দেশের সংবাদ ফিচার্ড

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় : কার কী সাজা দেয়া হলো

abu-sayed

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক দুই পুলিশকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে অন্য আসামিদের।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন-বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

 

কার কী সাজা দেয়া হলো-

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ জন

মো. আমির হোসেন, সাবেক এএসআই (সশস্ত্র)/১৭৪ আরপিএমপি রংপুর। সুজন চন্দ্র রায়, সাবেক কনস্টেবল/১১৭৫ আরপিএমপি, রংপুর।

 

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ১০ বছরের সাজা হয়েছে ৩ জন আসামির

১)আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার, কোতোয়ালী জোন, আরপিএমপি, রংপুর। ২) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র), সাবেক অফিসার ইনচার্জ, তাজহাট থানা, আরপিএমপি, রংপুর। ৩)বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব, এসআই (নিরস্ত্র), সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, আরপিএমপি, রংপুর।

 

১০ বছরের সাজা হয়েছে ৫ জন আসামির

১)ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, সাবেক ভিসি, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ২) মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, সাবেক পুলিশ কমিশনার, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, রংপুর। ৩) মশিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক, গণিত বিভাগ, বেরোবি।
৪) আসাদুজ্জামান মন্ডল ওরফে আসাদ, সহযোগী অধ্যাপক, লোক প্রশাসন বিভাগ, বেরোবি।
রংপুর। ৫) পোমেল বড়ুয়া, ছাত্রলীগ সভাপতি, বেরোবি ছাত্রলীগ।

 

৫ বছরের সাজা হয়েছে ৮ জনের

১) আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার, আরপিএমপি, রংপুর।
২) শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, আরপিএমপি, রংপুর।
৩) রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার, বেরোবি, রংপুর। ৪) এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ ওরফে দিশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বেরোবি ছাত্রলীগ।
৫) মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বেরোবি ছাত্রলীগ।
৬) মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, বেরোবি, রংপুর।
৭) ডা. সারোয়ার হোসেন ওরফে চন্দন, সভাপতি, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, রংপুর।
৮) শরীফুল ইসলাম, সাবেক প্রক্টর, বেরোবি, রংপুর।

 

৩ বছরের সাজা হয়েছে ১১ জন আসামির

১) হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, সহকারী রেজিষ্ট্রার, বেরোবি। ২) মনিরুজ্জামান পলাশ, সেকশন অফিসার, বেরোবি। ৩) মাহাফুজুর রহমান শামীম, সাধারণ সম্পাদক, বেরোবি ছাত্রলীগ। ৪) ফজলে রাব্বী ওরফে গ্লোরিয়াস ফজলে রাব্বী, সহ-সভাপতি, বেরোবি ছাত্রলীগ।
৫) আখতার হোসেন, সহসভাপতি, বেরোবি ছাত্রলীগ। ৬) সেজান আহম্মেদ ওরফে আরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক, বেরোবি ছাত্রলীগ।
৭) ধনঞ্জয় কুমার ওরফে টগর, সাংগঠনিক সম্পাদক, বেরোবি ছাত্রলীগ। ৮) বাবুল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক, বেরোবি ছাত্রলীগ। ৯) মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল, এমএলএসএস, বেরোবি, রংপুর।
১০) নূর আলম মিয়া, সিকিউরিটি গার্ড, বেরোবি, রংপুর। ১১) একেএম আমির হোসেন ওরফে আমু, এমএলএসএস, বেরোবি, রংপুর।

এদিকে, আনোয়ার পারভেজ ওরফে আপেল, প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী, বেরোবি, তারা যতদিন কারাগারে ছিলেন ততোদিনই সাজা দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ তিনি এখন কারামুক্তি লাভ করবেন।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ।

সেদিন দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদকে পুলিশের গুলি করার ভিডিও সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হলে ছাত্র-জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। পরদিন থেকে সারা দেশে ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সূত্র: মানবজমিন

এফএইচ/বিডি


CBNA24  রকমারি সংবাদের সমাহার দেখতে হলে
আমাদের ফেসবুক পেজে ভিজিট করতে ক্লিক করুন।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করতে পোস্ট করুন।

সংবাদটি শেয়ার করুন