বাংলাদেশকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ পোলিও টিকা অনুদান হিসেবে দিয়েছে চীনের শীর্ষস্থানীয় টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন।
বুধবার (১৩ মে) সকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুদান গ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং ও সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের চিফ বিজনেস ডিরেক্টর লি নিংসহ আরও অনেকে।
সিনোভ্যাকের অনুদানের মোট ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল (৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ) পোলিও টিকার চালান এরই মধ্যে ইপিআই সংরক্ষণাগারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
টিকা নিয়ে বাংলাদেশের এই দু:সময়ে সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের টীকা অনুদানের জন্য চীনের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক বন্ধু হিসেবে চীন বাংলাদেশের পাশে রয়েছে সেটা আবারও প্রমাণ করেছে দেশটি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের টীকার ব্যবস্থা হলেও এখন সামনে ডেংগু, পোলিও, হান্টাসহ অনেক রোগ চোখ রাঙ্গাচ্ছে। এগুলো মোকাবিলা করা এখন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। তবে, পোলিও, যক্ষ্মাসহ যেসব রোগের টিকার প্রয়োজন তা ঘাটতি নেই। এগুলোর টিকা কার্যক্রম চলছে। এখন পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত প্রায় সব শিশুদের হামের টীকা দেয়া হয়েছে। বাকি যারা আছে তাদের শিগগিরই টিকা দেয়া হবে।
তিনি জানান শিগগিরি “ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন” শুরু হবে। সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ডেংগুর জন্য প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে এই সংখ্যা বাড়ানো হবে।
সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেড এর চিফ বিজনেস ডাইরেক্টর লী নিং বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা করতে পেরে সিনোভ্যাক অত্যন্ত গর্বিত। আজ আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সিনোভ্যাকের তৈরি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রি-কোয়ালিফিকেশন যোগ্যতা অর্জনকৃত ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮৪ ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান প্রদান করতে পেরে আমরা আনন্দিত।
পোলিও শিশুদের জন্য একটি গুরুতর সংক্রামক রোগ এবং টিকাদানকে পোলিও প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা উল্লেখ করে, সিনোভ্যাকের কর্মকর্তা লী নিং বলেন, আমরা আশা করি, অনুদানের এই টিকা বাংলাদেশের ইপিআই কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং দেশের পোলিও নির্মূল কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে ভবিষ্যতেও সিনোভ্যাক বাংলাদেশের পাশে থেকে চীন-বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অবদান রাখার সুযোগ করে দেওয়ায় মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ ও চীনা দূতাবাসকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।



