পারতে; ডালপালায় দেয়া যেতো বাহারি রঙের ফুলফল। তারকারাজিতে ভরে ওঠতে পারতো ফুলফল লতাগুল্ম।
হয়তো অনিশ্চিত স্বপ্নের দৌড়ে আমাকে আবারো হুমড়ি খেয়ে যেতে হবে, মুখ থুবড়ে যেমন করেছে প্রতিবেশ; স্বজন।
যদি এমন হতো আমি ঘুমেই আছি, এখনো।
ঘুম থেকে জেগে দেখবো, এখনো হয়নি ভোর। আসসালাতু খাইরুম মিনাননার…
আমি আবারো এ পাশ ফিরে ওপাশ ফিরে খুঁজে ফিরবো আমার প্রিয় সকাল। উষ্ণতায় ফেঁপে উঠবে আমার চৌয়াল
কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে উদর গলে লেলিয়ে ফিরবে
লেলিপ্ত লেলিহান, ঠোঁট বেয়ে, ওষ্ঠ বেয়ে
নিচ থেকে আরো নিচে গেরিখাঁদ পেরিয়ে ফিরে যাবো
বাড়ি, আমাদের চেনাবাড়ি।
হয়তো তখনো ভোরের শিশির যাবে না খসে,
সবুজ ঘাসের বুকে চিকচিক করে উঠবে না আলতোপায়ের নাচন। আমি তো জানিই
আমার এ অনিশ্চিত ব্যক্তিগত অনুরাগ
তোমাকে ছোঁবে না কখনো
তবু চেয়ে থাকবো -যদি মিরাকল ঘটে।
কোন অতীতের সেইসব স্বর্নালী
অতীত আদতে ছিলো কি কখনো!
তবু ও স্বপ্নবুনি- জানি স্বপ্নবাজ ফিরে না শূন্যহাতে।
আবারো হঠাৎ তাঁর জন্য
কেনো এমন করলে? এত বেশি অনুরাগ-আমি থমকে থেমে ছিলাম।
মুচ্ছা যাচ্ছিলাম কলুষিত অভিব্যক্তি প্রকাশে। চাইনি, বিশ্বাস-করো এ হয়তো আমি নই। অথবা আমার ভেতরের কেউ নয়।
তবু তুমি আমাকেই করলে আবিষ্কার। আড় চোখ, চেনা মুখ,পথচারী
এত এত মিডিয়া, তবু তুমি তাই করলে,
আর দশজন যা করে, অথবা আমি ও।
ভেবেছিলাম তুমি খুঁজবে,আমাকে বুঝবে, চেয়ে দেখো কি সুন্দর সত্যের মতো মিথ্যে গুলো। চারপাশ ঘেরা কেন্দ্রবৃত্ত উত্তরণের নেই আর কোন সহজ পথ।
চাইছিলাম চারপাশটা আগে মেলেধরি
তারপর না হয় অন্যকিছু।
চেয়ে দেখো গাছে গাছে আমের মুকুল; ফাল্গুনের হিমেল বাতাস বইছে।
আর ক’টা দিন পরই সোনাদিন, এই তামাটে রোদে পোড়ামুখ তোমাকে হতাশ করবে না কোনদিন।
শামীম মেহেদী, জন্ম পাঁচ নভেম্বর উনিশশো চৌরাশি কমলগঞ্জে। কবিতা,কলাম লেখা,সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও গণমাধ্যমে রেখে চলেছেন চিহ্ন।
সংগঠক ও প্রগতিশীল কর্মসম্পাদনায় নিজেকে রেখেছেন বরাবর সামনে। স্বাপ্নিক মানুষ শামীম মেহেদী ভ্রমণে ছুটে যেতে চান বহুদূর…
প্রকাশিত গ্রন্থ :
ধুলো ওড়া শহরে ২০০৪
ক্লান্ত খালি পা বুক পকেটে লুকানো ২০২৫
এই চাঁদ দূর চাঁদ ( অপ্রকাশিত, যন্ত্রস্থ)
CBNA24 রকমারি সংবাদের সমাহার দেখতে হলে
আমাদের ফেসবুক পেজে ভিজিট করতে ক্লিক করুন।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করতে পোস্ট করুন।



