কানাডার সংবাদ

শাল্লায় হিন্দু গ্রামে হামলার ঘটনায় মন্ট্রিয়লে প্রতিবাদ সভা

শাল্লায় হিন্দু গ্রামে হামলার ঘটনায় মন্ট্রিয়লে প্রতিবাদ সভা

গোপেন দেব/মন্ট্রিয়ল ২৮ মার্চ।    বাংলাদেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অব্যাহত হামলাকে একটি সুদূরপ্রসারী ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করে এব্যাপারে মৌলবাদী অশুভ শক্তির প্রতি সরকারের নমনীয় ভূমিকাকে দায়ী করা হয়েছে।
আজ ২৮ মার্চ রবিবার দুপুরে মন্ট্রিয়লের সনাতন ধর্ম মন্দির মিলনায়তনে বাংলাদেশ হিন্দু এসোসিয়েশন আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এই দাবী করা হয়।সম্প্রতি সুনামগন্জ উপজেলার শাল্লায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর,লুটপাট ও নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।এসোসিয়েশনের সভাপতি শ্রী উজ্জ্বল কুমার দেব উমা এতে সভাপতিত্ব করেন। সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলের সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীনও সংখ্যালঘুদের ওপর বারবার হামলা হচ্ছে। বহু রক্তের বিনিময়ে অর্জিত একটি স্বাধীন দেশে সংখ্যালঘুদের পরাধীন জাতির মতো চরম নিরাপত্তাহীনতায় বাস করতে হচ্ছে ! প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, যদি এসব নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ভূমিকা কঠোর হতো, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা হতো, তাহলে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না।ঘটনাগুলোর কিছুদিন পরই প্রশাসন তথা সরকারের তৎপরতা বন্ধ হয়ে পড়ে উল্লেখ করে সভায় অভিযোগ করা হয়, এসবই প্রমাণ করে প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো শুধুই লোক দেখানো বিষয়। তাঁরা বলেন, এসব কারণে আমাদের বিশ্বাসের জায়গাটি এখন একেবারেই নড়বড়ে হয়ে গেছে, ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে মিথ্যা অজুহাতে একের পর এক হাজার হাজার মৌলবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলে পড়ছে সংখ্যালঘুদের ওপর। বাড়িঘর মন্দিরে হামলা, লুটতরাজ, জমিজমা দখল, চাঁদাবাজি, হুমকি,শারীরিক মানসিক নির্যাতন, জোর পূর্বক ধর্মান্তরিতকরণ,ওয়াজ মাহফিলে হিন্দু ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের বিরুদ্ধে বিষোদগার, উস্কানী সহ সকল প্রকার দুর্বৃত্তপনা নিয়মিতভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী চক্র। বক্তারা বলেন, দু:খের বিষয় যে, এসব চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ ঘটনাগুলো ঘটছে স্থানীয় প্রশাসন,জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দলের নেতা কর্মিদের সামনেই কিংবা কখনো কখনো তাদের মদদেই ঘটে যাচ্ছে এসব। অথচ এই দেশের স্বাধীনতা সহ প্রতিটি জাতীয় আন্দোলন সংগ্রামে সংখ্যালঘুদের ভূমিকা বরাবরই অগ্রগণ্য।
সভায় শাল্লা সহ অতীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত প্রতিটি ঘটনার দ্রুত বিচার আইনে দোষীদের  দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করণ, সংখ্যালঘুদের পূর্ণ নিরাপত্তা, ধর্ম বর্ণ জাতি নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রচিত বায়াত্তরের সংবিধান পুন:প্রতিষ্ঠার জোর দাবী জানানো হয়।
সভায় প্রবীণদের সহযোগিতায় কমিউনিটির যুব সমাজকে নিয়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে একটি এডহক কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়।সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের ঘটনাগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সরকারের  সর্বোচ্চ পর্যায় ছাড়াও আন্ত:দেশীয় সরকারগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণে কিছু পদক্ষেপ গ্রহনেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এছাড়া সভায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার গৌরবময়  সুবর্ণ জয়ন্তী নিয়েও আলোচনা হয়। মুক্তিযুদ্ধ সহ সকল প্রগতিশীল আন্দোলনে শহীদ এবং সংখ্যালঘুদের নানা দু:সময়ে নি:স্বার্থভাবে সহযোগিতাপ্রদানকারী ইতিপূর্বে পরলোকগত কয়েকজন মন্ট্রিয়ল প্রবাসীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে একমিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক শ্রী হিমাদ্রী ভূষণ কর বাপ্পুর পরিচালনায় সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা শ্রী প্রদীপ সরকার দোলন। আলোচনায় অংশ নেন, শ্রী মিহির মিত্র, শ্রী প্রদীপ কুমার সরকার, শ্রী গোপেন দেব, শ্রী অনুপ চৌধুরী মিঠু, শ্রী স্বরাজ চৌধুরী, শ্রী রূপক চক্রবর্তী, শ্রী বিধান দেব, শ্রী অনিমেষ কর টিংকু, শ্রী অমিয়তোশ পাল রুন্টি, শ্রী অলক কুমার সিংহ, শ্রী বিশ্বরূপ দেব চৌধুরী বাবু, শ্রী উত্তম রায়, শ্রী রাজীব দাস প্রমুখ।
সভায় মহামারী করোনার কবল থেকে বিশ্ববাসী যেন দ্রুতই মুক্তি পায় – এই কামনাও করা হয়।
এছাড়া অসুস্থতা সহ বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেকেই সভায় যোগ দিতে না পারায় দু:খপ্রকাশ করেন এবং সভার সিদ্ধান্তের সাথে ঐকমত্য প্রকাশ করে টেলিফোনে সভাকে অবহিত করেন।
উল্লেখ্য, সভাটি কুইবেকের বর্তমান স্বাস্থ্যবিধির সম্পূর্ণ প্রতিপালন সাপেক্ষে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়।
আপনার মন্তব্য লিখুন