প্রবাসের সংবাদ

কুয়েতে খাদ্য সংকটে বাংলাদেশিরা

প্রবাসীদের পাঠানো টাকায় ভ্যাট দেয়া হয়নি: শাহরিয়ার

আরিফুজ্জামান মামুন ।।  কুয়েতে খাদ্য সংকটে বাংলাদেশিরা । প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে টালমাটাল বিশ্ব। এর ঢেউ লেগেছে মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশ কুয়েতেও। করোনা মোকাবিলায় সারাদেশে কারফিউ জারি থাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা পড়েছেন চরম খাদ্য সংকটে। মানবেতর জীবনযাপন করছেন খেটে খাওয়া ২০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি। কুয়েতে করোনা ভয়াবহ থাবা ফেলতে না পারলেও গতকাল পর্যন্ত ২ হাজার ৮৯২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১৯ জন। সুস্থ হয়ে ৬৫৬ জন বাড়ি ফিরেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন ১৬০ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের।

কেন কুয়েতে খাদ্য সংকটে বাংলাদেশিরা ? জানা গেছে, কুয়েতে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজারের মতো বাংলাদেশি বাস করেন। এর মধ্যে ৩ লাখের মতো বৈধ আর বাকিরা অবৈধভাবে থেকে ছোটখাটো কাজ করেন। দেশটিতে প্রধানত শ্রমিক হিসেবেই নিয়োজিত আছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এ ছাড়া প্রাইভেট জব, ট্যাক্সিচালক কিংবা দোকান কর্মচারীও আছেন। যারা ব্যক্তিগতভাবে চাকরি, দৈনন্দিন ভিত্তিতে অথবা ট্যাক্সিচালক হিসেবে কাজ করেন তারাই সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। কেননা আয়-রোজগার যা হতো তা দিয়ে প্রতিদিনের ব্যয় নির্বাহ করতেন, বাকি টাকা জমলে পাঠাতেন বাড়ি। কিন্তু করোনার মহামারি ঠেকাতে পুরো কুয়েত লকডাউন করে দেওয়া হয়। এর পরই তাদের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। বেকার এই প্রবাসীরা এখন চরম অর্থ সংকটে পড়েছেন।

এদিকে বিভিন্ন দেশে সংকটে থাকা প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল মিশনগুলোকে। যদিও প্রয়োজনের তুলনায় সেটি অনেক কম। কুয়েতি মুদ্রায় মাত্র ৯ হাজার ১০০ দিনার। তারপরও বরাদ্দ অনুযায়ী একেকজনকে গড়ে সাড়ে ৭ দিনারের ত্রাণসামগ্রী দিতে ১ হাজার ২০০ প্রবাসীর একটি তালিকা করে দূতাবাস। ওই তালিকা ধরে সাত থেকে আটশজনের মাঝে সেটি বিতরণও করা হয়। পরে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরকারি সামান্য এ ত্রাণ বিতরণ নিয়েও দূতাবাসের বিরুদ্ধে রয়েছে রাজ্যের অভিযোগ। সমন্বয়ের অভাবকে দায়ী করছেন কেউ কেউ। একেক সময় একেক রকম নোটিশ দেওয়ারও অভিযোগ আছে। এ ছাড়া করোনা সংক্রমণের পর থেকে অবৈধদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে কুয়েত সরকার। গত ১১ এপ্রিল অবৈধদের একটি দলকে দেশেও ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এ ছাড়া ফেরত পাঠানোর জন্য প্রায় ৫ হাজার জনকে ট্রানজিট ক্যাম্পে আলাদা করেছে দেশটি। যারা সাধারণ ক্ষমার আওতায় দেশে যাওয়ার জন্য ডকুমেন্টস জমা দিয়েছেন মূলত তাদেরই সেখানে রাখা হয়েছে। সেখানেও খাদ্য সংকট এবং থাকার পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ আছে ভুক্তভোগীদের। তবে কুয়েত সরকারের দাবি, তাদের দেশে ৩৮ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি রয়েছেন।

কুয়েতে করোনা সংক্রমণের পর থেকে সমস্যায় থাকা প্রবাসীদের জন্য হটলাইন চালু করে বাংলাদেশ দূতাবাস। সেখানে ৯ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি সাহায্য চেয়ে যোগাযোগ করেন। কিন্তু এ পর্যন্ত কেবল ২ হাজার জনকে সাহায্য দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এসএম আবুল কালাম। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ত্রাণের অফুরন্ত চাহিদা। বিভিন্ন জায়গা থেকে চাহিদাপত্র আসছে। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি সাহায্য করার জন্য। এখানকার কিছু এনজিওর সঙ্গেও যোগাযোগ করছি। রেড ক্রিসেন্টের সহায়তা নেওয়ার কথাবার্তা চলছে। তারা তিন হাজার বাংলাদেশি প্রবাসীকে ত্রাণ দিতে পারে। এ ছাড়া কুয়েত সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ চলছে আমাদের।’

দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ৫ হাজার প্রবাসীকে ট্রানজিট ক্যাম্পে রাখা হয়েছে জানিয়ে এ কূটনীতিক বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের পর থেকেই অবৈধদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলছে কুয়েত। তারা এরই মধ্যে ৫ হাজার বাংলাদেশিকে আলাদা করেছে। সেখানে তাদের খ্যাদ্যসহ প্রয়োজনীয় জিনিস দেওয়া হচ্ছে। তবে দেশটি দাবি করেছে তাদের এখানে ৩৮ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি আছেন। যদিও আমাদের হিসাবে এটি ২০ হাজারের বেশি নয়।’

 

সিবিএনএ/এসএস


সর্বশেষ সংবাদ

দেশ-বিদেশের টাটকা খবর আর অন্যান্য সংবাদপত্র পড়তে হলে cbna24.com

সুন্দর সুন্দর ভিডিও দেখতে হলে প্লিজ আমাদের চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন