ফিচার্ড মত-মতান্তর

ডলি বেগম – প্রথম বাংলাদেশী-কানাডিয়ান ফেডারেল এমপি নির্বাচিত ।।।  খলিল রহমান

ডলি বেগম – প্রথম বাংলাদেশী-কানাডিয়ান ফেডারেল এমপি নির্বাচিত ।।।  খলিল রহমান

আন্তরিক অভিনন্দন।

বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে সকালে একটি ভাল খবর দেখে মনটা ভরে গেল। আমি খবরটি কানাডিয়ান মিডিয়ায় সকাল থেকেই লাইভ দেখছিলাম।

কানাডায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমি বহু বাংলাদেশি–কানাডিয়ানকে ফেডারেল রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করেছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এতদিন লিবারেল, কনজারভেটিভ কিংবা এনডিপি – কোনো দল থেকেই কেউ সংসদে নির্বাচিত হতে পারেননি। সে সময় অন্টারিও প্রাদেশিক সংসদে একমাত্র বাংলাদেশি–কানাডিয়ান এমপিপি ছিলেন ডলি বেগম।

ডলি বেগমের সঙ্গে বিভিন্ন ফোরাম ও অনুষ্ঠানে আমার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। টরোন্টোর শহীদ মিনার উদ্বোধন, অন্টারিও পার্লামেন্টে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে। সেই অনুষ্ঠানের শেষে ওন্টারিও সংসদের অধিবেশনে এনডিপির উপনেতা হিসেবে তিনি আমাকে পরিচয়ও করিয়ে দিয়েছিলেন। এছাড়াও, ঢাকা–টরন্টো বিমানের উদ্বোধনী ফ্লাইট উদ্‌যাপন বহু অনুষ্ঠানে আমরা একসঙ্গে উপস্হিত ছিলাম। তাঁকে আমি সবসময়ই স্নেহভরে “আমাদের নিজস্ব বোন” বলে সম্বোধন করতাম।

নবনির্বাচিত এমপি ডলি বেগমের সঙ্গে কানাডার সাবেক বাংলাদেশের হাই কমিশনার খলিল রহমান। ছবিঃ সংগৃহিত

ডলি বেগম গত ৮ বছর যাবৎ অন্টারিও পার্লামেন্টে এনডিপির এমপিপি হিসেবে সর্বশেষ প্রাদেশিক সংসদে ডেপুটি নেতা ছিলেন। মার্ক কার্নি কানাডার প্রধানমন্ত্রী হবার পর এবছরের প্রথমে এনডিপি ত‍্যগ করে ক্ষমতাশীন লিবারেল পার্টিতে যোগ দেন এবং উপনির্বাচনে আজ টরোন্টের দক্ষিন-পশ্চিম স্কাররবোরো আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হলেন। তাঁর জয়ের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে লিবারেল পার্টি কানাডার সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতাও অর্জন করলো। এতদিন তিনি একটি সংখ্যালঘু সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন।

আজ আমার মনে পড়ছে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে অটোয়া হাইকমিশনে আজকের প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারিনার সঙ্গে হওয়া এক আমার শেষ আলোচনার কথা। সে সময় তিনি ব্রুকফিল্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করতে মিশনে এসেছিলেন। এর আগেও তাঁর সাথে এবিষয়ে একাধিকবার মিটিং হয়েছিল। আনুষ্ঠানিক আলোচনার পর আমি তাঁকে লিবারেল পার্টিতে তাঁর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছিলেন, “You never know”.

এরপর আমি আরেকটি প্রশ্ন করেছিলাম – কানাডার ফেডারেল সংসদে এখনো কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি নেই এবং এ বিষয়ে লিবারেল পার্টি কীভাবে বাংলাদেশি–কানাডিয়ানদের উৎসাহিত করছে। তিনি বলেছিলেন, কয়েকজন বাংলাদেশি–কানাডিয়ান প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছিলেন, কিন্তু কেউই নির্বাচিত হতে পারেননি। আমি যখন উল্লেখ করি যে অন্টারিও সংসদে আমাদের একমাত্র এমপিপি হলেন ডলি বেগম, তখন তিনি দ্রুত বলেন – ডলি একজন সম্ভাবনাময় প্রার্থী, তবে সে সময় তিনি লিবারেল পার্টিতে ছিলেন না; তাছাড়া তিনি তখনকার অভিজ্ঞ লিবারেল নেতা ও কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জনাব বিল ব্লেয়ারের একই আসনের প্রতিনিধি ছিলেন।

আজ মনে হচ্ছে, সেই আলোচনারই বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ডলি বেগমকে এনডিপি থেকে লিবারেল পার্টিতে যোগ দিতে উৎসাহিত করে তাঁর নিজস্ব টরোন্টের দক্ষিণ-পশ্চিম স্কারবরো আসন থেকেই তাঁকে প্রার্থী করেছিলেন এবং আজ তিনি এমপি নির্বাচিত হলেন।

আমি যেভাবে ডলি বেগমকে দেখেছি এবং তাঁর ভিতর নেতৃত্বের যেসমস্ত অসাধারণ গুনাবলী প্রত‍্যক্ষ করেছি – আমার দৃঢ় বিশ্বাস তিনি প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির মন্ত্রীসভায় স্হান পাবেন এবং প্রথম বাংলাদেশী- কানাডিয়ান ফেডারেল মন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশ-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

ডলি বেগমের সর্বাত্মক সাফল্য কামনা করি।

এসএস/সিএ
সংবাদটি শেয়ার করুন