যানবাহনে আগুন লেগে ভবনে ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মন্ট্রিয়ালের একটি মসজিদ
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন লাগার ঘটনাটি অপরাধমূলক কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার ভোররাতে একটি গাড়িতে লাগা আগুন ছড়িয়ে পড়ে মন্ট্রিয়ালের একটি মসজিদের বাইরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ রোববার জানিয়েছে, আগুন লাগার কারণ এখনো তদন্তাধীন।
শুক্রবার রাত প্রায় ২টার দিকে কোট-দে-নেইজ এলাকার দ্য কুরত্রে অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত বায়তুল মোকাররম মসজিদে অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের ডাকা হয়।
দ্য গেজেটকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ট্রিয়াল নগরীর অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ জানায়, “ভবনের ভেতরের অংশ সম্পূর্ণভাবে পরিদর্শন করা হয়েছে এবং আগুন ভেতরে ছড়িয়ে পড়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”
অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ আরও জানিয়েছে, এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।
রোববার বিকেল পর্যন্ত আগুনের কারণ ও ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মসজিদের সভাপতি মোহাম্মদ হায়াত খান জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ভবনটি বন্ধ রয়েছে।
খান বলেন, “ধোঁয়া ও দুর্গন্ধ পুরো মসজিদে ছড়িয়ে পড়ে। কার্পেটগুলো সব ধোঁয়া শুষে নিয়েছে। বিমা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ধোঁয়ার প্রভাব দূর করতে হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মসজিদটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এখানে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয়। আমাদের কমিউনিটির মানুষজন খুবই ঘনিষ্ঠ। এ ঘটনায় সবাই হতবাক ও আবেগাপ্লুত।”
মসজিদের সভাপতির সচিব মোহাম্মদ তানজিল রহমান জানান, আগুনে পুড়ে যাওয়া যানটি প্রচলিত কোনো ভ্যান ছিল না; এটি ছিল ইঞ্জিনবিহীন একটি বক্স ট্রেলার।
হায়াত খানের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রেলারটি ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মসজিদের পাশে রাখা ছিল। এটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি নগর কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করেছিলেন।
খান বলেন, “আমি নগর কর্তৃপক্ষকে কয়েকবার ফোন করেছি। তারা বলেছিল ট্রেলারটি সরিয়ে নেবে, কিন্তু কখনোই তা করেনি।”
তিনি জানান, ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে সহায়ক হতে পারে—এমন নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ তিনি পুলিশকে দিয়েছেন।
খান বলেন, “আমি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখি, একজন ব্যক্তি আমার পার্কিং লটে প্রবেশ করছে। ভিডিওটি আমি পুলিশের কাছে পাঠিয়েছি।”
তবে মন্ট্রিয়াল পুলিশ তাঁর বক্তব্য নিশ্চিত করতে পারেনি। পুলিশের একজন মুখপাত্র দ্য গেজেটকে জানিয়েছেন, ঘটনাটি এখনো অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের তদন্তাধীন। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলাটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে।
পুলিশ নজরদারি ক্যামেরার ওই ফুটেজ পেয়েছে কি না, সেটিও মুখপাত্র নিশ্চিত করতে পারেননি।
ঘटनাটি নতুন করে আলোচনায় আসে শনিবার রাতে। মাউন্ট রয়্যালের সংসদ সদস্য অ্যান্থনি হাউসফাদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, মসজিদটি এমন একটি ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেটিকে তিনি “আরেকটি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ও ঘৃণাজনিত অপরাধের তদন্ত” বলে উল্লেখ করেন।
তবে মন্ট্রিয়াল অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ কিংবা মন্ট্রিয়াল পুলিশ—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত বলেনি যে, ঘটনাটি অগ্নিসংযোগ বা ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে শনিবার ডেকারি বুলেভার্ডে ইহুদি মালিকানাধীন কোশের রেস্তোরাঁ ‘নোয়াম’ সন্দেহভাজন অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুড়ে যায়। ওই আগুনের ঘটনা মন্ট্রিয়াল পুলিশের অগ্নিসংযোগ তদন্তকারী দল খতিয়ে দেখছে। তবে তদন্তকারীরা এখনো এর উদ্দেশ্য বা সম্ভাব্য কারণ নির্ধারণ করতে পারেননি।
-সূত্রঃদ্য গেজেট



