বাংলাদেশ ভ্রমণে উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করল কানাডা
কানাডীয় নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে দেশটির সরকার। কানাডা সরকারের সর্বশেষ ভ্রমণ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে।
গত ১০ আগস্ট ২০২৬ হালনাগাদ করা নির্দেশনায় রাজনৈতিক বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, দেশব্যাপী হরতাল এবং সহিংসতার কারণে জনজীবন ও যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক সমাবেশ থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কানাডীয় নাগরিকদের।
নির্দেশনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে রাজনৈতিক সহিংসতা, অপহরণ এবং বিচ্ছিন্ন জাতিগত সংঘর্ষের গুরুতর ঝুঁকির কারণে সেখানে সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এসব এলাকায় বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে। কক্সবাজারের অবকাঠামোর অবনতি এবং বিশুদ্ধ পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
কানাডার ভ্রমণ পরামর্শে বলা হয়েছে, সারা বাংলাদেশেই সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা রয়েছে—বিশেষ করে ঢাকায়। হোটেল, রেস্তোরাঁ, উপাসনালয়, পর্যটনকেন্দ্র, বিপণিবিতান, বিমানবন্দর এবং গণপরিবহনকেন্দ্র সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হতে পারে। জনবহুল স্থানে অবস্থানের সময় নাগরিকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ডেঙ্গু, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস-এ, ম্যালেরিয়া ও জলাতঙ্কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে অপর্যাপ্ত হিসেবে বর্ণনা করে বলা হয়েছে, গুরুতর অসুস্থতা বা আঘাতের ক্ষেত্রে রোগীকে সিঙ্গাপুর অথবা থাইল্যান্ডে স্থানান্তরের প্রয়োজন হতে পারে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের স্থানীয় আইন মেনে চলার নির্দেশ দিয়ে মাদক, অ্যালকোহল, নিষিদ্ধ স্থানে আলোকচিত্র গ্রহণসহ কয়েকটি অপরাধের কঠোর শাস্তি সম্পর্কেও সতর্ক করেছে কানাডা সরকার।
তবে এই নির্দেশনার অর্থ সমগ্র বাংলাদেশ ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা নয়। দেশের জন্য বর্তমান সতর্কতার মাত্রা হচ্ছে—“উচ্চমাত্রার সতর্কতা অবলম্বন করুন”। শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: কানাডা সরকার



