La Belle Province

কানাডা, ১২ আগস্ট ২০২০, বুধবার

সুজেয় শ্যাম : এক ব্যতিক্রমী চরিত্রের আদর্শিক এবং অসাম্প্রদায়িক মানুষ

ফেসবুকের পাতা থেকে | ২৯ জুলাই ২০২০, বুধবার, ২:৫৯


সুজেয় শ্যাম : এক ব্যতিক্রমী চরিত্রের আদর্শিক এবং অসাম্প্রদায়িক মানুষ | অজয় পাল

অর্থ- বিত্ত, খ্যাতি- যশ, প্রভাব – প্রতিপত্তি, ক্ষমতার বিলাস, এমনকি দম্ভ -অহংবোধেরও কমতি নেই , এমন মানুষের সংখ্যা আমাদের সমাজে অগণন । প্রকৃত মানুষের নিদারুণ আকাল । অথচ মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন , সৎ ও ন্যায়-নিষ্ঠ , আদর্শিক ও নির্লোভ, সর্বোপরি নিখাদ অসাম্প্রদায়িক চরিত্রের মানুষের এখন চরম দুষ্প্রাপ্যতা । দূরবীন দিয়েও এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তবে সৌভাগ্যই বলতে হবে আমার , এই ঘরাণার দু’ চারজন মানুষের সান্নিধ্য লাভের দুর্লভ সুযোগ আমার জীবনে অবলীলায় এসে যায় , যারা প্রকৃত অর্থেই সাধু – সজ্জন মানুষ এবং আলোকিত জীবনের অধিকারী । এদেরই একজন , আমার পরম শ্রদ্ধাভাজন এবং আদর্শিক মানুষ — সুজেয় শ্যাম । বাংলাদেশের বিশিষ্ট সঙ্গীতজন এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গীত- যোদ্ধা । এই মানুষটির সংস্পর্শ আমার জীবনের বাঁকে বাঁকে পরিবর্তনের উজ্জ্বল দিক নির্দেশনা দিয়েছে । আলোর পথে হাঁটার ইঙ্গিত করেছে। তাঁর কাছে আমার অন্তহীন ঋণ এবং কৃতজ্ঞতা ।
সত্তর দশকের মাঝামাঝি সময়ে চলচ্চিত্র জগতের এক দুর্নিবার আকর্ষণে সিলেট ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি জমাতে বাধ্য হই । এর আগে পর্যন্ত সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত ছিলাম । ‘৭৫-এর ফেব্রুয়ারি মাসে বাকশাল বাস্তবতায় দেশের অধিকাংশ সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে গেলে অমিও বেকার হয়ে পড়ি । ঠিক এই সময়েই চলচ্চিত্র জগতে ঠাঁই করে নেয়ার ভূত চেপে বসে ঘাড়ে । সেই ভূত কি আসলেই ভূত ছিলো ? আমি বলবো , না , এই ভূতটাই আমাকে সঠিক এক গন্তব্যে নিয়ে যায় । পেয়ে যাই সুজেয় শ্যামের দুর্লভ সান্নিধ্য ।
চিত্র পরিচালক মহিউদ্দিন রূপসনাতনের হাত ধরে
আমি , বিদ্যুৎ কর , সুপ্রিয় সিনহা আর অমিতাভ শ্যাম বাপুজী— এই চারজন গিয়ে উঠি সুজেয় শ্যামের ঢাকার ৫৭৮ নম্বর মগবাজার পেয়ারাবাগের বাসায় । নন্দিত কন্ঠশিল্পী শুভ্র দেবের মা আরতী মাসির ছোট ভাই এই সুজেয় শ্যাম । সঙ্গত কারণেই তিনি বাপুজী ছাড়া আমাদের সবার মামা । বাপুজী সুজেয় শ্যামদের সব ছোট ভাই । এই বাসায় ওঠার প্রথম দিনের স্মৃতি এখনো আমি ভুলতে পারিনা।
সুজেয় মামা আমাদের খুবই আন্তরিকতার সাথে বরণ করে নিয়ে নিমিষেই সবার সাথে একাত্ম হয়ে গেলেন । মামা একা থাকতেন ঢাকায় । মামী ডা: রুমা শ্যাম চাকরির সুবাদে সিলেটে । ঢাকার বাসায় মানুষ জনের ঠাসাঠাসি অবস্থা । বেতারের চাকরি ছাড়াও রেকর্ডিং নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন বেশিরভাগ সময় । রুজি- রোজগার বেশ ভালোই । অবসরে বাসায় সবার সাথে হাসি – ঠাট্টা ও রঙ্গ- রস ছাড়াও প্রার্থনা করে সময় কাটাতেন । প্রথমে পেয়ারাবাগ ও পরে পল্লবীর বাসায় আমি বহুদিন ছিলাম । দুটি বাসারই পরতে পরতে ছিলো সাংস্কৃতিক আবহ । এই দুই বাসায় আমি সুজেয় মামার সাথে একই ছাদের নিচে যাদের রাত্রি বাস করতে দেখেছি , তাদের তালিকাটি কিন্তু খুব একটা ছোটো নয় । তাঁর নিজের আত্মীয়- স্বজন ছাড়াও পেয়েছি নারায়ণ দে , আকিল ভাই , মঞ্জুদা , ইয়ামিন চৌধুরী , সুনামগঞ্জের এনাম ভাই , শিবু ভট্টাচার্য , হরিদাস দা ,কাজল দাস , সুবীর নন্দী , সঞ্জু নন্দী ,শেখর দেব , তপু চৌধুরী , অমিত শ্যাম পল ও সুজিত শ্যাম জন , আমার ছোট ভাই স্বপন পাল ,অমিয় বিকাশ শ্যাম বাদল , শ্রীমঙ্গলের কল্যাণ , বড়লেখার ফারুক ,রাজশাহীর আলতাফ হোসেন , হিমাংশু গোস্বামী , মাধব ভট্টাচার্য , মানস ভট্টাচার্য , ঝিলাম চৌধুরী , ডি কে সুবীর , প্রলয় ধর ,আজিজুর রহমান , দীজ লাল দাস ও গোপালদা সহ অনেককেই । আরো অনেকের নামই এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। আমি , বিদ্যুৎ কর আর সুপ্রিয় সিনহাতো ছিলামই । আর নিয়মিত আসা- যাওয়া ছিলো অগণন মানুষের । এদের মধ্যে পুলিশের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা হারুণ মামা , ইসমত আহমদ চৌধুরী , বিদিত লাল দাস , ইনামুল হক চৌধুরী , এনামুল হক , সদর উদ্দিন চৌধুরী , দুলাল ভৌমিক , হিমাংশু বিশ্বাস , দিবাকর ধর রাম , এ কে আনাম , বিভাস কান্তি দে , বিশ্বজিৎ দাস গুপ্ত , অরিন্দম দত্ত চন্দন , দিজেন সিংহ , মোয়াজ্জেম হোসেন ,গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু , কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল , সুবল দত্ত ও রথীন্দ্রনাথ রায় ছাড়াও আরো অনেককেই আমি দেখেছি । সুজেয় মামার কারণেই তাঁর বাসায় ওস্তাদ আখতার সাদমানীর সান্নিধ্য লাভের সৌভাগ্য আমার হয়েছিলো । দুঃখের বিষয় ,এই তালিকার অনেকেই আজ আর বেঁচে নেই । কেবল বেঁচে আছে প্রতিটি মানুষের ঝলমলে স্মৃতি।
সত্যিকার অর্থেই এক ব্যতিক্রমী চরিত্রের মানুষ এই সুজেয় শ্যাম । উদার মানবিকতার পাশাপাশি তাঁর সর্বাঙ্গ জুড়ে যে অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রকাশ , খুব কম মানুষের মধ্যেই সেটা আমি দেখেছি । বহুদিন আগের একটি ঘটনার কথা না বললেই নয় । পবিত্র ঈদুল আজহার পরদিনের ঘটনা । বেশ রাত করে আমি আর মামা একটি হোটেলে খেয়ে -দেয়ে পল্লবীর বাসায় ফিরছি । সাথে চার বাক্স বিরিয়ানি । বাসার অনতিদূরেই পল্লবী থানা । একজন মাত্র সশস্ত্র কনষ্টেবল প্রহরারত । সেটা মামার চোখ এড়ালো না । গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে গেলেন তার কাছে । খোঁজ নিয়ে জানলেন , ঈদে তিনি পরিবারের সাথে মিলিত হতে চেয়েছিলেন । কিন্তু ছুটি চেয়েও পাননি । সুজেয় শ্যাম একথা শোনামাত্র পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে তার পকেটে কেবল গুজেই দিলেন না , তাকে শান্তণা দিয়ে ফেরার আগে দুই বাক্স বিরিয়ানিও তার হাতে তুলে দিলেন । এই হচ্ছেন আমাদের সুজেয় মামা।
তিনি খুব একটা ধর্ম পরায়ন ছিলেন , এমনটা কখনো আমার মনে হয়নি । মানবতাকে বরাবর স্থান দিয়েছেন ধর্মের উর্ধ্বে । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ,কাবা শরীফ আর যীশু খ্রিস্টের ছবি তাঁর বাসার তিনটি কক্ষে ফ্রেমে বাঁধানো । প্রতিদিন একাধিকবার স্নান শেষে এক গোছা ধূপকাঠি জ্বালিয়ে ছবি তিনটির পাশে দাঁড়িয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য প্রার্থনা করতেন । প্রার্থনা করতেন বিশ্বশান্তির জন্য । নিজের জন্য কখনো প্রার্থনা করতে শুনিনি ।
এই সুজেয় মামার বাসায়ই আমি একই চূলোয় হিন্দু- মুসলিমকে একই সাথে রান্না করতে দেখেছি । কাজের মানুষেরা সবাই ছিলো মুসলিম । তাদের সন্তানেরা এই বাসায় নিজের মতো করে চলাফেরা করতো । মামা এদের নিজের সন্তানের মতো দেখতেন । প্রয়াত ইয়ামিন চৌধুরী বীরবিক্রম ছিলেন মামার অন্যতম প্রাণের মানুষ । এই ইয়ামিন চৌধুরীর অনুরোধে পবিত্র রমজান মাসে একবার সেই যে তিনি রোজা রাখতে শুরু করলেন , এখনো তার ব্যত্যয় ঘটেনি । ইফতারে তাঁর সঙ্গে আমিও সামিল হয়েছি বহুদিন । বড়ই মধুর এসব স্মৃতি।
বরেণ্য চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটক সহ বহু গুণীজনদের সান্নিধ্য লাভকারী সুজেয় শ্যাম আমার বেশ কিছু গানেরও সুরকার । কোলকাতায়ও আমার গান করেছেন । তাঁর কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই । টানা প্রবাস জীবনের পনেরো বছরে বহুদিন ফোনে কথা বললেও দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া একবারও । মনটা তাঁর জন্যে প্রায়ই মোচড় দিয়ে ওঠে । ইদানিং শুনেছি রোগে- শোকে তিনি অনেকটাই জর্জরিত । দু’ বার ঈশ্বর তাকে হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে এনেছেন । এই দু: সময়ে তার পাশে থাকতে না পারার আক্ষেপে এখনো নিরন্তর পুড়ছি । জীবনে এই মানুষটির ঋণ পরিশোধের কোনো সুযোগই পেলাম না । লেখাটা শেষ করার সামান্য আগে মামাকে ফোন করে জানতে চেয়েছিলাম , কেমন আছেন ? জবাবে শুধু বললেন , ভালো আর ছিলাম কখন , ভালো ছিলাম মুক্তিযুদ্ধের কেবল সেই নয়টি মাস।
তুমি ভালো থেকো মামা , শিগগিরই দেশে ফিরে এসে তোমার সাথে কিছুটা দিন একান্তে কাটাতে চাই । সুখ- দুঃখের অনেক অনেক কথা জমা হয়ে আছে ।
জীবনের স্রোতধারা—–

বৃহত্তর সিলেটের বিখ্যাত শ্যাম পরিবারের সন্তান সুজেয় শ্যাম ১৯৪৬ সালে সিলেটে জন্ম গ্রহণ করেন । পিতা সিলেট নগরীর কাষ্টঘর নিবাসী প্রয়াত অমরেন্দ্র শ্যাম এইডেড হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। প্রয়াত পিতার গর্বিত সন্তান সুজেয় শ্যামের স্ত্রী , সদা হাসি -খুশি ডা: রুমা শ্যাম ১৯৯৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর পৃথিবীর সাথে সকল বন্ধন ছিন্ন করেন । তিনিও একজন গুণী সঙ্গীত শিল্পী ছিলেন।

১৯৬৪ সালে সুজেয় শ্যাম গিটারবাদক ও শিশুতোষ গানের পরিচালক হিসেবে চট্টগ্রাম বেতারে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ঢাকা বেতারে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে যোগ দেন । ১৯৬৯ সালে চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং এ পর্যন্ত তিনবার শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন । স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি কলকাতার গীতশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায় , হৈমন্তী শুক্লা ও শ্যামল মিত্র সহ বহু নন্দিত কন্ঠ শিল্পীকে দিয়ে নিজের সুরে গান করান ঢাকার চলচ্চিত্রের জন্য । ১৯৮৪সালে আজকের বিখ্যাত শিল্পী কুমার শানু ও হৈমন্তী শুক্লাকে দিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য একটি দ্বৈতকণ্ঠের গান করেন । কুমার শানুর নাম ছিল তখন সান্তনু কুমার ভট্টাচার্য । ডাক নাম ছিল কেদার । এরপর থেকেই কুমার শানুর জীবনের উত্থান পর্ব শুরু।
আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গীত-যোদ্ধা হিসেবে অবিস্মরণীয় ভূমিকা অপালন করেন সুজেয় শ্যাম । ১৯৭১সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর সুরারোপিত নয়টি গান স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয় । গানগুলো হলো: ‘ বিজয় নিশান উড়ছে ঐ ‘, ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি ‘ , ‘মুক্তির একই পথ সংগ্রাম ‘ , ‘ওরে শোন রে তোরা শোন’ , ‘ আহা ধন্য আমার ‘ ,’রক্ত চাই রক্ত চাই ‘ , ‘ আজ রণ সাজে বাজিয়ে বিষাণ ‘ এবং ‘আয়রে চাষী মজুর কুলি মেথর কুমার কামার ‘ । আরো একটি গানের কথা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না । প্রথমোক্ত গান দুটি আমাদের যেকোন জাতীয় দিবসের আজ অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত ।
২০০১ সালে সুজেয় শ্যাম সংগীত পরিচালক হিসেবে ঢাকা বেতার থেকে অবসর গ্রহণ করেন । বাংলাদেশের প্রায় সকল বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী তাঁর সুরারোপিত গানে কন্ঠ দিয়েছেন ।
২০০৬ সালে ”স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান ” শীর্ষক একটি গানের অ্যালবামের সংগীত পরিচালনা করেন তিনি । ২০১৩ সালে অ্যালবাম-২ এরও সঙ্গীত পরিচালনা করেন সুজেয় শ্যাম । এই অ্যালবামে রয়েছে ৫০টি গান । তিনি ২০১৫সালে শিল্পকলা একাডেমী পদক ও ২০১৮ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন । একমাত্র কন্যা রূপমঞ্জরী শ্যাম লিজা’র জনক সুজেয় শ্যামের অনুজ অমিতাভ শ্যামও একজন নন্দিত সুরকার । তাঁর ভাগ্নে শুভ্রদেব দেশের একজন তারকা কণ্ঠশিল্পী । ছয় বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে সুজেয় শ্যাম ষষ্ঠ । সূদুর অতীত থেকেই এই পরিবারে ছিলো শিল্প- সংস্কৃতির ধারা প্রবহমান ।

সুজেয় শ্যাম । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট থেকে শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিচ্ছেন । একটি টিভি চ্যানেল প্রদত্ত পুরষ্কার গ্রহণ করছেন । স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের সাথে । স্ত্রী -সন্তানের সাথে সুজেয় শ্যাম এবং তাঁর পরিবারের সাথে আমি ও দীপা ।

অজয় পালঃ সাংবাদিক, কবি ও লেখক

সিএ/এসএস


সর্বশেষ সংবাদ

দেশ-বিদেশের টাটকা খবর আর অন্যান্য সংবাদপত্র পড়তে হলে CBNA24.com

সুন্দর সুন্দর ভিডিও দেখতে হলে প্লিজ আমাদের চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Facebook Comments

cbna

cbna24 5th anniversary small

cbna24 youtube

cbna24 youtube subscription sidebar

Restaurant Job

labelle ads

Moushumi Chatterji

moushumi chatterji appoinment
bangla font converter

Sidebar Google Ads

error: Content is protected !!