ক্রিতদাসপ্রথা বিলোপকারী সৎসাহসী যোদ্ধা, নৈতিক আইনজীবী ও আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্টি আব্রাহাম লিংকনের জন্মদিনে (১২ ফেব্রুয়ারি) তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করছি ।। বিদ্যুৎ ভৌমিক
মার্কিন নৈতিক রাজনীতিবিদ, গনতন্ত্রের অন্যতম সেরা প্রবক্তা, ক্রিতদাসপ্রথা বিলোপকারী সৎসাহসী যোদ্ধা, নৈতিক আইনজীবী ও আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্টি আব্রাহাম লিংকনের জন্মদিনে (১২ ফেব্রুয়ারি) Online Newspaper CBNA পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করছি। আব্রাহাম লিংকন ছিলেন একজন সৎ, যোগ্য, ন্যায়পরায়ণ গতিশীল,দূরদর্শী, মানবিক ও আদর্শবাদী প্রেসিডেন্ট। আব্রাহাম লিংকন ১২ ফেব্রুয়ারি ১৮০৯ খ্রীষ্টাব্দে কেনটাকি এর হডজেনভিলে কাছে একটি কাঠের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি ঘরে দারিদ্র্যতার মধ্যে টমাস লিংকন এবং ন্যান্সি হ্যাঙ্কস লিংকনের দ্বিতীয় সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত তাঁর বাবার জন্যই পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন শত দারিদ্রতার মধ্য। তিনি তাঁর বন্ধুদের পুরাতন বই সংগ্রহ করে পড়তেন এবং এভাবেই শিক্ষিত হয়েছেন।
আব্রাহাম লিংকন ১৮৬১ সাল থেকে ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত তাকে হত্যার আগ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন। নৈতিক, সাংস্কৃতিক, সাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় আব্রাহাম লিংকন আমেরিকাকে বলিষ্ঠভাবে গতিশীল ও সফল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ইউনিয়ন সংরক্ষণ, দাসত্বপ্রথা বিলোপ, আমেরিকার ফেডারেল সরকারকে মজবুত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে আধুনিকীকরণে বলিষ্ঠভূমিকা পালন করেন এবং সফলও হন।
১৮৬৩ সালের ১লা জানুয়ারী আব্রাহাম লিংকন আমেরিকায় আইনগতভাবে ক্রীতদাসপ্রথা বিলুপ্ত করেন। কিন্ত আমেরিকার দক্ষিণের অঙ্গরাজ্যগুলো তা মেনে নিতে পারে নি। তাঁরা বিভক্ত হয়ে আলাদা রাষ্ট্র গঠন করে আমেরিকাকে বিভক্ত করার অপচেষ্ঠা চালান। পরবর্তীতে এই অভ্যন্তরীণ বিরোধ গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়।১৮৬৩ সালের ১-৩ জুলাই তারিখে এই গৃহযুদ্ধে প্রায় আট হাজার মানুষ নিহত হয়। ১৯ নভেম্বর ১৮৬৩ সালে এক স্মরণসভায় আব্রাহাম লিংকন Pensilvenia Stateএর Gettysburg একটি সংক্ষিপ্ত ও দুনিয়া কাঁপানো ভাষণ দেন যা বিশ্বখ্যাত Gettysburg Address নামে পরিচিত। প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের Gettysburg Address মাত্র দুই মিনিটে ২৭২ শব্দের এই বিখ্যাত ভাষণটি গেটিসবার্গ স্পিচ বা Gettysburg Address। পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসাবে বিশ্বের অনেক দেশেই পাঠ্যপুস্তকে পড়ানো হয়। এই ভাষণের সবচেয়ে লক্ষণীয় দিক হলো মাত্র একটি বাক্যে গণতন্ত্রের নিখুঁত ও বিখ্যাত সংজ্ঞা দিয়েছেন লিংকন তাঁর ভাষ্যমতে, ‘গণতন্ত্র হলো জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা পরিচালিত সরকার, জনগণের জন্য পরিচালিত সরকার’।
আব্রাহাম লিংকনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শহীদ নায়ক হিসাবে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। আব্রাহাম লিংকন ধারাবাহিকভাবে আমেরিকান ইতিহাসের অন্যতম সেরা রাষ্ট্রপতি বা সেরা প্রেসিডেন্ট বা রাষ্ট্রপতি হিসাবে স্থান পান বা সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত আছেন।
প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন একজন রূচিপূর্ণ, সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও আদর্শবাদী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন যার পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর একটি চিঠির দ্বারা। যে চিঠিটি তিনি পাঠিয়েছিলেন তাঁর পুএের শিক্ষকের কাছে। চিঠিটি অতি সংক্ষেপে নিচে দেওয়া হল।
মাননীয় মহাশয়,
আমার পুত্রকে জ্ঞানার্জনের জন্য আপনার কাছে প্রেরণ করলাম। তাকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন-এটাই আপনার কাছে আমার বিশেষ দাবি।
আমার পুত্রকে অবশ্যই শেখাবেন- সব মানুষই ন্যায়পরায়ণ নয়, সব মানুষই সত্যনিষ্ঠ নয়। তাকে এ-ও শেখাবেন প্রত্যেক বদমায়েশের মাঝেও একজন বীর থাকতে পারে, প্রত্যেক স্বার্থপর রাজনীতিকের মাঝেও একজন নিঃস্বার্থ নেতা থাকে। তাকে শেখাবেন প্রত্যেক শত্রুর মাঝে একজন বন্ধু থাকে। আমি জানি এটা শিখতে তার সময় লাগবে, তবুও যদি পারেন তাকে শেখাবেন পাঁচটি ডলার কুড়িয়ে পাওয়ার চেয়ে একটি উপার্জিত ডলার অধিক মূল্যবান। এ-ও তাকে শেখাবেন, কীভাবে পরাজয়কে মেনে নিতে হয় এবং কীভাবে বিজয়োল্লাস উপভোগ করতে হয়। হিংসা থেকে দূরে থাকার শিক্ষাও তাকে দেবেন। যদি পারেন নীরব হাসির গোপন সৌন্দর্য তাকে শেখাবেন। সে যেন আগ-ভাগেই এ কথা বুঝতে শেখে যারা পীড়নকারী তাদেরই সহজে কাবু করা যায়। বইয়ের মাঝে কি রহস্য লুকিয়ে আছে তা-ও তাকে বুঝতে শেখাবেন।………………যারা নির্দয়, নির্মম তাদের সে যেন ঘৃণা করতে শেখে আর অতিরিক্ত আরাম-আয়েশ থেকে সাবধান থাকে। আমার পুত্রের প্রতি সদয় আচরণ করবেন কিন্তু সোহাগ করবেন না। কেননা আগুনে পুড়েই ইস্পাত খাঁটি হয়। আমার সন্তানের যেন অধৈর্য হওয়ার সাহস না থাকে, থাকে যেন তার সাহসী হওয়ার ধৈর্য। তাকে এ শিক্ষাও দেবেন নিজের প্রতি তার যেন সুমহান আস্থা থাকে আর তখনই তার সুমহান আস্থা থাকবে মানবজাতির প্রতি।
সশ্রদ্ধ নমস্কার, আব্রহাম লিংকন।
গনতন্ত্রের মহান প্রবক্তা, ন্যায়পরায়ণ, সৎ ও দাসত্বপ্রথা বিলোপকারী আমেরিকার অন্যতম সেরা প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন বেঁচে থাকলে Donald Trump (ডোনাল্ড ট্রাম্প) এর মত একজন অতি বিতর্কিত, বর্ণবাদী, লোভী, Convicted felon, একনায়কতন্ত্রের পৃষ্ঠপোষক,মিথ্যুক ও স্বার্থপর প্রেসিডেন্টকে White House এর Oval Office প্রেসিডেন্ট হতে দেখে সত্যিই লজ্জা পেতেন।
আব্রাহাম লিংকন যুদ্ধ-বিধ্বস্ত জাতিকে পুনর্মিলনের মাধ্যমে সুস্থ করার চেষ্টা করেছিলেন। আমেরিকা বা যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ এবং পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ। অ্যাপোমাটক্সে যুদ্ধ শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরে ১৮৬৫ সালের ১৪ এপ্রিল প্রেসিডেন্টি আব্রাহাম লিঙ্কন তাঁর স্ত্রী মেরির সাথে ফোর্ডের থিয়েটারে একটি নাটকে অংশ নিচ্ছিলেন তখন জন উইলকস বুথ নাম্নী বর্ণবাদী আততায়ী তাকে গুলি করেছিল। পরের দিন ১৮৬৫ সালের ১৫ এপ্রিল গোটা আমেরিকাকে শোকাহত করে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন ৫৬ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন। মানব সভ্যতা যতদিন টিকে থাকবে গনতন্ত্রের মহান প্রবক্তা, ন্যায়পরায়ণ, সৎ ও দাসত্বপ্রথা বিলোপকারী সৎসাহসী যোদ্ধা ও আমেরিকার সেরা প্রেসিডেন্ট হিসাবে আব্রাহাম লিংকনের নাম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে মানুষ ততদিন স্মরণ করবে।
তথ্য: বিভিন্ন Informative সূত্র


বিদ্যুৎ ভৌমিক


