মন্ট্রিয়লে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক জ্যাজ ফেস্টিভ্যাল
সদেরা সুজন, সিবিএনএ নিউজ ডেস্ক || আজ ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হয়েছে মন্ট্রিয়লের সবচেয়ে বড় সংগীত উৎসব ফেস্টিভ্যাল ইন্টারন্যাশনাল দ্য জ্যাজ দ্য মন্ট্রিয়ল ২০২৬। মন্ট্রিয়লের ডাউনটাউনের প্লাস দেজ আর্টস এলাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক জ্যাজ ফেস্টিভ্যালের ৪৬তম আসর।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যেমন খ্যাতিমান সংগীতশিল্পীরা গান পরিবেশন করতে এসেছেন, তেমনি বিভিন্ন দেশ ও শহর থেকে সংগীতপ্রেমীরাও এই উৎসবে অংশ নিতে উপস্থিত হয়েছেন। আগামী ৪ জুলাই (শনিবার) পর্যন্ত চলবে এই উৎসব।
উৎসব এলাকা বিভিন্ন ধরনের গেট ও বাহারি স্টলে সুসজ্জিত করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে একাধিক বিশাল মঞ্চ। রিও টিন্টো, টিডি ব্যাংক, লটো-ক্যুবেকসহ বিভিন্ন নামে বড় বড় মঞ্চে যেমন পরিবেশিত হবে গান, তেমনি ছোট ছোট মঞ্চেও চলবে নানা পরিবেশনা। এছাড়া ইনডোর কনসার্টও থাকছে।
দশদিনব্যাপী এই উৎসবে বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি রাস্তাজুড়ে থাকবে ম্যাজিক শো, নৃত্য, পথশিল্পীদের পরিবেশনা এবং শিশু-কিশোরদের জন্য নানা আয়োজন।
জ্যাজ ফেস্টিভ্যালের প্রথম দিনটি যেন সারা বছর অপেক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত একটি উৎসবের সূচনা। আজকের দিনটা ছিলো রোদে ঝলমল, সপ্তাহান্তে আবহাওয়া কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও আগামী সোমবার থেকে পুরো সপ্তাহজুড়ে আবহাওয়া থাকবে মনোরম। ১ জুলাই (বুধবার) কানাডা দিবস উপলক্ষে থাকবে বিশেষ আয়োজন। সেদিন সংগীতের তালে তালে নেচে-গেয়ে উৎসবে মেতে উঠবেন হাজারো দর্শক-শ্রোতা।
শৈত্যপ্রবাহ ও তুষারপাতের দেশ হিসেবে পরিচিত কানাডার মন্ট্রিয়ল গ্রীষ্মকালে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপ ধারণ করে। সামার এলেই কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে শুরু হয় নানা উৎসব। গ্রীষ্ম মানেই উৎসবের শহর, আনন্দের শহর, বিনোদনের শহর। সাউন্ড সিস্টেমে সংগীতের ঝংকার আর ক্যামেরার ক্লিকে মুখর হয়ে ওঠে পুরো নগরী। শত শত, হাজার হাজার পর্যটকের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পায় শহর।
দীর্ঘ তুষারাচ্ছন্ন শীত ও ব্যস্ত কর্মজীবনের পর গ্রীষ্ম যেন বিনোদন ও প্রশান্তির সময়। পরিবার-পরিজন নিয়ে কিছুটা নির্ভার সময় কাটানোর সুযোগ এনে দেয় এই ঋতু।
বহুজাতিক, বহুসাংস্কৃতিক সৌন্দর্যের দেশ কানাডার কুইবেক প্রদেশে সেন্ট লরেন্স নদীর তীরে অবস্থিত দ্বীপনগরী মন্ট্রিয়ল। চারদিকে নদী, সবুজ বনাঞ্চল আর মনোমুগ্ধকর প্রকৃতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে শহরটি। শীতকালে সাদা তুষারের চাদরে ঢাকা পড়ে পুরো নগরী, আবার গ্রীষ্মে সবুজে সবুজ হয়ে ওঠে প্রকৃতি। শরতের শুরুতে ম্যাপল পাতার বাহারি রঙে যেন রঙিন হয়ে ওঠে পুরো শহর।
গ্রীষ্মে ঝাঁকে ঝাঁকে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ফিরে আসে কানাডায়। হ্রদগুলো মুখরিত হয়ে ওঠে পাখির কলতানে, আর নদীগুলো ভরে যায় স্পিডবোট ও নানান নৌযানে ভ্রমণরত পর্যটকদের ভিড়ে। একের পর এক উৎসব, পর্যটকদের আগমন আর সংগীতের আবহে প্রাণ ফিরে পায় মন্ট্রিয়ল।
ফ্রাঙ্কোফোলি, আন্তর্জাতিক জ্যাজ ফেস্টিভ্যাল, জাস্ট ফর লাফস, ফেস্টিভ্যাল ইন্টারন্যাশনাল নুই দ’আফ্রিক, ফিয়ের্তে মন্ট্রিয়ল (গে ফেস্ট), আর্টস ফেস্টিভ্যাল, বিশ্ব চলচ্চিত্র উৎসব (বর্তমানে ছোট পরিসরে), ফায়ারওয়ার্কস, ফ্যান্টাসিয়া এবং নেটিভ ফেস্টিভ্যালসহ অসংখ্য আয়োজনে লাখো মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে মন্ট্রিয়ল।
মূলত সারা বছরই বিভিন্ন অনুষ্ঠান থাকলেও মে মাস থেকে উৎসবের আমেজ বেড়ে যায়। গ্রাঁ প্রি শেষ হওয়ার পরই শুরু হয় কুইবেকবাসীর প্রিয় সংগীত উৎসব ফ্রাঙ্কোফোলি। এরপর ২৫ জুন থেকে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ৪৬তম জ্যাজ ফেস্টিভ্যাল, যা চলবে ৪ জুলাই পর্যন্ত।
১ জুলাই কানাডা দিবস উপলক্ষে সারা দিনব্যাপী থাকবে বিশেষ আয়োজন। সারা কানাডার মতো মন্ট্রিয়লের ওল্ড পোর্টে সকাল থেকেই শুরু হবে অনুষ্ঠানমালা। থাকবে নান্দনিক শোভাযাত্রা, বিভিন্ন প্রদর্শনী এবং রাতে মনোমুগ্ধকর আতশবাজির প্রদর্শনী।
প্রতিটি উৎসবই দেখার মতো। হাজার হাজার মানুষের মিলনমেলায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এসব আয়োজন। তাই এই প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও একটু প্রশান্তি আর বিনোদনের জন্য মন্ট্রিয়লে বসবাসরত প্রবাসীদের পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎসবগুলো ঘুরে দেখার আমন্ত্রণ রইল। নিঃসন্দেহে ভালো লাগবে।
এসব অনুষ্ঠানের সংবাদ, ছবি ও ভিডিও কভারেজের জন্য বিগত বছরের মতো এবারও সিবিএনএ-এর নির্বাহী সম্পাদক সদেরা সুজন এবং সৌভিক দেবরায় মনোনীত হয়েছেন। সংবাদ, ছবি ও ভিডিও দেখতে চোখ রাখুন CBNA24.com এবং সিবিএনএর ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

সদেরা সুজন।। সিবিএনএ নিউজ ডেস্ক


