গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন কন্যা সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেয়। এরপর আর ফোরকানের হদিস পাওয়া যায়নি। পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া লাশটি অভিযুক্ত ফোরকানের কিনা সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নয় গাজীপুর পুলিশ। তবে, তার মোবাইল ফোনটি উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন এ নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ফোরকান মোল্লা।
গোপালগঞ্জের বাসিন্দা ফোরকান প্রায় ৬ মাস আগে স্ত্রী শারমিন ও তিন সন্তানকে নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউৎকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় ওঠেন। পেশায় ছিলেন প্রাইভেটকার চালক। তাদের পারিবারিক অশান্তি ছিল। গত ৮ই মে রাতে চাকরির কথা বলে নিজের শ্যালক রসূল মোল্লাকেও গোপালগঞ্জ থেকে কাপাসিয়ায় নিয়ে আসেন ফোরকান।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, রাতের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ কিংবা অচেতন করার কিছু মিশিয়ে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালককে অচেতন করা হয়। এরপর ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় পাঁচজনকে। ভিকটিম শারমিনের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা।
তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে মেহেরপুর এলাকায়। পরে তদন্তে ওঠে আসে নতুন তথ্য। এক ট্রাক হেল্পার পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থান থেকে একটি মোবাইল ফোন কুড়িয়ে পান। সেই সূত্র ধরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ। ফুটেজে দেখা যায়, সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা এক ব্যক্তি একটি সাদা প্রাইভেট কার থেকে নেমে রেলিংয়ের পাশে কিছু রেখে কয়েক মিনিট পর নদীতে ঝাঁপ দেন।
ধারণা করা হয়, আসামি ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে। তবে ওই ব্যক্তিটি ফোরকান মোল্লা কিনা, কিংবা মারা গেছে কিনা, সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে বার্তা দেয়া হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: মানবজমিন
এফএইচ/বিডি
CBNA24 রকমারি সংবাদের সমাহার দেখতে হলে
আমাদের ফেসবুক পেজে ভিজিট করতে ক্লিক করুন।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করতে পোস্ট করুন।



