কানাডার সংবাদ ফিচার্ড

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ কমিয়ে দেশের মধ্যেই ঘুরছেন কানাডীয়রা

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ কমিয়ে দেশের মধ্যেই ঘুরছেন কানাডীয়রা

কানাডা–যুক্তরাষ্ট্রের চলমান রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ কমিয়ে দেশের অভ্যন্তরেই ঘুরে বেড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে কানাডীয়দের। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে কানাডার অভ্যন্তরীণ বিমানযাত্রীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিমানযাত্রী চলাচল জুলাইয়ে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সংখ্যা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নিচে রয়েছে।

কানাডার কয়েকটি বড় বিমানবন্দরেও যাত্রীসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। জুলাইয়ে ভ্যাঙ্কুভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী কমেছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। মন্ট্রিয়লের পিয়েরে এলিয়ট ট্রুডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২ শতাংশ এবং ক্যালগেরি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ যাত্রী কমেছে।

২০২৫ সালের শুরু থেকে টানা ১৫ মাস কানাডীয়দের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের হার নিম্নমুখী ছিল। ২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রথমবারের মতো এই প্রবণতায় কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেলেও জুলাইয়ে আবারও আন্তঃসীমান্ত বিমানযাত্রা কমেছে।

স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার পৃথক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে কানাডীয়দের যুক্তরাষ্ট্রে অবকাশযাপনমূলক ভ্রমণ ২১ দশমিক ৫ শতাংশ বা প্রায় ৩২ লাখ কমেছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের দেশগুলোতে ভ্রমণ বেড়েছে ১২ দশমিক ২ শতাংশ বা প্রায় ১১ লাখ।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে কানাডীয় পর্যটকদের ব্যয় প্রায় ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার কমে ১৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিক উত্তেজনা, মার্কিন প্রশাসনের কানাডাবিরোধী বক্তব্য, দুর্বল কানাডীয় ডলার এবং ‘বাই কানাডিয়ান’ আন্দোলন মানুষের ভ্রমণ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে অনেক কানাডীয় এখন দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনকেন্দ্র—ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, আলবার্টা, কুইবেক, অন্টারিও ও আটলান্টিক কানাডাকে ছুটির গন্তব্য হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। পাশাপাশি ইউরোপ, এশিয়া, মেক্সিকো ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে।

এই পরিবর্তনে কানাডার হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও স্থানীয় পর্যটনশিল্প লাভবান হতে পারে। তবে কানাডীয় পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী শহর এবং ফ্লোরিডা, মেইন, ভারমন্ট, নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনের মতো পর্যটননির্ভর অঞ্চলে এর নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা, গ্লোবাল নিউজ

এসএস/সিএ
সংবাদটি শেয়ার করুন