কানাডার সংবাদ ফিচার্ড

কানাডাকে ‘শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে’—ট্রাম্পের নতুন হুমকি

কানাডাকে ‘শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে’—ট্রাম্পের নতুন হুমকি

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যসংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কানাডাকে এবার ‘শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে’। একই সঙ্গে কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন করে কঠোর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন তিনি।

বুধবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বাণিজ্য প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে কানাডা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, কানাডা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যায্য বাণিজ্যিক সুবিধা ভোগ করছে এবং ওয়াশিংটন আর এমন পরিস্থিতি মেনে নেবে না।

বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের নির্দিষ্ট কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প আরও হুমকি দিয়েছেন, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কানাডায় তৈরি সব গাড়ি, ট্রাক ও গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপরও ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হতে পারে।

বাণিজ্যচুক্তির আলোচনায় কানাডীয় হালকা যানবাহনের শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ এবং ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু মাঝারি ও ভারী ট্রাকসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে শুল্কছাড় নিয়ে মতবিরোধের কারণে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয়নি।

ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারোও কানাডার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, কানাডা একটি সুবিধাজনক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও ভালো প্রস্তাব পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

অন্যদিকে, মার্কিন শুল্কের জবাবে কানাডা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ৭০০টির বেশি মার্কিন পণ্যে ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ির যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিকস, পোশাক, আসবাব, যন্ত্রপাতি ও প্রক্রিয়াজাত খাবারসহ বিভিন্ন পণ্য এর আওতায় পড়বে। কানাডার পাল্টা শুল্ক আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।

ক্ষতিগ্রস্ত কানাডীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকার ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের একটি সহায়তা প্যাকেজও ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সুদমুক্ত ঋণ ও ঋণ পরিশোধে দীর্ঘ মেয়াদের সুযোগ থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেছেন, কানাডা ন্যায্য ও সম্মানজনক বাণিজ্যচুক্তি চায়; তবে দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা এবং কর্মসংস্থান রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকার পিছপা হবে না।

অর্থনীতিবিদেরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে কানাডায় পণ্যের দাম ও বেকারত্ব বাড়তে পারে। প্রায় ৯০ হাজার চাকরি ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কাও করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুই দেশের সমন্বিত গাড়ি উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও ভোক্তারাও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

তথ্যসূত্র: Reuters—ট্রাম্পের নতুন হুমকি, Reuters—কানাডার পাল্টা শুল্ক

এসএস/সিএ
সংবাদটি শেয়ার করুন