‘কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্থ নয়’—মার্ক কার্নি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দৃঢ়ভাবে বলেছেন, কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্থ রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করার কোনো মনোভাব অটোয়া মেনে নেবে না।
সোমবার সাংবাদিকদের কার্নি বলেন, কানাডা ভবিষ্যতে অবশ্যই আলোচনার টেবিলে ফিরতে প্রস্তুত। তবে সেই আলোচনা হতে হবে ন্যায্যতা, পারস্পরিক সম্মান এবং কানাডার সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে।
তিনি বলেন, আলোচনার টেবিলে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানের মতো বিবেচনা করার মনোভাব গ্রহণযোগ্য নয়। কার্নির অভিযোগ, বাণিজ্য আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু শর্ত দিয়েছিল, যেগুলো কানাডার স্বাধীনভাবে অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করার ক্ষমতা সীমিত করতে পারত। পাশাপাশি কানাডার গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামশিল্প এবং কুইবেকের ফরাসি ভাষা ও সাংস্কৃতিক সুরক্ষার বিষয়েও চাপ তৈরি হয়েছিল।
কার্নি বলেন, “আমরা আলোচনার সময় বুঝতে পেরেছি, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামসহ প্রধান শিল্পগুলোকে ধ্বংস করতে চায়। এ কারণেই আমরা প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছি। এটি কানাডার জন্য একটি খারাপ চুক্তি ছিল।”
যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এতে কানাডার মোট মার্কিন রপ্তানির প্রায় পাঁচ শতাংশ প্রভাবিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর জবাবে কানাডা মার্কিন পণ্যের ওপর ‘ডলারের বিপরীতে ডলার’ ভিত্তিতে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। পাল্টা ব্যবস্থায় ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, ইলেকট্রনিকস, গৃহস্থালি সামগ্রী, কৃষিযন্ত্র এবং কাগজশিল্পের পণ্য অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডীয় নেতাদের যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আরও কঠোর পরিণতির হুমকি দিয়েছেন। কানাডার গাড়ি, ট্রাক, যন্ত্রাংশ ও ইস্পাতের ওপর শুল্ক আরও বাড়ানোর কথাও বলেছেন তিনি।
কার্নি জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক চাপের মুখেও কানাডা তার সার্বভৌমত্ব, প্রধান শিল্প, ফরাসি ভাষা ও সংস্কৃতির সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপ, এশিয়া এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও অব্যাহত থাকবে।
কানাডার বিভিন্ন প্রদেশের সরকার এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তে কার্নির পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে, বাণিজ্যযুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে কানাডায় পণ্যের দাম, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও গ্লোবাল নিউজ।



