গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত
মোহাম্মদ মকিস মনসুর প্রেসিডেন্ট, এম আশরাফ মিয়া জেনারেল সেক্রেটারি ও হেলেন ইসলাম ট্রেজারার নির্বাচিত
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের কেন্দ্রীয় জাতীয় সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩ অক্টোবর পূর্ব লন্ডনের অ্যাট্রিয়াম হলে দিনব্যাপী আয়োজিত এ সম্মেলনে ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর থেকে চার শতাধিক প্রতিনিধি, অতিথি, কমিউনিটি নেতা ও শুভাকাঙ্ক্ষী অংশ নেন।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মোহাম্মদ মকিস মনসুরের সভাপতিত্বে এবং নারী নেত্রী হেলেন ইসলাম ও কমিউনিটি সংগঠক মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ক্রয়ডন কাউন্সিলের সিভিক মেয়র কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের প্যাট্রন ড. হাসনাত এম হোসেন এমবিই ও কে এম আবু তাহের চৌধুরী, চ্যানেল এসের প্রতিষ্ঠাতা মাহী ফেরদৌস জলিল, সাউথ ইস্টের চেয়ার হারুনুর রশিদ, কমিউনিটি নেতা নুরুল ইসলাম মাহবুব, মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আব্দুল কাইয়ুম কয়সর, মুক্তিযোদ্ধা এম এ মান্নান, মসুদ আহমদ, জামাল হোসেন, শাহ শাফী ও সৈয়দ সায়েম করিম। এ ছাড়া সংগঠনের ১০টি আঞ্চলিক ও আটটি শাখা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ আমন্ত্রিত বিশিষ্টজনেরা বক্তব্য দেন।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের জন্য নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। এতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ মকিস মনসুর, জেনারেল সেক্রেটারি এম আশরাফ মিয়া এবং ট্রেজারার হেলেন ইসলাম।
সম্মেলন উপলক্ষে ‘ঐক্যের বন্ধন’ শিরোনামে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হয়। এর সম্পাদনায় ছিলেন হেলেন ইসলাম, সৈয়দ সায়েম করিম, নূরজাহান শিল্পী, শাহ শাফী ও আব্দুর রহিম রনজু।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত, সিলেটি সংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছিল। পাশাপাশি ছিল রকমারি খাবারের আয়োজন। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সিলেটবাসীর অংশগ্রহণে সম্মেলনটি মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সম্মেলনে বক্তারা সিলেটের উন্নয়ন ও প্রবাসীদের বিভিন্ন ন্যায্য দাবি তুলে ধরেন। তাঁদের দাবির মধ্যে ছিল সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজসহ বিভিন্ন বিদেশি বিমান সংস্থার সরাসরি ফ্লাইট চালু, বিমানভাড়া হ্রাস, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলির সংকট নিরসন, যাত্রী হয়রানি বন্ধ এবং ঢাকা–সিলেট ছয় লেন মহাসড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা।
এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সাবেক উপদেষ্টা মুখলেছুর রহমান চৌধুরী, সাবেক স্পিকার আহবাব হোসেন, সাবেক মেয়র জ্যোৎস্না ইসলাম, কমিউনিটি নেতা সিরাজ হক, ব্যবসায়ী শাহনুর আহমদ খান, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আব্দুল আহাদ চৌধুরী, ব্রিটিশ বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, গ্লোবাল জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিব, কাউন্সিলর এ কে এম হেলাল, কাউন্সিলর গুলজার আহমদ, বিশ্বনাথ এডুকেশন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক গুলজার আহমদ খান, সংগঠনের উপদেষ্টা মাসুদ চৌধুরী ও আলহাজ সুরাবুর রহমান, সাংবাদিক তাইসির মাহমুদ, সাহেদ রহমান, সাজিদুর রহমান ও আজিজুল আম্বিয়া।
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মকিস মনসুরসহ অন্য নেতৃবৃন্দ তাঁদের প্রতি আস্থা রেখে আগামী দুই বছরের দায়িত্ব অর্পণ করায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, নেতৃত্ব মানে ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব নয়; নেতৃত্ব মানে দায়িত্বশীলতা। প্রবাসী বাংলাদেশিদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, সিলেটের উন্নয়ন এবং কমিউনিটির ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে তাঁরা কাজ করবেন।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ঐক্যই তাঁদের সবচেয়ে বড় শক্তি। যুক্তরাজ্যের যে প্রান্তেই বসবাস করুন না কেন, সবার শিকড়, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ একই। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সিলেটবাসীর অধিকার আদায়, প্রবাসী কল্যাণ এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সিলেটিদের ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় করাই হবে সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য। ওসমানী বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুসহ সিলেটের সব ন্যায্য দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার করেন তাঁরা। আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতাও কামনা করেন।
নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানান সংগঠনের প্যাট্রন, উপদেষ্টা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সম্মেলনে অংশ নেওয়া সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাঁরা বলেন, বৃহত্তর সিলেটের মানুষকে একই ছাদের নিচে ঐক্যবদ্ধভাবে দেখতে পাওয়া আনন্দ ও গর্বের বিষয়। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যুক্তরাজ্যজুড়ে পারস্পরিক সম্পর্ক, ভ্রাতৃত্ববোধ, ঐক্য ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান তাঁরা।
সংবাদদাতা: নুরুল ইসলাম
প্রেস অ্যান্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি



