যুক্তরাজ্যে গ্রুমিং গ্যাংয়ের ৮ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনজন বাংলাদেশি
যুক্তরাজ্যে শিশু যৌন নিপীড়ক চক্র গ্রুমিং গ্যাংয়ের আট সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) এই আট আসামির বিরুদ্ধে মোট ৩৪টি অভিযোগের অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি অভিযোগ ধর্ষণের।
‘অপারেশন ওক’ নামের দীর্ঘমেয়াদী এক তদন্তের অংশ হিসেবে বেশ কয়েকজন নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। তারা শিশু বয়সে ওই চক্রের নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তারাও কথিত অপরাধের সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে সংঘটিত এসব যৌন নিপীড়নের ঘটনার তদন্ত করছে যুক্তরাজ্যের গোয়েন্ট পুলিশ।
ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কাউন্টি ল্যাঙ্কাশায়ারের পত্রিকা ল্যাঙ্কসলাইভ এর প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ১৪ জুলাই ল্যাঙ্কাশায়ার, নিউপোর্ট, সোয়ানসি, লন্ডন, বার্মিংহাম, এডিনবরা এবং স্কটল্যান্ডের আর্গিল ও বুট এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ওই আটজনকে আটক করে। আগামী ২৪ জুলাই নিউপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হওয়ার শর্তে পরে তাদের জামিন দেওয়া হয়।
ওয়েলসের গোয়েন্ট পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, গ্রেপ্তারদের বয়স ৫৪ থেকে ৭৩ বছর; তারা সবাই ব্রিটিশ নাগরিক।
তাদের মধ্যে তিন বাংলাদেশি হলেন- মোহাম্মদ শেখ আব্দুল হান্নান (৫৪), শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহ (৭৩) এবং আমিনুর রহমান চৌধুরী (৫৮)।
এর মধ্যে হান্নানের বিরুদ্ধে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীকে দুইবার ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণে তিনবার সহায়তা ও উসকানি দেওয়া এবং ধর্ষণের জন্য দুইবার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তাহির উল্লাহর বিরুদ্ধে এক নারী ও কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধেও আনা হয়েছে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ।
বাকি ৫ আসামি হলেন- শাকিল বাবর, শফাক আহমেদ, আশান তাকভি, মুরাদ আলী ও কেভিন লরেন্স। এর মধ্যে কেভিন ছাড়া বাকি চারজনই পাকিস্তানি।
শাকিলের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে চারবার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। শফাকের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে এক নারী ও কিশোরীকে সাতবার ধর্ষণের অভিযোগ। এছাড়া এক কিশোরীকে দুইবার ধর্ষণে সহায়তা এবং আরেক নারী ও কিশোরীকে যৌনপেশায় বৃত্তিকে বাধ্য করার অভিযোগ আনা হয়।
আশান তাকভির বিরুদ্ধে আনা হয়েছে এক কিশোরীকে তিনবার ধর্ষণের অভিযোগ। মুরাদ আলীর বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে দুইবার ধর্ষণের অভিযোগ এনেছে পুলিশ।
এছাড়া এক নারীকে ধর্ষণের জন্য দুইবার ষড়যন্ত্র এবং আরেক নারীকে যৌন পেশায় বাধ্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয় কেভিনের বিরুদ্ধে।
এর আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে যুক্তরাজ্য জুড়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ চক্র ‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর তৎপরতার কথা উঠে আসে। গত জুনে ব্রিটিশ এমপি রুপার্ট লোর এক বক্তব্যে ‘গ্রুমিং গ্যাং’ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সে সময় ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে রুপার্ট লো ভুক্তভোগীদের বয়ানে এই গ্যাংয়ের নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেছিলেন।
সে সময় অনুসন্ধানের বরাতে যুক্তরাজ্য সরকার বলেছিল, ‘‘এই গ্যাংয়ের অপরাধীদের বেশিরভাগই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ট্যাক্সি চালক ও স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী। চক্রটির হাতে গত এক দশকে আড়াই লাখের বেশি ব্রিটিশ তরুণী ও শিশু ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।’’
গোয়েন্ট পুলিশের ডিটেক্টিভ চিফ সুপারিনটেনডেন্ট অ্যান্ড্রু টুর্ক বলেন, “অপারেশন ওক সাউথ ওয়েলসে দলবদ্ধ শিশু যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত। সিপিএসের সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছি; যেখানে আট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা সম্ভব হয়েছে।
আমাদের তদন্তের মূল লক্ষ্য ভুক্তভোগীদের সহায়তা করা। আমি জানি, এই ধরনের তদন্ত সমাজে উদ্বেগের সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু ভুক্তভোগীদের স্বার্থে এবং তদন্তের সততা বজায় রাখতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন কিছু পোস্ট করা যাবে না, যা আদালতের কাজকে প্রভাবিত করে।”
-বাংলাদেশ জার্নাল



