মুন্সীগঞ্জে চাচা হত্যা, নিউ ইয়র্কে ভাতিজার ১৫ বছরের কারাদণ্ড
বছর পাঁচেক আগে মুন্সীগঞ্জে এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে তার ভাতিজাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে নিউ ইয়র্কের একটি আদালত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিমিনাল ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল এ টাইসন দুভা এবং নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি জে ক্লেটন বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন বলে দেশটির বিচার বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
দণ্ডিত গ্যানেট রোজারিও (৫৪) নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা। তিনি এর আগে হত্যার দোষ স্বীকার করেছিলেন।
দেশটির ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, ভিন্ন কোনো দেশে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকের হাতে অন্য মার্কিন নাগরিক হত্যা বা হত্যাচেষ্টার শিকার হলে অ্যাটর্নি জেনারেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বা অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেলের লিখিত অনুমোদন সাপেক্ষে বিচার হয়।
আদালতের নথিপত্র ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গ্যানেট রোজারিও বাংলাদেশে তার চাচা মাইকেল রোজারিওকে একটি শটগান দিয়ে হত্যা করেন। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সেখানকার নাগরিকত্ব পাওয়া এ দুই ব্যক্তির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বসতভিটা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ২০২১ সালে বাংলাদেশ সফরকালে তারা দুজনেই ওই বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
নথি অনুযায়ী, ওই বছরের ১১ জুন সন্ধ্যায় গ্যানেট সিগারেট খেতে বাড়ির বাইরে চাচার শয়নকক্ষের জানালার কাছে যান। সেখানে অবস্থানকালে তিনি শুনতে পান, ঘরের ভেতরে থাকা চাচা তাকে নিয়ে গালাগাল করছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গ্যানেট ঘরের গিয়ে একটি শটগান নিয়ে আবার বাইরে আসেন।
‘তুমি কাল আর সূর্য দেখবা না’—এমন কথা চিৎকার দিয়ে বলার পর গ্যানেট জানালা দিয়ে একটি গুলি ছোড়েন। গুলিটি মাইকেল রোজারিওর পেটের ডান পাশে লাগে এবং তার মৃত্যু ঘটে।
এরপর গ্যানেট ২০২৩ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। পরের বছরের এপ্রিলে চাচা খুনের দায়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউ ইয়র্ক ফিল্ড অফিস এ মামলার তদন্ত করেছে। মামলাটি পরিচালনা করেন ক্রিমিনাল ডিভিশনের হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড স্পেশাল প্রসিকিউশন সেকশনের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি চিফ ফ্রাঙ্ক রাঙ্গোসিস এবং নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি ক্রিস্টি স্লাভিক।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে নিযুক্ত এফবিআইয়ের লিগ্যাল অ্যাটাশে এবং বিচার বিভাগের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স।
বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ।



