প্রবাসের সংবাদ ফিচার্ড

বাংলা চ্যানেলের বর্ষপূর্তির উৎসবে, ধ্রুবতারা সম্মাননা প্রদান

বাংলা চ্যানেলের বর্ষপূর্তির উৎসবে, ধ্রুবতারা সম্মাননা প্রদান

নিউইয়র্কঃ যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক টিভি চ্যানেল ‘বাংলা চ্যানেল’ এর দুইবছর পূর্তি এবং তিন বছরে পদার্পণে গত ১৬ জুলাই আনন্দ-অনুষ্ঠান হয়েছে নিউইয়র্ক শহরের উডসাইডে গুলশান ট্যারেস মিলনায়তনে। বর্ণিল এই অনুষ্ঠান উৎসবে পরিণত হয়। নিউইয়র্ক বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি, গণমাধ্যম কর্মী ব্যবসায়ী, গুণী-সুধী, কূটনীতিক, কণ্ঠশিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। মার্কিন মূলধারার রাজনীতিকরাও ছিলেন।

বক্তাদের লম্বা বক্তব্যের বিড়ম্বনা ছিল না। সেতারের রাগ-এর মূর্ছনা, তবলার বোলে রাগের কসরত, শিশু শিল্পীদের বায়োলিন ও হাওয়াই গীটারে সুরের আবিষ্টতা, নাচের মুদ্রায় গ্রাম বাংলার আখ্যান-এ সবই ছিল অনুষ্ঠানের আকর্ষণ। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় ছিল-ধ্রুবতারা নামে সম্মাননা প্রদান। প্রথমবার এই পুরস্কার পেলেন সুর সম্রাট শেখ সাদী খান (একুশে পদকপ্রাপ্ত), বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় (একুশে পদকপ্রাপ্ত), স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী শহীদ হাসান (কণ্ঠযোদ্ধা), চিকিৎসক মোহাম্মদ মেরাজুল হক সোহাগ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অফ নিউইয়র্ক। প্রথম তিন গুণীজনকে তাঁদের বর্ণাঢ্য কর্ম জীবনের জন্য, চিকিৎসক মোহাম্মদ মেরাজুল হক সোহাগ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অফ নিউইয়র্ককে করোনাকালে মানবসেবায় অনন্য ভুমিকা রাখার জন্য এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে সম্মাননা স্বারক, সনদ এবং সাল তুলে দেন মুলধারার রাজনীতিবিদরা। বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাষ্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট নির্মাণ ব্যবসায়ী এম. আজিজ বাংলাদেশ সোসাইটির পক্ষে সম্মাননা ২০২১ স্মারক, সদন এবং সাল গ্রহণ করেন নিউইয়র্ক স্টেট এসোম্বলীম্যান জন লু’র কাছ থেকে। কণ্ঠশিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়কে সম্মাননা ২০২১ স্মারক, সনদ ও সাল তুলে দেন নিউইয়র্ক শহরের ডিষ্ট্রিক্ট-৩৪ এর এসোম্বলীওম্যান জেসিকা গঞ্জালেস রোজাস। কণ্ঠশিল্পী শহীদ হাসানকে সম্মাননা ২০২১ স্মারক, সনদ ও সাল তুলে দেন জ্যাকসন হাইটস এলাকা থেকে সদ্য প্রাইমারীতে নির্বাচিত (ডিষ্ট্রিক্ট-২৫ এর এ্যসোম্বলীম্যান প্রার্থী) শেখর কৃষাণ। অনুষ্ঠানে অপর দু’জন সম্মাননা প্রাপ্ত অনুপুস্থিত ছিলেন। মোহাম্মদ মেরাজুল হক সোহাগের মা মাহমুদা নার্গিস সম্মাননা স্বারক, সদন ও সাল গ্রহণ করেন। তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদ ও সাল তুলে দেন এ্যাসোম্বলীওম্যান ক্যাটলিনা ক্রুজ এবং শেখ সাদী খানের পক্ষে সম্মাননা স্বারক, সনদ ও সাল গ্রহণ করেন লেখক, কবি ও সাংবাদিক দর্পণ কবীর। অনুষ্ঠানে স্টেট

এ্যাসোম্বলীম্যান জন লু বাংলা চ্যানেলকে পোক্লেমেশন উপহার দেন। জন লু’র কাছ থেকে বাংলা চ্যানেলের চেয়ারম্যান ও প্রেসিডেন্ট পোক্লেমেশন গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে মূলধারার রাজনীতিক এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলা চ্যানেল-এর পথচলায় শুভকামনা জানান এবং কমিউনিটি বিনির্মাণে মিডিয়ার ভূমিকার গুরুত্ব আরোপ করেন। অনুষ্ঠানে কমিউনিটি নেতা, সুধী ও সাংবাদিকের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, ব্যবসায়ী এম. আজিজ, সদ্য নির্বাচিত কুইন্স ডিষ্ট্র্রিক্ট কোর্টের বিচারক সোমা সাঈদ, মূলধারার নেতা মোর্শেদ আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসাইন, ডেমক্রেট নেতা এটর্নী মঈন চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, রিয়েল স্টেট ইনভেস্টর মইনুল ইসলাম, কোম্পানীগঞ্জ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি আরজু হাজারী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা চ্যানেল-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ফৌজিয়া জে. চৌধুরী। এ ছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলা চ্যানেল-এর চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা এ.কে. এম. ফজলুল হক এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন দিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলা চ্যানেল-এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও শাহ. জে. চৌধুরী। এ ছাড়া সম্মাননা স্মারক প্রাপ্তদের মধ্যে কণ্ঠশিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় এবং শহীদ হাসান নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। এলমার্সট মেডিকেল-এর পক্ষ থেকে শাহীনা ইসলাম রোজী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। কূটনীতিকদের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশনের প্রেস মিনিস্টার নূর-ইলাহী মিনা এবং ওয়াশিংটন ডিসিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্ষ্ট কাউন্সিলার শাহ আলম খোকন। বক্তারা বলেন, দেশ, মাতৃভাষা এবং নিজের সংস্কৃতি লালন-চর্চা এবং ছড়িয়ে দিতে মিডিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে নিজের শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক যেন ছিন্ন না হয়, এ ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে সকলকে। বাংলা চ্যানেল আগামী দিনে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে-আমরা এটাই প্রত্যাশা করি।

অনুষ্ঠানে বাংলা চ্যানেল-কে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফুলের তোড়া উপহার দেয় নিউইয়র্কে বাংলাদেশি পুলিশদের সংগঠন ‘বাপা ‘র কর্মকর্তাদের মধ্যে এরশাদুর সিদ্দিকী, রাশেকুল মালিক, জামিল সারোয়ার, সাঈদ আলী, জসিম মিয়া, মেহেদী মামুন, আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব এর পক্ষে সভাপতি মোহাম্মদ সাঈদ ও সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল হক মনজু,, বারী হোম কেয়ার-এর চেয়ারম্যান মুনমুন হাসিনা বারী ও প্রেসিডেন্ট আসেফ বারী টুটুল, ফোবানা স্ট্যায়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী, মৌলভীবাজার ডিষ্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলুর রহমান এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে আব্দুল মুকিত চৌধুরী, খুরশীদ আনোয়ার বাবলু, ফারুক হোসাইন ও আবুল বাশার চুন্নু। ব্যবসায়ীদের মধ্যে বেলাল চৌধুরী, রহমানমালিক, সাইদুর খান হারুন ফুলের তোড়া উপহার দেন।

অনুষ্ঠান  শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজিয়ে এবং এরপর করোনা মহামারীতে বিশ্বব্যাপী যে মিডিয়া কর্মীরা প্রয়াত হয়েছেন, তাঁদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর বাপা’র শিল্পীরা দলীয়নৃত্য পরিবেশন করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সেতার এবং তবলার যুগলবন্দি পরিবেশন করেন মোর্শেদ খান অপু ও তপন মোদক। এরপর শ্রুতিকণা দাস বায়োলিন বাজিয়ে শোনান, তাকে হারমোনিয়ামে সহযোগিতা করেন কাবেরী দাস। হাওয়াই গীটার বাজিয়েছেন স্বাগ্নিক মজুমদার এবং কবিতা আবৃত্তি করেন স্বাধীন মজুমদার। এ ছাড়া শিশুশিল্পী আলভিনা রহমান ও আমিনা ইসলাম দেশত্ববোধক সঙ্গীত পরিবেশন করে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল কেক কাটা। বাংলা চ্যানেলের ২ বছর পূর্তি উপলক্ষে শিশুদের নিয়ে টিভি’র চেয়ারম্যান ও প্রেসিডেন্ট-এর পরিবার কেক কাটেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আশরাফুল হাসান বুলবুল। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন মোহাম্মদ হোসেন দিপু, কানু দত্ত, মিজানুর রহমান, সঞ্জীবন সরকার, গোপাল স্যানাল। বাংলা চ্যানেল-এর তিন বছরে পদার্পণ উপলক্ষে একটি স্যুভেনির বের করা হয়, এর নাম পশ্চিমে প্রাচ্য। এই অনুষ্ঠান সফল করতে ঢাকা থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন রূপসী বাংলা’র নির্বাহী সম্পাদক মবিন খান।

ঢাকায় বাংলা চ্যানেলের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত

ঢাকায় বাংলা চ্যানেলের অফিসে গত ১৬ জুলাই বাংলা চ্যানেলের দ্বিতীয় বর্ষ পূর্তি ও তৃতীয় বছরে পদার্পণের অনুষ্ঠান হয়েছে। এখানে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কমিউনিকেশন্স স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনা‌থ, বিজিএমইএ’র সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট (অর্থায়ন) মহসিন উদ্দিন আহমেদ নীরু এবং নিউ ইয়র্ক কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার-৩ এবং কমিউনিটি এ্যাক্টিভিস্ট ফাহাদ সোলায়মান। অনুষ্ঠানে বাংলা চ্যানেলের প্রেসিডেন্ট শাহ্‌ জে. চৌধুরী টেলিফোনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, গত বছরে করোনা মহামারীর ফলে ঢাকায় বাংলা চ্যানেলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপনের যে পরিকল্পনা ছিল, সেটি বাস্তবায়ন করা যায় নি। এ বছরেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। একদম শেষ সময়ে ঈদকে সামনে রেখে লকডাউনে যে শিথিলতা আরোপ করা হলো, তখন প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি চলছিল। ফলে শিথিল পরিস্থিতি কেমন হবে সেটি বোঝা যায়নি। সে কারণে উদযাপন পরিকল্পনা বাংলা চ্যানেলের পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার প্রেসক্লাবে বাংলা চ্যানেলের উদযাপন অনুষ্ঠান হয়েছে।


সর্বশেষ সংবাদ

দেশ-বিদেশের টাটকা খবর আর অন্যান্য সংবাদপত্র পড়তে হলে CBNA24.com

সুন্দর সুন্দর ভিডিও দেখতে হলে প্লিজ আমাদের চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

আমাদের ফেসবুক পেজ   https://www.facebook.com/deshdiganta.cbna24 লাইক দিন এবং অভিমত জানান

সংবাদটি শেয়ার করুন