দেশের সংবাদ ফিচার্ড

‘আইফোন দিতে না চাইলে অপ্রতিমের মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়’

Oprotim

আইফোন দিতে না চাইলে অপ্রতিমের মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে আসামিরা পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। রোববার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘একটানা জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত তুহিন স্বীকার করে যে, ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের আইফোনটি ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করে তাকে নির্জন ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় ফাহাদ এবং তার আরেক এক বন্ধু জড়িত ছিল। তুহিনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করি এবং ফাহাদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার আরেক বন্ধু কামরুলও জড়িত। পরে কামরুলকেও হেফাজতে নেয়া হয়। তুহিন প্রথমে মিসগাইড করেছিল। আইফোনটি পেতে তিন জায়গায় আমরা অভিযান চালাই। কোথাও না পেয়ে অবশেষে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার বাসার ভেতরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তোশকের নিচ থেকে আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি—ঘটনার দিন বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দ নামক স্থানে চারপাশে পাহাড় ঘেরা নির্জন বনের ভেতরে অপ্রতিমের আইফোনটি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে আসামিরা। অপ্রতিম তাতে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় প্রথমে তুহিন, পরবর্তীতে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যপুরি আঘাত করে। এক পর্যায়ে মৃত্যু নিশ্চিত হলে তুহিন অপ্রতিমের আইফোনটি নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলসহ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘এছাড়াও আমরা সিয়াম নামে আরেকজনকে আটক করেছি। তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করছি। আমরা ইতিমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয় এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলমান রেখেছি।’
বিচার প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুতই পুলিশ প্রতিবেদন বা চার্জশিট বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করা হবে। রামিসা হত্যার মামলায় যেমন দ্রুত রায় এসেছে, এই মামলাটির জন্যও দ্রুত আমরা বিজ্ঞ আদালতের কাছে আবেদন রাখবো।’

নিহত অপ্রতিম ও আসামি তুহিনের বয়স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই, তার (অপ্রতিম) বয়স ১৩, আর আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন, তার বয়স ১৯। সে কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ফেল করে ২০২৫ সালে ড্রপআউট হয়।’

শনিবার মধ্যরাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন। এতে তুহিন ও দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার দেখানো কথা সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

এর আগে গত শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয়েছিল অপ্রতীম। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। নিখোঁজের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের সন্ধান চেয়ে আবেদন জানান মা ড. নাহিদা বেগম।

সে ছিল পরিবারের একমাত্র সন্তান। তার মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। কোটবাড়ি-গন্ধমতী এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতো অপ্রিতম। পরে শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুহিনকে আটক করে পুলিশ।

সূত্রঃ মানবজমিন

এফএইচ/বিডি


CBNA24  রকমারি সংবাদের সমাহার দেখতে হলে
আমাদের ফেসবুক পেজে ভিজিট করতে ক্লিক করুন।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করতে পোস্ট করুন।

সংবাদটি শেয়ার করুন