সাহিত্য ও কবিতা

ফোনকল |||| পুলক বড়ুয়া

ফোনকল |||| পুলক বড়ুয়া


‘ফোন করলেন না কেন’ সে স্বর
ভীষণ শিহর জাগানো তোমার ।
তোমার স্বকন্ঠ এল, তোমার স্বহস্তে ।
পূর্ণ কিংবা শূন্য পেয়ালার মতো এক
অপেক্ষাকাতর ।
যুগল নেশার মতো ঠোঁটে দুলে
ওঠেনি তো কোনো পানপাত্র ।
ঠান্ডা কিংবা উষ্ণ কোমল পানীয় ।
মাঝখানে ছিল খালি বিরহ-টেবিল ।
ওয়েটার তখনও আসেনি ।
আমরা বসেছি, বসে আছি, মুখোমুখি
মুখে আর কারো কোনো কিস্যু নেই ।
এপার ওপার পারাপার করছে নৈঃশব্দ্য ।
তুমি চেয়েছিলে ‘ আপকল ‘ দিই ।
যদিও আপনি করে বলেছি; কিন্তু,
এখন এসে যাচ্ছে তুমি ।
হ্যাঁ, মেসেঞ্জারে আতীব্র হয়ে উঠেছিলে আর্তিতে
ঝরে পড়েছিল তীব্র আকুতি, নীরব কন্ঠস্বরে ।

কথা বললে যে কী হয়, জানি না ।
কথা না-বললে যে কী-হয়, কে বলবে ।
কথা বললে কী দোষ ?
কথা না-বললে তাও দোষ ?
কথা মানে দায় ?
কথা বললেই কী কথা, না-বললেই নীরবতা ?
মাঝে মাঝে বাকস্বাধীনতার বদলে
বাকপ্রতিবন্ধী হওয়া ভালো ।
কথা মানে কানশোনা, নাকি কানসোনা ?
অপ্রকাশের গোপন ভার, লেনদেন, দায়—
জমাটি-জম্পেশ হয়ে আছে ।
ভেতরে অন্তরে জমে আছে ঝিনুক-মৌনতা !
কত কথকথা, অনেক কথার জুটি ।
পাঠাগার তো কথার জাদুঘর ।
আমি তো কথার জাদুকর নই ।
আমাকে শুনতে চাও কেন তুমি ?
কেন তুমি দর্শনার্থী !
কেন যে আমাকে অধ্যয়নের অমন ইচ্ছে ।
কেন যে আমাকে নিবিড় পড়তে চাও তুমি ?
জনান্তিকে চর্চা করতে মরিয়া ?
যে কথা শুনতে চেয়েছিলে এবং শোনাতে
চেয়েছিলে—গোপনে, শোনাও, শোন :

ভোরের রোদ্দুর আর ঘাসের জমিনে
জমাটি-জম্পেশ প্রোজ্জ্বল-শিশির
মহার্ঘ মুক্তোর মতো দ্যুতিময় হয়ে ওঠে আর
মুখোমুখি দোঁহার যুগল বাণীবদল—কথার মালা
মানে বর্ণমালার টোপর দিই যদি

মুক্তোর দানার মতো মহার্ঘ সে কথা !

আমরা মুকুটহীন ক্ষমতাবিহীন
আলঙ্কারিক রাজা ও রাণীর মতোন
রাজ্য ও রাজত্বহীন মঞ্চে-মসনদে
খেলনা পুতুল, সাজানো নাটক—

ফোনালাপ থেকে কথার ফানুস,
উড়বে অপর এক প্রবারণার আকাশ
উল্কি আঁকা চাঁদের প্রণয়, নিশিথ-লাবণ্য :

তোমার সিঁথিতে কথাহীন কথার প্রতীক
আমার পিরিতি এই যেন
রাজপথে গড়িয়ে পড়ছে তাজা খুন !

আপনার মতামত দিন