ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বিশেষ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা জোট চায় কানাডা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আরও গভীর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চাইছে কানাডা। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই প্রস্তাবকে একটি ‘বিশেষ জোট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রস্তাবিত সহযোগিতার আওতায় বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং শিক্ষা খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। কানাডীয়দের জন্য ইউরোপে বসবাস, কাজ ও পড়াশোনার সুযোগ সহজ করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
তবে কানাডা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্য হতে চাইছে না। এটি এখনো একটি প্রস্তাবিত কৌশলগত অংশীদারত্ব; কোনো চূড়ান্ত জোট বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।
বিশ্ববাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপসহ অন্যান্য বাজারে কানাডার অবস্থান শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
কানাডা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা জোটে যুক্ত হলে কানাডীয়রা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেতে পারেন। তবে এগুলো এখনো আলোচনার পর্যায়ে—চূড়ান্ত চুক্তিতে কোন সুবিধা থাকবে, তা নিশ্চিত নয়।
- ইউরোপে কাজের সুযোগ: কানাডীয় নাগরিকদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে কাজের অনুমতি পাওয়া সহজ হতে পারে।
- বসবাস ও ভ্রমণ: দীর্ঘ মেয়াদে ইউরোপে থাকা এবং দেশগুলোর মধ্যে চলাচলের নিয়ম শিথিল হতে পারে।
- উচ্চশিক্ষার সুযোগ: ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, গবেষণা ও শিক্ষার্থী বিনিময়ের সুযোগ বাড়তে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ফি ও ভিসা-প্রক্রিয়াও সহজ হতে পারে।
- নতুন চাকরি ও বিনিয়োগ: ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়লে কানাডায় জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিরক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।
- ব্যবসার বড় বাজার: কানাডীয় ব্যবসা ও পণ্য ইউরোপের প্রায় ৪৫ কোটি মানুষের বাজারে আরও সহজে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।
- যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমবে: কানাডার রপ্তানি ও অর্থনীতি শুধু মার্কিন বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল থাকবে না।
- নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়বে: সাইবার হামলা, বিদেশি হস্তক্ষেপ, আর্কটিক নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে যৌথ সহযোগিতা জোরদার হতে পারে।
- পণ্যের দাম ও সরবরাহে স্থিতিশীলতা: ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়লে কিছু পণ্যের সরবরাহের বিকল্প উৎস তৈরি হতে পারে।
তবে সম্ভাব্য ঝুঁকিও আছে। বিদেশি প্রতিযোগিতা বাড়লে কানাডার কিছু কৃষক ও ছোট ব্যবসা চাপের মুখে পড়তে পারে। প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয় বাড়তে পারে এবং ইউরোপে অবাধ কাজ বা বসবাসের সুবিধা চালু করতে দীর্ঘ আলোচনা প্রয়োজন হবে।
সহজ কথায়: এই জোট বাস্তবায়িত হলে কানাডীয়দের জন্য ইউরোপে কাজ, পড়াশোনা, ব্যবসা ও বসবাসের নতুন দরজা খুলতে পারে; পাশাপাশি কানাডার অর্থনীতি ও নিরাপত্তা আরও বৈচিত্র্যময় হতে পারে। তবে এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ নয় এবং সুবিধাগুলো এখনো নিশ্চিত হয়নি। AP, The Guardian



