ধর্ম-কর্ম ফিচার্ড

স্বামীর পকেট থেকে না বলে টাকা নেওয়া কি বৈধ? ইসলাম যা বলছে

love-money

স্বামীর অনুমতি ছাড়া তার পকেট বা সম্পদ থেকে টাকা নেওয়া যাবে কিনা—এ প্রশ্ন অনেকের মনেই আসে। ইসলামী শরিয়তে এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। স্ত্রীর প্রয়োজন, স্বামীর দায়িত্ব এবং উভয়ের অধিকার বিবেচনায় বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইসলামি আলেমরা।

 

ভরণ-পোষণ দেওয়া স্বামীর দায়িত্ব

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, স্ত্রীর ন্যায্য ভরণ-পোষণ এবং মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করা স্বামীর ওপর ওয়াজিব। যদি কোনো স্বামী এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করেন, প্রয়োজনীয় খরচ দিতে গড়িমসি করেন বা অতিরিক্ত কৃপণতা করেন, তাহলে স্ত্রী নিজের এবং সন্তানের প্রয়োজন মেটানোর জন্য স্বামীর অজান্তে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ নিতে পারবেন। শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি বৈধ এবং এ কারণে স্ত্রী গুনাহগার হবেন না।

 

হাদিসে কী বলা হয়েছে?

উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন হজরত হিন্দ বিনতে উতবা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করেন যে, তার স্বামী আবু সুফিয়ান অত্যন্ত কৃপণ। তিনি স্ত্রী ও সন্তানের প্রয়োজনীয় খরচ দেন না। তাই তিনি বাধ্য হয়ে স্বামীর অজান্তে কিছু অর্থ নিয়ে থাকেন।

এর জবাবে মহানবী (সা.) বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নিজের ও সন্তানের প্রয়োজন যতটুকু, ততটুকু স্বামীর সম্পদ থেকে নেওয়া যেতে পারে। (সহিহ বুখারি: ৩৮২৫, সহিহ মুসলিম: ১৭১৪)

 

অনুমতিরও রয়েছে সীমা

তবে এই বিধানের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। প্রয়োজনীয় ভরণ-পোষণের বাইরে অলংকার কেনা, বিলাসিতা করা কিংবা ব্যক্তিগত অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য স্বামীর অনুমতি ছাড়া তার অর্থ গ্রহণ করা শরিয়তে বৈধ নয়।

আলেমদের মতে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ গোপনে নেওয়া আমানতের খেয়ানতের শামিল এবং তা চুরির মতো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

স্বামীর নৈতিক দায়িত্ব কী?

একটি সুখী ও সৌহার্দ্যপূর্ণ দাম্পত্য জীবন গড়ে তুলতে শুধু ন্যূনতম ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়। সামর্থ্য অনুযায়ী স্ত্রীকে ব্যক্তিগত খরচের জন্য কিছু অতিরিক্ত অর্থ বা ‘হাতখরচ’ দেওয়া স্বামীর নৈতিক দায়িত্ব বলেও ইসলামি মনীষীরা উল্লেখ করেছেন। এতে দাম্পত্য সম্পর্কে পারস্পরিক আস্থা, ভালোবাসা ও সম্মান আরও দৃঢ় হয়।

হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) লিখেছেন, স্ত্রীর অন্যতম অধিকার হলো—স্বামী তাকে এমন কিছু অর্থ দেবেন, যা তিনি নিজের ইচ্ছামতো ব্যয় করতে পারবেন। এর পরিমাণ নির্ধারিত হবে স্বামীর আর্থিক সামর্থ্য এবং স্ত্রীর প্রয়োজন অনুযায়ী। (মুনতাখাব আনমোল মোতি)

অন্য এক আলোচনায় তিনি আরও বলেন, নারীদের দৈনন্দিন জীবনে নানা ধরনের দ্বীনি ও দুনিয়াবি প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু অধিকাংশ নারীর নিজস্ব আয় বা সম্পদ থাকে না। তাই মূল ভরণ-পোষণ ও মোহরানার বাইরে স্বামীর উচিত সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতি মাসে স্ত্রীকে কিছু অর্থ দেওয়া, যাতে তিনি নিজের প্রয়োজন ও ইচ্ছা অনুযায়ী তা ব্যয় করতে পারেন। (তোহফায়ে যাওজাইন)

সূত্রঃ যুগান্তর

এফএইচ/বিডি


CBNA24  রকমারি সংবাদের সমাহার দেখতে হলে
আমাদের ফেসবুক পেজে ভিজিট করতে ক্লিক করুন।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করতে পোস্ট করুন।

সংবাদটি শেয়ার করুন