কানাডার সংবাদ ফিচার্ড

ইতিহাস গড়ে কানাডার প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফেডারেল এমপি তানভীর শাহনওয়াজ

ইতিহাস গড়ে কানাডার প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফেডারেল এমপি তানভীর শাহনওয়াজ । বিচেস–ইস্ট ইয়র্ক উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়

সিবিএনএ নিউজ ডেস্ক।। কানাডার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ তানভীর শাহনওয়াজ। টরন্টোর বিচেস–ইস্ট ইয়র্ক আসনের ফেডারেল উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে তিনি কানাডার পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

সোমবার, ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে লিবারেল পার্টির প্রার্থী তানভীর শাহনওয়াজ পেয়েছেন ১৮ হাজার ৩৬১ ভোট, যা মোট বৈধ ভোটের ৫৫ দশমিক ৭ শতাংশ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির শ্যানন ডিভাইন পেয়েছেন ৮ হাজার ৫১২ ভোট বা ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ। কনজারভেটিভ প্রার্থী জিম সিরবোস পেয়েছেন ৫ হাজার ১১৬ ভোট বা ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৯ হাজার ৮৪৯ ভোট বেশি পেয়ে তানভীর জয়লাভ করেছেন।

প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফেডারেল এমপি

তানভীর শাহনওয়াজের বিজয় কানাডার বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ গৌরবের। তিনি কানাডার ফেডারেল পার্লামেন্টে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি।

এর আগে ডলি বেগম ২০১৮ সালে অন্টারিও প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য বা এমপিপি নির্বাচিত হয়ে কানাডায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের মধ্যে প্রথম নির্বাচিত আইনপ্রণেতা হওয়ার ইতিহাস গড়েছিলেন। সেই হিসাবে তানভীর দেশটিতে নির্বাচিত দ্বিতীয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইনপ্রণেতা হলেও ফেডারেল পর্যায়ে তিনিই প্রথম।

কানাডায় জন্ম, বেড়ে ওঠা বিচেস–ইস্ট ইয়র্কে

৩০ বছর বয়সী তানভীর শাহনওয়াজ টরন্টোর ইস্ট জেনারেল হাসপাতালে—বর্তমানে যার নাম মাইকেল গ্যারন হাসপাতাল—জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের বছরেই বাবা-মা ও ভাই বাংলাদেশ থেকে কানাডায় অভিবাসী হন। তাঁর বাবা শেখ শাহনওয়াজ এবং মা নওয়াজিশ শাহনওয়াজ। পরিবারসহ তিনি ক্রিসেন্ট টাউনে বেড়ে ওঠেন এবং এখনো ওই এলাকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

বিজয়ের পর তানভীর বলেন, যে এলাকাটি তাঁর জীবনের একমাত্র পরিচিত ঠিকানা, সেই বিচেস–ইস্ট ইয়র্কের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।

রাজনীতিবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা ও জনসেবার অভিজ্ঞতা

তানভীর টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রায় এক দশক ধরে তিনি বিচেস–ইস্ট ইয়র্কের সাবেক লিবারেল এমপি ন্যাথানিয়েল ‘নেট’ এরস্কিন-স্মিথের সঙ্গে কাজ করেছেন। প্রথমে সহকারী এবং পরে এমপির নির্বাচনী এলাকার কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরস্কিন-স্মিথ আবাসনমন্ত্রী থাকাকালে তানভীর তাঁর বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন।

এসব দায়িত্বে থেকে তিনি এলাকার বাসিন্দাদের বিভিন্ন ফেডারেল কর্মসূচি ও সরকারি সেবা পেতে সহায়তা করেন। স্থানীয় সংগঠনগুলোর জন্য সরকারি অর্থায়ন সংগ্রহ এবং টরন্টোসহ কানাডার বিভিন্ন আবাসন ও অবকাঠামো প্রকল্প এগিয়ে নিতেও কাজ করেন।

সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম

তানভীর শাহনওয়াজ শুধু রাজনৈতিক কর্মী নন, স্থানীয় পর্যায়ে একজন পরিচিত সমাজসেবীও। করোনাভাইরাস মহামারির সময় তিনি ইস্ট টরন্টো হেলথ পার্টনার্স এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করে পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ টিকাদান কেন্দ্র স্থাপনে ভূমিকা রাখেন।

ড্যানফোর্থের বন্দুক হামলার পর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ জোরদারের দাবিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সংগঠনের সঙ্গেও কাজ করেন। তিনি টেইলর–ম্যাসি অ্যান্ড ওকরিজ কমিউনিটি রেসপন্স টিমের সহসভাপতি ছিলেন। ক্রিসেন্ট টাউনের সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন এবং কমিউনিটি সেন্টার ও গির্জার মাধ্যমে অসচ্ছল মানুষের মধ্যে খাদ্য বিতরণেও তাঁকে নিয়মিত অংশ নিতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য গৌরবের মুহূর্ত

তানভীর শাহনওয়াজের এই ঐতিহাসিক বিজয় কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ ও অগ্রযাত্রায় নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। কানাডায় জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের মধ্যে তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি ফেডারেল এমপি নির্বাচিত হয়ে দেশটির সর্বোচ্চ আইনসভায় প্রবেশ করলেন।

অভিনন্দন তানভীর শাহনওয়াজ—আপনার এই অর্জন কানাডাপ্রবাসী সমগ্র বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের গর্ব ও নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা। অভিনন্দন তানভীর শাহনওয়াজ।

এসএস/সিএ
সংবাদটি শেয়ার করুন