অনেক সময় এমন হয় যে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় শরীর একদম স্বাভাবিক থাকে, কোনো ব্যথা বা অস্বস্তি থাকে না। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখা যায় কাঁধে তীব্র ব্যথা, শক্তভাব বা নড়াচড়ায় সমস্যা হচ্ছে। এমনকি সাধারণ কাজ যেমন দাঁত ব্রাশ করা, জামা পরা বা চুল আঁচড়ানোও কষ্টকর হয়ে পড়ে। সবচেয়ে অস্বস্তিকর বিষয় হলো, আগের দিন কী এমন হলো যে হঠাৎ করে এই ব্যথা শুরু হলো, তা অনেক সময় বোঝাই যায় না।
এই ধরনের ব্যথা অনেকের কাছেই খুব বিভ্রান্তিকর মনে হয়, কারণ এটি হঠাৎ শুরু হয় এবং ঘুমের মধ্যেই তৈরি হয়ে যায় বলে মনে হয়। তবে চিকিৎসা ও ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বেশ কিছু সাধারণ কারণ থাকতে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘমেয়াদি কাঁধ বা ঘাড়ের সমস্যারও ইঙ্গিত দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বেশ কয়েকটি সাধারণ ও কিছু জটিল কারণ থাকতে পারে।
ভুল ঘুমের ভঙ্গি (সবচেয়ে সাধারণ কারণ)
সবচেয়ে বেশি যে কারণে সকালে কাঁধে ব্যথা হয় তা হলো ঘুমানোর ভঙ্গি। বিশেষ করে যারা পাশ ফিরে ঘুমান, তারা অনেক সময় নিজের কাঁধের ওপরই চাপ দিয়ে ঘুমান। এতে কাঁধের ভেতরের টেন্ডন ও বার্সা অংশ চেপে যায়। শুরুতে ব্যথা না হলেও কয়েক ঘণ্টা একই অবস্থায় থাকলে সেখানে প্রদাহ তৈরি হয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় সেই প্রদাহই তীব্র ব্যথা হিসেবে প্রকাশ পায়।
কাঁধের ওপর অতিরিক্ত চাপ
যদি ঘুমের সময় হাত এমনভাবে থাকে যেখানে কনুই কাঁধের তুলনায় উপরে থাকে, তাহলে কাঁধের ভেতরের নরম টিস্যুগুলো চেপে যেতে পারে। এটি দীর্ঘ সময় ধরে চললে কাঁধে ইনজুরি বা প্রদাহ তৈরি হতে পারে।
ফ্রোজেন শোল্ডার (Frozen Shoulder)
কিছু ক্ষেত্রে সকালে কাঁধে ব্যথা শুরু হওয়া একটি বড় সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। ফ্রোজেন শোল্ডারে প্রথমে তীব্র ব্যথা দেখা দেয়, পরে ধীরে ধীরে কাঁধ শক্ত হয়ে যায় এবং নড়াচড়া সীমিত হয়ে পড়ে। চিকিৎসা না করলে এটি দীর্ঘদিন স্থায়ী হতে পারে।
ঘুম থেকে উঠেই হাত ঝিনঝিন, জটিল কোনো রোগের ইঙ্গিত নয়তো
রোটেটর কাফ টেন্ডিনাইটিস বা টেন্ডিনোসিস
কাঁধের ভেতরের টেন্ডনগুলো অতিরিক্ত ব্যবহার বা চাপের কারণে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে। এটি হতে পারে বারবার একই ধরনের কাজ করা, ভুলভাবে ঘুমানো ও দীর্ঘ সময় কাঁধ চেপে রাখলে। এর ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্যথা ও শক্তভাব অনুভূত হয়।
ঘাড় থেকে আসা রেফার্ড পেইন
সব সময় কাঁধের সমস্যা থেকেই ব্যথা আসে না। অনেক সময় ঘাড়ের সমস্যার ব্যথা কাঁধে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই ধরনের ক্ষেত্রে মূল সমস্যা ঘাড়ে থাকে, কিন্তু ব্যথা অনুভূত হয় কাঁধে। তাই সঠিক কারণ নির্ণয় করা জরুরি।
কখন সতর্ক হবেন
সাধারণ ঘুমের ভঙ্গির কারণে হওয়া ব্যথা সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমে যায়। কিন্তু যদি ব্যথা কয়েক দিনের বেশি থাকে, হাত নাড়াতে সমস্যা হয় ও ব্যথা বাড়তে থাকে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: বাম হাত ও কাঁধে হঠাৎ তীব্র ব্যথা, বুক চেপে ধরা, ঘাম হওয়া বা দুর্বল লাগার মতো উপসর্গ থাকলে এটি হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়
পাশ ফিরে ঘুমানোর সময় কাঁধে অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া
হাত এমনভাবে রাখা যাতে কনুই কাঁধের নিচে থাকে
ঘুমের ভঙ্গি মাঝে মাঝে পরিবর্তন করা
সঠিক বালিশ ব্যবহার করা
সকালে কাঁধে ব্যথার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ঘুমের ভুল ভঙ্গি। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘমেয়াদি কাঁধের সমস্যা বা ঘাড়ের সমস্যা থেকেও হতে পারে। তাই ব্যথা যদি বারবার হয় বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে সেটিকে অবহেলা না করে কারণ খুঁজে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
সূত্র: এশিয়া পোস্ট
এফএইচ/বিডি
CBNA24 রকমারি সংবাদের সমাহার দেখতে হলে
আমাদের ফেসবুক পেজে ভিজিট করতে ক্লিক করুন।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করতে পোস্ট করুন।



