জীবন ও স্বাস্থ্য ফিচার্ড

স্লিপ অ্যাপনিয়া

স্লিপ অ্যাপনিয়া

অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া হলো ঘুম সম্পর্কিত শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত একটি রোগ। এতে আক্রান্ত হলে ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাস অনিয়মিত ও ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো জটিল সমস্যা হয়।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৪ শতাংশ মানুষ এ রোগে ভোগেন। ৫০ বছর বা এর কাছাকাছি বয়সের ২৫ শতাংশ পুরুষ ও ৯ শতাংশ নারী স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত। এ রোগ হলে ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, যা সাধারণত ১০ সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট সময় ধরে থাকে। ফলে আমাদের রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণও কমে যায়। এ পর্যায়ে রোগটি প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ায়।

স্লিপ অ্যাপনিয়া হলে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। এর প্রভাব প্রথমে পড়ে আমাদের মস্তিষ্কের ওপরও। অক্সিজেনের অভাবে মস্তিষ্ক অস্থির হয়ে ওঠে এবং ঘুম ভেঙে যায়। এ ঘটনাগুলো যেহেতু গভীর ঘুমের মধ্যে হয়, তাই রোগী এই সমস্যা বুঝতে পারেন না।

অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া ঘটে যখন গলার পেশি মাঝে মাঝে শিথিল হয়ে যায়। এর ফলে ঘুমের মধ্যেই শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অনেকের আবার স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের কারণে স্লিপ অ্যাপনিয়া হয়। এ ছাড়া গঠনগত ত্রুটির জন্যও হতে পারে।

এর প্রধান লক্ষণ হলো নাক ডাকা। এ ছাড়া দিনের বেলা বেশি ঘুম ঘুম ভাব, ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ায় হঠাৎ জেগে ওঠা, হাঁপানি বা দম বন্ধ হয়ে যাওয়া, কোনো আড্ডা কিংবা গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়া, যেকোনো কাজে মনোযোগের অভাব, মেজাজ পরিবর্তন যেমন- বিষণ্নতা বা বিরক্তি, উচ্চ রক্তচাপ, লিবিডো কমে যাওয়া ইত্যাদি।

স্লিপ অ্যাপনিয়া শনাক্তের সহজ পদ্ধতি পলিসমনোগ্রাফি অথবা স্লিপ টেস্ট। রোগীকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখে তাদের বর্ণনাও রোগ নির্ণয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যা পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। জীবনযাত্রার পরিবর্তন করলে স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার হার কমে যায়।

স্লিপ অ্যাপনিয়া থেকে মুক্তি পেতে অতিরিক্ত ওজন কমাতে হবে, নাক বন্ধ ও অ্যালার্জির চিকিৎসা নিতে হবে, অ্যালকোহল ও ধূমপান ত্যাগ করতে হবে। এ ছাড়া ঘুমের ওষুধ পরিহার, চিৎ হয়ে না ঘুমিয়ে কাত হয়ে ঘুমানো, ঘুমের সময় পিঠের নিচে বালিশ ব্যবহারের মতো বিষয়গুলোও স্লিপ অ্যাপনিয়া থেকে মুক্তি দিতে পারে।

স্লিপ অ্যাপনিয়ার চিকিৎসা নির্ভর করে কোন কারণে এটি ঘটছে তা নির্ণয়ের মাধ্যমে। সাধারণত নাক, কান ও গলার কোনো গঠনগত ত্রুটি থাকার কারণে এ সমস্যা হলে সেটির রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি করা যেতে পারে।

বিশেষায়িত চিকিৎসা

ঘুমানোর সময় কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেশার (সিপিএপি) আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থায় বহুল প্রচলিত চিকিৎসা। চিকিৎসা না নিলে রোগীর জীবনে নানা রকম জটিলতা দেখা দেয়। স্লিপ অ্যাপনিয়ায় রোগীর উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (স্ট্রোক), ঘুমের মধ্যে মারা যাওয়া ও ডিপ্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে।

অন্যান্য সমস্যার মতোই স্লিপ অ্যাপনিয়াও একটি রোগ। এই রোগে চিকিৎসা নিলে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব।

ডা. মো. নাজমুল হাসনাইন নওশাদ । বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ,জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা


 


সংবাদটি শেয়ার করুন