দেশের সংবাদ ফিচার্ড

আজ পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন : চাষিদের হাতে তুলে দিতে টাঙ্গাইলের পথে প্রধানমন্ত্রী

krishok-card-farmers-card

পহেলা বৈশাখে চাষিদের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দিতে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা দেন তিনি। সদর উপজেলার সুরুজ এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এ উদ্বোধন করবেন তিনি।

দেশের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে এবং কৃষি সেবাকে শতভাগ ডিজিটাল করতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আজ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম থেকে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষি খাতকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এই কৃষক কার্ড। প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় এই কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষককে এই বিশেষ কার্ডের আওতায় আনা হবে। এই কার্ডের অধীনে প্রত্যেক কৃষক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক অনুদান পাবেন।

গতকাল সচিবালয়ে কৃষি ও কৃষিজাত শিল্পায়নে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে এক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, নির্বাচনী বিজয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তার ইশতেহারে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন করছেন। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো- কৃষকদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা।

তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় এই কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে; যার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষককে এই বিশেষ কার্ডের আওতায় আনা হবে। টাঙ্গাইলে উদ্বোধনী দিনে ১৫০০ জন কৃষক-কৃষাণীর হাতে ব্যক্তিগতভাবে এই কার্ড তুলে দেয়ার মাধ্যমে এই যুগান্তকারী কর্মসূচির শুভ সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতিতে বিশ্বাসী এবং দীর্ঘ সময় পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তারা জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণভাবে বদ্ধপরিকর।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ কেবল একটি কার্ড বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এই কার্ডের অধীনে প্রত্যেক কৃষক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সরাসরি ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক অনুদান পাবেন। এ ছাড়া সার, উন্নত বীজ, সেচ সুবিধা এবং কীটনাশক যেন কৃষকরা ন্যায্য ও সুলভ মূল্যে সংগ্রহ করতে পারেন, তা এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানির ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে ‘কৃষি বীমা’র বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে।

মাহদী আমিন জানান, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুবিধা এবং কৃষকদের নিয়মিত উন্নত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। সরকারি ভর্তুকি কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেয়া এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করাও এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। এই কর্মসূচির পরিধি কেবল শস্য উৎপাদনকারী কৃষকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং মৎস্যজীবী, প্রাণিসম্পদ এবং ডেইরি খামারিদেরও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং চাষাবাদের প্রয়োজনীয় তথ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি জানান, এই কর্মসূচিটি মূলত বিএনপি ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবের একটি ধারাবাহিক বাস্তবায়ন। যার মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে দেশের সকল স্তরের মানুষকে ক্ষমতায়ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় কৃষকদের জন্য এই নতুন পথচলা শুরু হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও রিকশা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ও সম্মাননা ভাতা প্রদানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের জন্য সরকার অভূতপূর্ব সব পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। আর কৃষকদের ভাগ্যের পরিবর্তনের মাধ্যমেই বাংলাদেশ স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ অগ্রগতির পথে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাবে।

সূত্র: মানবজমিন

এফএইচ/বিডি


CBNA24  রকমারি সংবাদের সমাহার দেখতে হলে
আমাদের ফেসবুক পেজে ভিজিট করতে ক্লিক করুন।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করতে পোস্ট করুন।

সংবাদটি শেয়ার করুন