আধুনিক এই সময়ে ক্যারিয়ারের ধরন অনুযায়ী অনেককেই নাইট শিফটে বা রাতে কাজ করতে হয়। অনেক সময় দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদেশি ক্লায়েন্টদের সঙ্গে অনলাইনে কাজের সময় এমনটা ঘটে। আবার কখনও উৎপাদনমুখি বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় কিংবা ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মেও রাতে কাজের প্রয়োজন হয়।
নাইট শিফটে কাজ করে অনেকেই বিষয়টি মানিয়ে নেয়ার সঙ্গে তুলনা করেন। কেউ কেউ মনে করেন, রাতে কাজ করলে শুধু ঘুমের সময় নষ্ট হয়। অথচ না, রাতে কাজ করার কারণে গুরুতর স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে এক গবেষণায় জানা গেছে। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হায়দরাবাদের একটি গবেষণা বলছে, বিষয়টি মোটেও সহজ নয়। রাতে কাজ করা ব্যক্তিরা দিনে কাজ করা কর্মীদের তুলনায় বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন।
গবেষণায় একটি আইটি প্রতিষ্ঠানের ৪৫ জন নাইট শিফট কর্মী এবং ৪৫ জন ডে শিফট কর্মীকে রাখা হয়। তাদের রক্তে শর্করা, হরমোন এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন গান্ধী মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা এবং এটি প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান জার্নাল অব এন্ডোক্রিনোলজি এবং মেটাবলিজমে।
গবেষণার ফলাফল:
এতে দেখা গেছে, রাতে কাজ করা কর্মীদের মধ্যে ৭৭ শতাংশ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সে ভুগছেন, যা ভবিষ্যতে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। অন্যদিকে দিনে কাজ করা কর্মীদের ক্ষেত্রে এই হার ৬২ শতাংশ ছিল। অবাক করার বিষয় হচ্ছে, রাতে কাজ করা কর্মীদের গড় বয়স কম (প্রায় ২৮ বছর) এবং তাদের ওজনও বেশ কম। এরপরও তাদের স্বাস্থ্য সূচক তুলনায় নেতিবাচক।
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ:
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাতে কাজ করা কর্মীদের দেখে বাইরে থেকে সুস্থ মনে হলেও এসব কর্মীদের মেটাবলিক স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো নয়। নাইট শিফটের কর্মীদের শরীরে ট্রাইগ্লিসারাইড (ক্ষতিকর ফ্যাট) বেশি, ভালো কোলেস্টেরল (HDL) কম, পুরুষদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন কম, নারীদের ইস্ট্রোজেন বেশি এবং ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা যায়।
কেন এমন হয়:
চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, এমনটা হওয়ার কারণ হচ্ছে শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমের ব্যাঘাত। এই জৈবিক ঘড়ি মানবদেহের ঘুম, হরমোন এবং বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেলাটোনিন কেবল ঘুমের হরমোন নয়, এটি শরীর সংস্কারের কাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে রাতে কাজ করে দিনে ঘুমানো হলে মেলাটোনিনের মাত্রা হ্রাস পায়। ফলে শরীরের শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা কমে এবং হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে থাকে।
এ ছাড়াও গবেষণায় দেখা গেছে, নাইট শিফটে কাজ করা কর্মীদের গ্রোথ হরমোনের মাত্রা কম এবং তাদের থাইরয়েড সমস্যার ঝুঁকি বেশি (২২ শতাংশ বনাম ১১ শতাংশ)।
সতর্কতা:
এ ব্যাপারে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কেবল ওজন বা কোমরের মাপ দেখে বিচার করা ঠিক নয়। এমন অনেক নাইট শিফটে কাজ করা কর্মী রয়েছে, যারা দেখতে স্লিম ও তরুণ হওয়ার পরও শারীরিকভাবে তারা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত। পুরুষদের ক্ষেত্রে কম টেস্টোস্টেরন বা ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
সূত্র: চ্যানেল ২৪ অনলাইন
এফএইচ/বিডি
CBNA24 রকমারি সংবাদের সমাহার দেখতে হলে
আমাদের ফেসবুক পেজে ভিজিট করতে ক্লিক করুন।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করতে পোস্ট করুন।



